ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

বন্ধুর স্মরণে আফজাল হোসেন

তেমন বাঁচা কি বেঁচে ছিল ফরীদি?

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

বামের ছবিতে আফজাল হোসেন ও ডানের ছবিতে হুমায়ুন ফরীদির স্কেচ। ছবি: সংগ্রহ

আজ তার চলে যাওয়ার দিন। চলে যাওয়াটা দুঃখের, কষ্টের। বুকে বুকে দিনটা দীর্ঘশ্বাসের ভার জমিয়ে দেবে।

আমার মনে দীর্ঘশ্বাস জমতে এলে টানাহেঁচড়ায় পড়ে যাই। ওর চলে যাওয়াটা বেদনার নাকি অনেক বেশি বেদনার ছিল বেঁচে থাকাটা?

একজন অভিনেতার বেঁচে থাকা আর দশটা সাধারনের বেঁচে থাকার মত নয়। অভিনেতা বেঁচে থাকতে চায় তার প্রেমে, সৃজনশীলতায়। কর্মে, সাধনায় বেঁচে থাকাই তার বিবেচনায় বেঁচে থাকা। তেমন বাঁচা কি বেঁচে ছিল ফরীদি? বছর কুড়ি আগে মঞ্চ টেলিভিশনে যে দাপট দেখিয়েছে- সে বিবেচনাতেই মানুষটা অসাধারণ এবং সকলের প্রিয় অভিনেতা। আমাদের ভেবে দেখা হয় না, পরের দীর্ঘকালটা কেমন কেটেছে তার।

সে ছিল অভিনয়ে নিবেদিত প্রাণ। অভিনয় ছাড়া আর কিছুই করবে না এমন সিদ্ধান্তে ছিল অটল। সে সিদ্ধান্ত টিকিয়ে রাখতে মরার আগেই কি তাকে মরণ স্বীকার করতে হয়নি?

আমরা দেখেই চলেছি, দেশের অসংখ্য শিল্পী তাঁদের সামর্থের খানিকটা অংশ কেবল নিবেদন করতে পারেন। তারপর টের পেতে হয় অগ্রসর হওয়ার সকল পথ রুদ্ধ।

সময় গড়িয়ে যায়, মানুষের জন্য আসে অগ্রগতি, সমৃদ্ধি। নিয়ম তেমন হলেও আমাদের বেলায় ঘটে চলেছে তার উল্টো। অর্থের আশা অহরহ ঘটিয়ে চলেছে অনর্থ। অর্থপূর্ণ কিছু করতে চাওয়ার সাধ নিরন্তর খাবে হোঁচট।তারপরও ভাবছি, ভাবতে পারি- সবকিছু চলছে চমৎকার।

সম্পন্ন মানুষেরা অসম্পূর্নতা নিয়ে একে একে বিদায় নিচ্ছে। প্রথামত শোক করছি। মরে যাওয়া এমন মানুষগুলো প্রত্যেকেই যে বেঁচে থেকেও মৃত ছিল- তা ই শোকের, দুঃখের, হতাশার।

ফরীদি, তোর মৃত্যুতে শোক করি না। তোকে দুস্থ পরিচয় ছোঁয়ার সুযোগ পায়নি। বেঁচে থাকলে একদিন খবরের কাগজে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন নিবেদন দেখতে হতো।
মরে গিয়ে বেঁচে গেছিস তুই। ওখানে নিশ্চয়ই ভালো আছিস। এখানে আমাদের ভালোবাসার মধ্যে সন্মানের সাথেই চিরকাল বেঁচে থাকবি।

 

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

আফজাল হোসেনের পোস্ট

এসএনএ


oranjee