ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

দুর্ভোগে হজযাত্রী, বিদেশগামী ও বিদেশ ফেরতেরা

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৫, ২০১৮

ছবি- সংগ্রহ

রবিবার কর্ম ব্যাস্ততার দিনও রাজধানী ঢাকার পথে ছিল না গণপরিবহন। অথচ সড়কে আজ শিক্ষার্থীদেরকে আগের মতন ট্রাফিক কন্ট্রোল নিতে দেখা যায়নি। তবে নগরের কিছু কিছু জায়গায় শিক্ষার্থীদের কিছু অংশকে রাস্তা ব্লক করে রাখতে দেখা গেছে।

এদিকে পরিবহ্ন মালিক ও শ্রমিকেরা নিজেদের নাম পরিচয় উহ্য রেখে সাংবাদিকদের বলছেন, সড়কে ভাঙচুরের কারণে তারা যানবাহন বের করছেন না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে চেয়েছিল বিএনপি। এটা দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশও পেয়েছে। তাই তারা রাস্তায় গাড়ি বের করতে ভরসা পাচ্ছে না।   

বিএনপি-জামাতের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন করার মতো শক্তি, সাহস ও সক্ষমতা না থাকার জন্যই তারা কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রদের আন্দোলনের ওপর ভর করছে। বিএনপির এখন আর কোনও উপায় নেই। তাই তারা এখন কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করবে, ছাত্রদের আন্দোলনের ওপর ভর করবে। নিজেদের কিছু করার মতো শক্তি, সাহস ও সক্ষমতা তাদের নেই।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবি সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, তাদের সব দাবি প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহণ আইনে রয়েছে। এ আইন হলে সড়ক দুর্ঘটনা যানজটের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এ আইনে পথচারীদের জন্যও বিধান থাকবে।  

অন্যদিকে আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করেছিলেন, নিরাপদ সড়কের জন্যে ছাত্রদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও জামাতে ইসলামির ছাত্রশিবির সচেষ্ট। আমাদের কাছে ছাত্রদল ও শিবিরের কথোপকথনের অডিও রয়েছে। সেখানে ছাত্রদলকে স্কুল ও কলেজের ড্রেস পরে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা গিয়েছে।

অপরদিকে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে রাজধানী ঢাকা-সহ সারাদেশে এবার গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। দেশের অধিকাংশ জেলা ও থানায় অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে মালিক-শ্রমিকরা।

এমন অবস্থায় হজ্ব যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। এছাড়া কলকাতা সফরকারী কয়েক হাজার সাধারণ যাত্রী পেট্রাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল পৌঁছে চরম বিপাকে পড়ছেন। কেননা বেনাপোল থেকে কোনও বাস ছাড়ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বেনাপোলে অবস্থান নিতে হয়েছে সদ্য ভারত ফেরত যাত্রীদের। এ দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে ভারতে যাওয়া আত্মীয়জনকে এ মূহূর্তে দেশে ফিরতে অনেকেই বারণ করে দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বেনাপোলের মতন অন্য যেসব সীমান্ত দিয়ে মানুষের যাতায়াত রয়েছে- সবখানেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বিমানবন্দরগুলোতেও একই অবস্থা প্রায়। দেশে ফেরা যাত্রিদের মনে এক ধরণের আতংক বিরাজ করছে। এছাড়া রেল স্টেশন বা বিমান বন্দর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে সিএনজি, প্রাইভেট কার, প্রাইভেট ট্যাক্সিগুলো যাত্রীদের কাছে দু-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।   

আজ রবিবারেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ ছাত্রদেরকে গুজবে কান না দিয়ে পড়ালেখায় মন দিতে আহবান জানিয়েছেন। দেশের অধিকাংশ মানুষ ফেসবুক থেকে একই অনুরোধ করে যাছে গত তিনদিন ধরে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুত ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দবেন এবং রাস্তায় পরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে। এতে করে যাত্রীদের চলমান দুর্ভোগ কমবে।    


oranjee