ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

কোম্পানি না নিজেই প্রকাশ করবেন নিজের গান?

শতাব্দী ভব ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০১৯

এইটা হতে পারে এই সময়ের কোটি টাকার প্রশ্ন। সকল তরুণ শিল্পীদেরই এই দ্বিধার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। জ্ঞানীরা বলে থাকেন, আগুনে হাত দিলে পুড়ে কিনা তা দেখার জন্য আগুনে হাত দিতে নেই। অন্যের হাত দেয়া দেখে শিখে নিতে হয়। তারাই বুদ্ধিমান যারা নিজে ভুল করার আগে অন্যের ভুল দেখে শেখে। মূল আলোচনায় ফিরে আসি, কোনটা করবো; গান কি নিজেই প্রকাশ করবো না কোম্পানি থেকে? আমি কেবল নিজের অভিজ্ঞতার থেকে কিছু শেয়ার করছি তরুণদের মধ্যে। দুটো দিকের ভালো-মন্দ তুলে ধরতে চেষ্টা করবো এই লেখায়, সিদ্ধান্ত আপনাদের।

আমরা ভাগ্যবান, যে চাইলে নিজেকে নিজেই প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতে পারি। ইউটিউব, ফেসবুক, আইটিউন, সাউন্ডক্লাউড ইত্যাদি ইত্যাদির মাধ্যমে কোন থার্ডপার্টি ছাড়াই নিজের গান প্রকাশ করা যাবে এবং তার থেকে দু’চার পয়সাও আসবে এটা একটা সময় আমাদের জন্য স্রেফ কষ্টকল্পণা ছিলো। আলোচনার গভীরে নামার আগে, একটা ছোট্ট গল্প বলি। ইউটিউবে ঝড়তোলা একটা ব্যান্ডের প্রধান ভোকালের সাথে কথা হচ্ছিলো কিছুদিন আগে। ও বললো, ‘যে দিন প্রথম কোন এক কম্পোজার বলেছিলো যে তার স্টুডিওতে দেখা করতে গেলেও পাঁচ হাজার টাকা লাগে সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যতোদিন স্টুডিও আমাকে না ডাকছে ততোদিন আর ওমুখো হবো না।’ সে সফল হয়েছে, শুধু স্টুডিও নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় রেকর্ড লেবেলগুলো মোটা সন্মানী দিয়ে এখন তার গান বাজারজাত করে। কথার কথা থেকে এবার কাজের কথায় আসা যাক।

প্রায় সব তরুণ শিল্পীই চান, তার গান একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যানার থেকে আসুক। বেশিরভাগই ভাবেন, মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের কোম্পানি থেকে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। সে নিজে আর কি করতে পারবে। কোম্পানি প্রচার করলে গানটি ব্যাপক জনগোষ্ঠির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। হ্যা, একথা সত্য কোম্পানি চাইলে একটা গানকে বেশ অনেকদূর এগিয়ে নিতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হলো...

প্রথমত, আপনি যখন কোন কোম্পানিতে গান দিবেন, তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ যা হতে পারে তা হলো, গানটির কপিরাইট কোম্পানিকে দিয়ে দিতে হবে। ভবিৎষতে হয়তো এমন দিন আসতে পারে, যখন সেই গানটি আপনি নতুন করে রেকর্ড এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন, হয়তো কোন লাইভ অনুষ্ঠানের পারফর্মটা আপনার প্রকাশ করার ইচ্ছে জাগবে কিন্তু তখন আর করার কিছুই থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, সকল কোম্পানিই সাধারণত নতুন শিল্পীদের থেকে রয়্যালিটি মানে গান থেকে যা আসবে তার ৫০-৫০ ভাগাভাগির চুক্তিতে যায়। এ ক্ষেত্রে শতকরা প্রায় ৯৯% তরুণ শিল্পীই ইহকালেও কোন রয়েলিটি পান না বা দাবিও করতে পারেন না। কারণ রয়েলিটি দাবি করার মতো ভিউ কোন কালেই আপনার ভিডিওতে আসবে না। দশ-পনেরো বা হাজার কোটি ভিউ নিয়েতো আর আপনি রয়েলিটি দাবি করতে পরেন না। তাছাড়া, ওয়েলকামটিউন, জিপি মিউজিক বা এমন থার্ডপাটি বা এ্যাপস বা অডিও, রেডিও ইত্যাদি হাজার মাধ্যমে কিছু কিছু আয় হবে আপনার গান থেকে যার কোন হিসেবই আপনার কাছে কোনদিন আসবে না।

তৃতীয়ত, যতো ভালো গানই হোক না কেন, কোম্পানী শুধুমাত্র আপলোড ব্যতিত কোন প্রচারণাই চালাবে না। যা ভিউ হবে, যতটুকু রেসপন্স পাবেন তা কেবল আপনার একক প্রচেস্টাতেই। দিনশেষে আপনার প্রাপ্তির ঝুলিতে থাকবে একটা মিছে স্বান্তনা, অমুক কোম্পানি থেকে আমার গান প্রকাশ হয়েছে।

দাঁড়ান, দাঁড়ান, গাল দিতে চাচ্ছেন তো? নিশ্চয় প্রশ্ন করবেন, তাহলে এতো এতো গান ঐ একই কোম্পানির থেকে প্রদীপের আলোয় আসছে কি করে? প্রতিদিনতো প্রতিটি রেকর্ড লেবেল থেকে কত কত শিল্পীর নতুন সব গান আসছে, তার কয় ভাগকে দেখেছেন প্রতিষ্ঠিত হতে? ভাইরে, কমপানির মাছদের জন্য কেম্পানি না। ওরা যাদের পিছনে লগ্নি করবে, কেবল তাদেরই তুলে আনবে। আপনাকে-আমাকে নয়। প্রতিষ্ঠিত আপনাকে একার চেস্টাতেই হতে হবে, তারপরই কোম্পানি আপনার পীঠ চুলকাতে আসবে।

আর এমন ওপেন অনলাইন প্লাটফর্ম থাকতে, কারও মুখের দিকে চেয়ে থাকবেন কেন? নিজের সন্তান নিজেই মানুষ করার চেস্টা করুন না। সেই কবিটাটা মনে আছে না? নিজ হাতে গড়া মোর কাচা ঘর খাসা...


oranjee