ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

ভেঙে যাবে মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি?

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের এই শরিক দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এই দুই শীর্ষ নেতাসহ পার্টির কেন্দ্রের গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিতভাবে ভিন্নমতসহ অভিযোগ তুলে ধরেছেন দলটির পলিটব্যুরোর দুই সদস্য নুরুল হাসান ও ইকবাল কবির জাহিদ।

একইসঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা পোষণ করেছেন দলের সর্বোচ্চ এ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের ১১ সদস্যের মধ্যে আরও দুই সদস্য, যাদের মধ্যে আছেন পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস। চলতি সপ্তাহেই দল থেকে নিজের সদস্য পদ প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দলে উত্থাপিত ‘অভিযোগ ও ভিন্নমত’কে স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

পলিটব্যুরোর সদস্য যশোর জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, ‘কর্মীদের অভিযোগ, সারাদেশে ভিন্নমত সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। বিভিন্ন জেলায় নতুন সদস্য তৈরি করা হচ্ছে। গঠনতন্ত্রের নিয়মকানুন ভঙ্গ করে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মতো গণ সদস্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার অপকৌশল নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী, ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ কাজ সুকৌশলে সম্পাদন করা হয়েছে।’

ভিন্নমত ও অভিযোগ উত্থাপনের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্কার্স পার্টির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সদস্যরা বলছেন, দলের মতাদর্শ, রণনীতি, লেনিনীয় নীতি, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও অভিমতকে উপেক্ষা করছেন ফোরামের শীর্ষ দুই নেতাসহ অধিকাংশ সদস্য। আগামী ২ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ১০তম কংগ্রেস এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে পড়বে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বগুড়া জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের বগুড়ায় পুরনো সদস্য ছিল ১১৩ জন। এবার জেলার সাধারণ সম্পাদক ঘরে বসেই আরও ৪০ জনের ফরম পূরণ করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন এবং এটা গৃহীতও হয়েছে। এভাবে রাজশাহীতে যেখানে ২০০ সদস্য, সেখানে নতুন করে ১ হাজার ১০০ সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। বগুড়ায় যাদের সদস্য করা হয়েছে, তাদের কখনও দলীয় কর্মসূচিতে দেখিনি। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে পার্টি ভেঙেই যাবে।’

এ বিষয়ে পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘আদর্শিক, রণনীতির শত্রু যারা, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা, আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করা ছাড়াও সরকারে অংশগ্রহণ নিয়ে দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নৌকা প্রতীক ব্যবহার করতে চাই না, সরকারে অংশগ্রহণ করতে চাই না।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি, ইউনাইডেট কমিউনিস্ট লীগ ও সাম্যবাদী দল (আলী আব্বাস)—এই তিনটি দল নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। ১৯৯৫ সালে পলিটব্যুরোর সদস্য টিপু বিশ্বাস বেরিয়ে নতুন দল করেন গণফ্রন্ট। ২০০৪ সালের ১৪ জুন বেরিয়ে পলিটব্যুরোর আরেক সদস্য সাইফুল হক, বর্তমানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী কংগ্রেসকে সামনে রেখে পার্টি তৃতীয় দফায় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পার্টির একাধিক নেতা।

ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের একাধিক সদস্য জানান, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মন্ত্রিত্ব, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয়ে নাম আসা, বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নাম আসা, সর্বশেষ ক্যাসিনো ব্যবসায় যুক্তদের সঙ্গে রাশেদ খান মেননের নাম আসার পর দলের ভেতরে বিরোধিতা প্রকাশ্যে আসে। একইসঙ্গে দলের ভেতরে একটি গ্রুপ এ বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মেননের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা বিউটিকে মনোনয়ন নেওয়ায় পার্টির একটি অংশ তা মেনে নিতে পারেনি।

পার্টির সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস বলেন, ‘মার্কসবাদী সংগঠন হিসেবে কোনও কিছুতেই ওয়ার্কার্স পার্টি কাজ করছে না। এই পার্টিকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিই মনে করেন না। যেহেতু এই পার্টি কমিউনিস্ট পার্টি নয়, সে কারণে আমি এই দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবো।’

এএইচ

 


oranjee

আরও খবর :