ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

আপনি আমাদের থরে থরে ফুটে থাকা আগুনরঙা লাল কৃষ্ণচূড়া

প্রতীক ইজাজ ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৯

বাসায় ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি) অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (ভল্যুউম-১: ১৯৪৮-১৯৫০)’ বইটা আছে। সম্পাদনা করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাঝে মধ্যে পড়ি। নাড়িচাড়ি। দেখি। গন্ধ নেই। হাত বুলাই। পৃষ্ঠা উল্টায়। আর নিবিষ্ট মনে প্রচ্ছদে সাদাকালোয় জলদগম্ভির বঙ্গবন্ধুর ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকি।

আমার কাছে বঙ্গবন্ধু একটা বিরাট শক্তি। নিপীড়নে নিযাতনে নিষ্পেষিত মানুষের জেগে ওঠার জীবনশক্তি তিনি। প্রগতির লালঝান্ডা। ব্যক্তি রাজনীতিক কিংবা দর্শন- যেদিক থেকেই দেখি না কেন, তাকে অস্বীকার করার সাধ্য আমাদের নেই।

বঙ্গবন্ধুর ধীশক্তি ও রাজনৈতিক দূরদর্শীতা আমাদের অবাক করে। পশ্চিম পাকিস্তানের নিপীড়ন থেকে মুক্তির একমাত্র পথ স্বাধীনতা- এই উপলব্ধি একটা বড় রাজনৈতিকদর্শন তার । তিনি তো দার্শনিকই। কেননা যে মানুষের জন্য স্বাধীনতা মুক্তি, সেই মানুষকে তো আর ডাকলেই পথে নামবে না; নামাতে হবে; উজ্জীবিত করতে হবে। তাই টানা ২৩ টা বছর বাংলার মানুষকে বোঝালেন তিনি। চষে বেড়ালেন অলিগলি, গ্রামগঞ্জ, গোটা দেশ। তার প্রতি বিশ্বাস আনালেন। বঙ্গবন্ধু বুঝতেন গ্রামের অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত সাদাসিধা মানুষ থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী কুটিল শ্রেণি, সর্বপরি সার্বজনিন মানুষকে এককাতারে আনতে হবে; স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করতে হবে।

মানুষকে বোঝালেন বৈষম্য নিপীড়নের নানাদিক বৈশিষ্ট্য। সামরিক বাহিনীসহ সরকারি চাকুরিতে চরম নিয়োগ বৈষম্য; নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যে দুই পাকিস্তানের মধ্যে পার্থক্য; পূর্ব বাংলায় বিভিন্ন পণ্যে অযাচিত কর আরোপ; বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি; রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে পূর্ব বাংলাকে অবহেলিত রাখা। ঘর থেকে বাহির, সমাজ রাজনীতি খেলার মাঠ, পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর সীমাহীন বৈষম্যমূলক আচরণ তুলে ধরলেন পরিস্কার ছবির মতো।

সর্বমহলে পৌঁছে গেলেন বঙ্গবন্ধু। তার মুক্তির মন্ত্র উচ্চারিত হতে থাকলো জনে জনে। মুষ্টিবদ্ধ হলো হাত। যুথবদ্ধ হলো মানুষ। গড়ে উঠলো আইয়ুব বিরোধী তিব্র গণআন্দোলন। ৬ দফা আন্দোলন থেকে ৭০’র নির্বাচন- মাঝখানে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান; মানুষ তখন তৈরি স্বাধীনতার জন্য। এবার ফুঁসে উঠলো চুড়ান্ত মুক্তির লক্ষ্যে। একাত্তরে শুরু হলো অসহযোগ আন্দোলন। সবশেষে মুক্তিযুদ্ধ। এলো আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতা।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের এক অলক্ষ্য অবিনাশী গান। বঙ্গবন্ধু অভয় দিয়েছিলেন বলেই সেদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্র ছাপিয়ে তার সে ভাষণ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশময়, সর্বজনে। তার অকুণ্ঠচিত্তের সেই অমোঘ ডাক স্বাধীনতার মুলমন্ত্র হয়ে বেজেছিল বাঙালির বুকে। বঙ্গবন্ধুকে বুকে রেখেই একাত্তরে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশমাতৃকার মুক্তি সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধু নিপীড়িত মৃত্যুমুখ বাঙালিকে দিয়েছিলেন মুক্তির স্বাদ।

বঙ্গবন্ধু সকালের রোদ্দুর; আগুনরঙা লাল কৃষ্ণচূড়া। কেবল একটি রাষ্ট্রের ত্রানদাতা নন তিনি; কিংবা এই জাতির জনক; বিশ্বজুড়ে মানুষ ও মুক্তির লড়াই, স্বাধীন রাষ্ট্র ও স্বাধীনতার জন্য আত্মাহুতি, জীবনযুদ্ধের সংগ্রাম- সবখানে সব মানুষের তিনি নেতা। এই ভূমি ভূমির লড়াই ছাপিয়ে তিনি এখন রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে জাতিতে জাতিতে মুক্তিকামী মানুষের বুনো হাতিয়ার।

আমরা আপনার মতো একজন নেতা পেয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু; আমরা ভাগ্যবান। আপনি আমাদের মুক্তি না দিলে, স্বাধীনতা না এলে, এখনো হয়তো আমরা পশ্চিম পাকিস্তানের দাস হয়ে থাকতাম। আমরা এখনো পথেঘাটে কুকুরের মতো জীবন যাপন করতাম। আপনি আমাদের রক্ষা করেছেন। এখন আমরা স্বাধীন। গাছে গাছে ফুল ফোটে। গন্ধ ছড়ায়। পাখি ডাকে। আমরা বুক ফুলিয়ে, বাতাসে শীষ কেটে, মাঝরাতে বাড়ি ফিরি। আমরা এখন চিৎকার করে, গলার সবচেয়ে উচু পর্দা থেকে গাইতে পারি সেই কালজয়ী গান- ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।

শুভ জন্মদিন জাতির পিতা
ইউ আর রিয়ালি আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লিডার
স্যালুট ইউ, স্যালুট ইউ, স্যালুট ইউ

১৭ মার্চ রোববার ২০১৯

 


লেখক: সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতিকর্মী


oranjee