ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

তবেই বুঝব কত ধানে কত চাল!

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯

গোলাম কিবরিয়া

গোলাম কিবরিয়া : একজন ভদ্র শিক্ষিত নারীকে কোন কারণ ছাড়াই শুধু সন্দেহের বশে ৪০০/৫০০ উন্মাদ লোক পিটিয়ে মেরে ফেলে আর আশপাশের কেউ ভিডিও করে বা কেউ কেউ এই গণপিটুনিতে শামিল হয়। ভাবা যায়, আমরা কি সাইকোর দেশে বাস করছি!

তাসলিমা ইডেন কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন । পরে তিনি সরকারী তিতুমীর কলেজে স্নাতকোত্তর করেন। বিয়ের পর তিনি আড়ং ও ব্রাকে চাকরি করেন। কাল তিনি গিয়েছিলেন উত্তর পূর্ব বাড্ডায় উনার মেয়ে তাসনিমাকে ভর্তি করাতে। কালো বোরকা আর মাথায় ওড়নাই উনার কাল হলো। পর্দানশীল নারীও মানুষের চোখে নিরাপদ নয় এখন দেখা যাচ্ছে।

উনি নাকি একবার বলেছেন উনার বাড়ি বাড্ডার আলীগড়ে আবার বলেছেব মহাখালী এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে অতি উৎসাহী কয়েকজন গার্জিয়ান উনাকে প্রধান শিক্ষিকার কাছে নিয়ে যান। ততক্ষণে রটে গেছে পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা ব্যবহারের জন্য ছেলে ধরতে আসা একজনকে আটক করা হয়েছে। এই কথা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইরে থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসে । তারা স্কুলের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে মারধর করতে করতে তসলিমাকে বের করে এনে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এই পিটাপিটিতে অংশ গ্রহণ করে কয়েকজন অতি উৎসাহী ও মাথা মোটা নারীও।

মুঠোফোনে ধারণ করা ৬ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চুলের মুঠি ধরে এক নারীর মাথা স্কুলের দেয়ালে ঠুকছেন কয়েকজন তরুণ। তিনি অচেতন হয়ে পড়ে যান, তখন তাকে উপর্যুপরি লাথি ও ঘুষি মারা হয়। তখন স্কুল চত্বরে কয়েক’শ লোক। সবাই ঘটনাটি দেখছিলেন। কেউ কেউ তাদের মার মার বলে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। কেউ কেউ সেই বর্বরতার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন!

ভাবা যায় আমরা কি পৈশাচিক যুগে বাস করছি, আবার আমরা ফিরে গেছি বর্বরতার যুগে। আমি শুধু ভাবি এই মহিলার জায়গায় আমি হতাম ,আপনি হতেন, আপনার বউ হত, বোন হত, মা হত ভেবেছেন একবার কি নিরাপত্তাহীন সমাজে বাস করছি?

ভাবতেই আমি শিউরে উঠছি কি অসহনীয়, পীড়াদায়ক, করুণ মৃত্যু! আমার শত্রুও যেন এমন মৃত্যুর মুখোমুখি না হয়! ঈশ্বর তুমি সবাইকে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দেও।

আশ্চর্য্য যে একজন ধর্ষককে আজ পর্যন্ত পিটিয়ে মারতে পারল না কতিপয় যুবক এবং পুরুষ তখন তাদের রক্ত বরফের মতো শীতল থাকে টগবগ করে ফুটে না। কারণ ধর্ষক তো পুরুষ কোন নারী নয়! ধর্ষক যদি নারী হতো তাহলে চোখের সামনে দৃশ্যটা পাল্টে যেত!

দেখাও তো কয়েকজন ধর্ষককে পিটিয়ে মেরে ফেলে যে কিনা নিজের কন্যা সন্তানকেও ছাড় দেয় না। অন্য আরেক পুরুষ তিন বছরের শিশুকন্যার যোনীকেও সংগমের জন্য উপযুক্ত মনে করে। এমন কয়েকজনকে মেরে মেরে দেখাও তোমরা পুরুষ নামের কলংক নও, অমানুষ নও, তোমরাও পুরুষ মানুষ!
ধর্ষক মেরে, কেটে, পিষে,থেৎলিয়ে দিয়ে পুরুষ দেখাও তোমাদের বাহাদুরী! তবেই বুঝব কত ধানে কত চাল!

লেখক: অভিনেতা


oranjee