ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

মা দিবস প্রসঙ্গে

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯

ফাইল ছবি

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম

 

মা, মা, ও মা।
এই নাম ডাকার মাঝে যে মাধুর্য, যে আবেগ, তা এই জগতে আর অন্যকিছুতে মেলে না।

মা গো মা।
মাকে নিয়ে প্রতিটা মানুষের জীবনেই অনেক গল্প রয়েছে। কেউ প্রকাশের সুযোগ পায়, কেউবা পায় না। কিন্তু অপার্থিব ভালোবাসার গল্পগুলো মনের গহিনে ঠিকই যুগযুগান্তর ধরে মালার মতো গেঁথে রয়েছে।

একবার এক সাহাবী হুজুর (সাঃ)কে জিজ্ঞেস করছিলেন পিতা-মাতার গুরুত্ব সম্পর্কে। তখন তিনি সাহাবীকে তিনবারই মায়ের কথা জানিয়েছিলেন। চতুর্থবারের সময় পিতার কথা বলেছিলেন। পাঠক বুঝতেই পারছেন মায়ের মর্যাদা কতখানি।

মা ছাড়া সন্তানদের জন্য, পৃথিবীই যে অন্ধকার।

বছরের নির্দিষ্ট একটা দিনে মানে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বেশ ঘটা করে আন্তর্জাতিকভাবে মা দিবস পালন করা হয়। মাকে ভালোবাসতে নির্দিষ্ট কোন দিন তারিখ কেন লাগবে! মায়ের জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা বছরের প্রতিটি দিনই। বরং খোঁজ নিলে দেখা যাবে, যেসব দেশে এরকম মধুর সম্পর্কটাকে দিবস কেন্দ্রিক করে তুলেছে, তাদের দেশেই রয়েছে অধিক বৃদ্ধাশ্রম।

মাকে নিয়ে যুগে যুগে অনেক গীতি, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ বড়বড় লেখকদের মনের ভাষা- কাগজে কলমে প্রকাশিত হয়ে আসছে। তেমনি আমার মাকে নিয়েও আমার অনেক গল্প রয়েছে।

আমার মা মাহমুদা সুলতানার জন্যই আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি।
পড়ালেখায় তেমন আগ্রহী ছিলাম না আমি। এসএসসি পরীক্ষা এলো।
মা আমার রাত জেগে পাশে বসে থাকতেন। আর বুঝাতেন বাবা তুই অন্তত মেট্রিকটা পাস কর। তা না হলে যে আমি কোন আত্মীয়স্বজনদের কাছে মুখ দেখাতে পারব না। তুই বাবা মন দিয়ে পড়।

কথাগুলো আমার মনের ভিতর বেশ আঁচড় কাটল। আমি মায়ের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য কিছুটা আগ্রহী হলাম।

মেধাশক্তি খুব একটা খারাপ ছিল না আমার। যে কারণে এসএসসিতে উতরে যাই।
আরো অনেক গল্পের ভিড়ে যা না বললেই নয়, আমি যে দুর্গম পাহাড়, জঙ্গলে ভ্রমণ করি সেখানেও রয়েছে আমার মায়ের দো'আ। আমার আব্বা রাগারাগি করলে আমার মা তখন বলে তুমি দো'আ করো ওরে। আমার জাভেদ ঠিকই পাহাড় পর্বত জয় করে আসবে ইনশাআল্লাহ।

জগতের সব মা'ই তার সন্তানকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন। কিন্তু আমার মা যেন একটু বেশিই বেশি ভালোবাসেন আমাকে।

আজ এমন একটা সময় এসে মা দিবস উপলক্ষে লিখলাম, যখন মাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসার কারণে আমার স্ত্রী রাগ, অভিমান করে বাপের বাড়ি চলে গেছে।

মিথ্যা অপবাদ, অভিযোগ দিয়ে শ্বাশুড়ী আমাকে গত ১৯ এপ্রিল থানা হাজতে পর্যন্ত ঢুকিয়েছিল। তবু পারেনি আমাকে মায়ের ভালোবাসা হতে বিচ্যুত করতে। জেলের ভয় পারেনি আমাকে নির্বোধ করতে। আমি হুংকার ছেড়ে বলেছিলাম, আমার মা আমার কাছে সবার আগে। প্রয়োজনে জেল খাটব তবু আপনাদের হীন মনোবাসনা পূর্ণ হবে না।

ওসি সাহেবকে জানিয়ে দিলাম, একে নিয়ে আর সংসার করা হবে না আমার। আমার নামে মামলা দিলেও তা আর হবার নয়।

সেদিন মায়ের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসাই থানা হাজত থেকে মুক্ত হতে সহায়ক হয়েছিল ।

আজকালকার অনেক স্ত্রীই বুঝতে চায় না, এই মানুষটি মানে আমার স্বামী এলো কোথা হতে। কে তাকে এতটা বছর লালন পালন করল। আর আমি কিনা এসেই নিজের বলে দাবি করছি। তার সব ভালোমন্দ আমিই ভালো বুঝি। তার মা কিছুই বোঝে না!

আসলে এসবই পারিবারিক শিক্ষার অভাব আর হিংসুটে মানসিকতার প্রতিফলন। কথায় আছে না, হিংসা মানুষকে অন্ধ করে তোলে।

জগতের প্রতিটা সন্তানই হোক মায়ের দো'আ ও ভালোবাসার।

 

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ।


oranjee