ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

কোলবালিশ সমাচার

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন : কেউ বলে তাকিয়া, কেউ বলে পাশবালিশ, তবে বেশির ভাগ লোকে একে ‘কোলবালিশ’ বলেই ডাকে। যে যাই বলুক মানবকূলের চিরন্তন দুর্বলতা লুকিয়ে আছে এখানেই। দুঃখের বিষয় হলো আজও এর লিঙ্গ নির্ধারণ হলো না। শিশুর কাছে সে এক মমতাময়ী, নারী-পুরুষের কাছে সে বিপরীতধর্মী একসত্ত্বা। রোগীর কাছে সেবিকা আর প্রমোদপিয়াসীর কাছে সে এক প্রেয়সী ললনা।

প্রাণহীনা অস্তিত্বের নরম পরশে কতজনের প্রাণসঞ্চার করে মানবসেবাই নিজেকে বিলীন করেছে, সে আর বলতে! জন্ম থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত যার নরম ছোঁয়ায় নির্ঘুম রজনী হয়ে উঠে প্রশান্তিময় সে আর কেও নয়, একমাত্র একটি নিথর প্রাণহীন বস্তুই আপনার পাশে থাকে যার নাম ‘কোলবালিশ’। জন্মের পর আপনি যখন মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তখন একমাত্র এই বস্তুটিই কিছুটা হলেও মায়ের অভাব থেকে আপনাকে ভুলিয়ে রাখবে, সাহায্য করবে আপনার শান্তিময় ঘুমের সঙ্গীসাথী হতে। নিজে ধুমরে-মুচড়ে গেলেও একটুর জন্যও নড়বে না, পিছে না আবার আপনার ঘুম ভেঙ্গে যায় সেই ভয়ে। ঘুমের মধ্যে কতইনা ভিজিয়েছেন তার ইয়ত্ত্বা নেই, তবুও নেই কোন অভিমান-নেই কোন অভিযোগ ঠিক যেন মায়ের মতো। একটু বড় হয়েছেন, তো কি হয়েছে? উনি কিন্তু আপনার পিছু ছাড়বে না। মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর যে অভ্যেস করেছেন সেটিকে ভুলিয়ে রাখবে একমাত্র উনিই।

একাকিত্বের একমাত্র সঙ্গী-আপনার সুখ-দুঃখের সাথী সে আর কেও নয়, এখানেও পাশে পাবেন ‘কোলবালিশ’। প্রাণের প্রাণ, আত্মার আত্মীয়, বন্ধুকূলের কটু-কথায় প্রাণ আপনার অতিষ্ঠ! মনের কষ্ট না পারছেন কাউকে বলতে, না পারছেন কারও কাছে যেতে। ঠিক তখনই আপনার বুকে আঁছড়ে পড়ে আপনারি চোখের জলে বুক ভাসিয়ে সান্ত্বনার পরশে আঁকড়ে ধরে রাখবে যতক্ষণ না আপনার কষ্ট বিলীন হয়। রোগীর শয্যাপাশে ক্লান্ত সেবিকা অপরাগতা প্রকাশ করলেও সে কিন্তু ঠিকই কষ্টের ভাগিদার হয়ে পাশেই সর্বক্ষণ!

ছলাৎ ছলাৎ চাপা সুখের অধরা স্পর্শের ছোঁয়া, যে সুখ প্রকাশ করতে মানা চুপিসারে পাশে পাবেন সে এক স্বপ্নছোঁয়া। বলা-না-বলা কথার ফুলছড়ির নিরব শ্রোতা, সুখ-দুঃখের স্বপ্নগাথায় রাজসাক্ষীর কাঠগড়ায়। প্রমোদপেয়াসীর সুরা পানের সঙ্গী ঘুঙ্গুর ঘুঙ্গুর শব্দের তালে সুখ-ছোঁয়ার দৃশ্য নাটক-সিনেমায় সবার নজরে আসলেও বাস্তব জীবনে রানীর অভাব পূরণে বিন্দু পরিমান কার্পণ্য করেনি। দাম্পত্য জীবনের স্বামী-স্ত্রীর মান-অভিমানের মধ্যস্থাকারীর ভূমিকায় আর কেউ পাশে না থাকলেও উনি কিন্তু এড়িয়ে যেতে পারেন না! ভোরের আলো ফুটার আগ পর্যন্ত রেফারির ভূমিকা পালন করেন। ভোরের খেয়ালী আয়েশে হেলান দিয়ে এক হাতে রোজকার পত্রিকা আর অন্য হাতে গরম চায়ের পেয়ালা, ওহ-সে এক স্বর্গ-সুখের সঙ্গী।

সুখ-দুঃখ আর মান-অভিমান যেখানেই চাইবেন সব সময় পাশেই পাবেন, শিশু থেকে বার্ধক্যে মানুষে-মানুষে বদল ঘটে কিন্তু উষ্ণতার সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে ‘কোলবালিশ’-এর সাথে।

এমআইইউ/এমএস


oranjee