ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

বাবা... তুমি ছিলে, আছো, থাকবে তোমার সৃষ্টির মাধ্যমে!

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

দীলিপ বিশ্বাস। ফাইল ছবি

দেশের চলচ্চিত্রে উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম চলচ্চিত্রকার দিলীপ বিশ্বাস। তিনি সেলুলয়েডের কিংবদন্তিও। তার হাত ধরে বাংলা ছবি পেয়েছে দারুণ নান্দনিকতা। অনেকে শুধুমাত্র চিত্রপরিচালক হিসেবে জানলেও তিনি ছিলেন একাধারে পরিচালক, প্রযোজক, কাহিনিকার, অভিনেতা ও গায়ক। আজ এই চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্বের প্রয়াণ দিবস। ২০০৬ সালের ১২ জুলাই তিনি আর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে ছেলে দেবাশীষ বিশ্বাস বাবাকে স্মরণ করে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তা পাঠকের জন্য তুলো ধরা হলো-

দেবাশীষ বিশ্বাস: শুরু করেছিলেন একজন প্যারোডি গায়ক হিসেবে! পেলেন অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা! ১৯৬৪ সালে বের হলো তার গানের লং প্লে ডিস্ক! কিন্তু মন পড়েছিলো সিনেমায়! সুযোগ আসলো! বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান এর হাত ধরে 'বেহুলা' চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের মাধ্যমে সিনেমা জগতে ঘটলো অনুপ্রবেশ! চলতে থাকলো একের পর এক প্লেব্যাক! এরপর বহু সংখ্যক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও পান সুখ্যাতি... যার মধ্যে 'হাবুর বিয়ে', 'দুই ভাই', 'মোমের আলো', 'সন্তান', 'চেনা অচেনা', 'আনোয়ারা', 'সমাধান', 'জোকার', 'এখনই', 'চাবুক', 'আদর্শ ছাপাখানা', 'বিনিময়', 'সুরুজ মিয়া', 'স্বীকৃতি' অন্যতম! এরমধ্যেই প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে নাম লিখিয়ে ফেলেন জহির রায়হান, মোস্তফা মেহমুদ, বাবুল চৌধুরী প্রমুখদের অধীনে! এরপর শুরু হলো তাঁর চলচ্চিত্র পরিচালনার জয়যাত্রা! সালটা ১৯৭৬! মুক্তি পেল তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'সমাধি'! প্রথম ছবিতেই বাজিমাৎ! ছবি সুপার ডুপার হিট! এরপর একে একে নির্মাণ করেন 'আসামী' (১৯৭৭), 'জিঞ্জির' (১৯৭৭), 'বন্ধু' (১৯৭৮), 'অনুরোধ' (১৯৭৯), 'আনারকলি' (১৯৮০)... যার সব গুলোই হিট অথবা সুপারহিট ! এরপর গড়ে তোলেন তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা 'গীতি চিত্রকথা'! এখান থেকে তিনি পরিচালনা করেন 'দাবী' (১৯৮১), 'অংশীদার' (১৯৮১), 'অপমান' (১৯৮৩), 'অস্বীকার' (১৯৮৫), 'অপেক্ষা' (১৯৮৭), 'অকৃতজ্ঞ' (১৯৯১), 'অজান্তে' (১৯৯৬), 'মায়ের মর্যাদা' (২০০৫) ...যার সবগুলোই ব্যবসাসফল এবং দর্শকনন্দিত! এরমধ্যে 'অপেক্ষা' চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে এবং 'অজান্তে' চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে অর্জন করেন দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার! এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন পশ্চিমবঙ্গে ছবি নির্মাণের! যেই ভাবা সেই কাজ! পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন নির্মাণ ভাবনা, স্টাইল, লগ্নী আর ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে তিনি নির্মাণ করেন 'আমার মা' (১৯৯৮), 'আমাদের সংসার' (২০০০) এবং 'অকৃতজ্ঞ' (২০০৩) নামের তিনটি অসামান্য চলচ্চিত্র! এই চলচ্চিত্রই যার সব, সেই অদম্য দীলিপ বিশ্বাসকে এবার থামিয়ে দিলো নিয়তির অমোঘ বিধান! দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ২০০৬ সালের আজকের এই দিনে (১২ জুলাই) শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি! 'সমাধি' নামক চলচ্চিত্র দিয়ে যার চলচ্চিত্র পরিচালনার অভিষেক, সেই সমাধিতেই থামলো তাঁর বিজয়রথ!

আজ আমার অনেক নাম হয়েছে, কিন্তু আজও আমি গর্ববোধ করি 'দেবাশীষ বিশ্বাস' হিসেবে নয়, 'দীলিপ বিশ্বাস' এর সন্তান হিসেবে!

বাবা... তুমি ছিলে, আছো, থাকবে তোমার সৃষ্টির মাধ্যমে!

ওপারে ভালো থেকো 'বাবা'!!

লেখক: দেবাশীষ বিশ্বাস
এমএস


oranjee