ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

পাঁচশ বছরের কালের স্বাক্ষী সুরা মসজিদ

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হুমকির মুখে

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৮

দিনাজপুরের দৃষ্টিনন্দন সুরা মসজিদ

এম আই মিঠু: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ইউনিয়নের চৌগাছা মৌজায় (হিলি স্থলবন্দর অথবা পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশন) হতে উত্তরপূর্ব দিকে মাত্র ২০কিলোমিটার অদূরে। অথবা ঘোড়াঘাট উপজেলা কেন্দ্র থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে গেলে পাকা রাস্তার উত্তর ধারে ৩৫০-২০০ গজ আয়তন বিশিষ্ট বিশাল একটি পাড়ওয়ালা দীঘির দক্ষিণ ধারে অবস্থিত "সুরা মসজিদ"।

নির্জন এলাকায় প্রায় ৫শ বছরের এক কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে আছে এ মসজিদ। এটির নাম নিয়ে রয়েছে নানান কথা। কেউ বলেন সৌর মসজিদ, কেউ বলেন সুরা মসজিদ, আবার কেউ বলে শাহ সুজা মসজিদ।

মসজিদে প্রবেশ করার বাইরের দরজা

সৌর শব্দের অর্থ আসমানী বা গায়েবী অর্থাৎ লোকচক্ষুর আড়ালে যা ঘটে বা হয় তাই গায়েবী। অর্থাৎ গায়েবীভাবেই মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। অনেকে বলেন, মোগল আমলে বাংলার নবাব সুজা এটি নির্মাণ করেন বলে এর নাম শাহ সুজা মসজিদ হয়েছে। এমন আরো অনেক কথা লোকমুখে শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে শাহ সুজার ক্ষমতা গ্রহণের অনেক আগে এ মসজিদটি নির্মিত হয়েছে।

মসজিদের নামকরণ ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে এর শিলালিপি বা যে প্রমাণ পাওয়া গেছে তাতে নির্মাণশৈলী বা স্থাপত্য কাঠামো স্থাপনকাল নির্ধারণে একটি অনুসঙ্গ বলে বিবেচিত হয়। সেক্ষেত্রে গঠনশৈলীর উপর ভিত্তি করেই সম্ভাব্য নির্মাণকাল বের করা যায়।

মসজিদের ভেতরে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক দানী এটিকে গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর আমলে নির্মিত বলে অনুমান করেন। উক্ত মসজিদটি সুলতানী আমলে ( ১৪৯৩-১৫১৮) খ্রিষ্ঠাব্দে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। তবে ইতিহাসে চোখে পড়ে একই সময়ে একই আকৃতিতে তৈরি নওগাঁর মান্দায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ, টাঙ্গাইল আতিয়া সহ ঢাকার কয়েকটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

মসজিদটির বাইরের দিকের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪০ ফুট এবং পূর্ব পশ্চিমে ২৬ ফুট। চার ফুট উচু মজবুত প্লাটফর্মের উপর মসজিদের কাঠামো গড়ে উঠেছে। প্রধান কক্ষের আয়তন ভিতরে ১৬´১৬ ফুট। প্রধান কক্ষের সাথে যুক্ত আছে ৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা। পুরো মসজিদের দেয়ালে গায়ে অসংখ্য খোপকাটা মৌলিক টেরাকোটার অলঙ্করণ যা এই ইমারতের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া মসজিদের দেয়ালের সুসজ্জিত নকশা দৃষ্টিনন্দিত।

কারুকাজখচিত মিম্বর

দু:খজনক হলেও সত্য, প্রায় ৫শ বছরের কালের স্বাক্ষী সুরা মসজিদটি আজ প্রত্নতত্ত্ব ও সরকারি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছেছে। এর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে এবং মুসুল্লিদের নামাজে দাড়ানোর জায়গা ধ্বসে পরছে।

রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলার কারণে মসজিদের গায়ে ফাঁটল ধরেছে

দেশের অনেক স্থানে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা আজ বিলিন হবার পথে, তাই বিরল এই ইতিহাস আজ অযত্নে অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাবার আগেই অতিদ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের কাজে কতৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা। এ স্থাপনাটি দেশ তথা আসেপাশের পর্যটন শিল্পে ঐতিহাসিক সুলতানী আমলের নিদর্শনের গুরুত্ব বহন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

এসএনএ

 


oranjee