ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

সোনাগাজীতে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এ কে আজাদ,ফেনী ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীতে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে একমাত্র শিক্ষক দিয়ে চলছে হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ দান করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন কর্মরত ওই শিক্ষক। কাগজে কলমে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও দপ্তরী থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের অভিভাবকেরা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজমান। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে সরকারিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষণা দেয় সরকার। এ ঘোষণা জানার পর চরচান্দিয়া গ্রামের বড় সর্দার বাড়ির সমাজ সেবক হাজী শেখ মোহাম্মদ ওই গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়াতে বিদ্যলয়ের নামে ১২ শতক জমি মুক্ত হস্তে দান করেন। তার দানকৃত জমিতে বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হয় এবং ১০জানুয়ারি ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের সময় মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলেছিল ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর পর থেকেই রহস্যজনক কারণে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল শিক্ষা কার্যক্রম। আগে কর্মরত দুইজন শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হয়। বিগত প্রায় ৫মাস যাবৎ একজন মাত্র শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের শ্রেনি কার্যক্রম। প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত, ৫টি শ্রেণিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৬৯জন। এসব শিক্ষার্থীদের একাই সামাল দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক মো.নিজাম উদ্দিন।

শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ায় ইতোমধ্যে বহু ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে অন্যত্র ভর্তি করিয়েছেন তাদের অভিভাবকেরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. আবুল খায়ের তীব্র ক্ষোভ হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, আমার পিতা হাজী শেখ মোহাম্মদ পিছিয়ে পড়া গ্রামের মানুষদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং তাদেরকে এগিয়ে নিতে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে ১২ শতক জমি দান করলে সরকারিভাবে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু তিনি যে আশায় জমি দান করেছেন সে আশার প্রতিফলন দেখে যেতে পারেননি। একটি মাত্র শিক্ষক দিয়ে নিভু নিভু করে শিক্ষার আলো ছড়ানো হচ্ছে। এ ব্যপারে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে বার বার আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। শিক্ষকদের বদলি করা হলেও নাকি বদলীকৃত শিক্ষক বৃন্দ সে বিদ্যলয়ের কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে অন্যত্র কর্তব্য পালন করেন। এ ব্যপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন জানান, তিনি দপ্তরী কাম প্রধান শিক্ষক হয়ে চরম কষ্টে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম হিমসিম খাচ্ছেন। তিনিও দাবি করেন এই অবহেলিত জনপদের মানুষদের এগিয়ে নিতে হলে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়নের মাধ্যমে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে হবে। তাই তিনি দ্রুত শিক্ষক কমপক্ষে আরো দুইজন শিক্ষক পদায়নের দাবি জানান। এ ব্যপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হিটলারুজ্জামান জানান, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়নের জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে। বিদ্যালয়টি উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত হওয়ায় শিক্ষকেরা বদলি হয়ে ওই বিদ্যলয়ে কর্তব্য পালনে অনীহা প্রকাশ করেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


oranjee