ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

তাহমিনা বেগম-এর কবিতা ‘চিঠি দিও’

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯

ফাইল-ছবি

চিঠি দিও

তাহমিনা বেগম

চিঠি লিখে জানিও প্রিয়, কেমন আছো
দিনগুলো এখনো আছে কি আগেরই মতো?
চাইনে প্রতিদিন তোমাকে পড়তে
সপ্তাহ, মাস যা পূর্বে লিখে জানাতে।

প্রতিক্ষায় থেকে থেকে যখন হাতে পেতাম হলদে খাম
অনেকক্ষণ নেড়ে চেড়ে ভাঁজ খুলে নিতাম তোমার হাতের ছোঁয়া ঘ্রাণ
কি যে সৌরভ! তুমি কখনো দিতে কিছু গোলাপ
পাঁপড়ি,কখনো কাঁঠালি চাঁপা ফুল
প্রিয় ঘ্রাণে ঘ্রাণে মনটা হতো ব্যাকুল।

তারপর এক নিঃশ্বাসে পড়ে নিতাম তোমাকে
হৃদয়ের আকুতি, ভালোবাসার সৌরভ সবেতে
পরে ধীর লয়ে পড়তাম প্রতিটি বাক্য বারংবার
হারিয়ে যেতাম তোমাতে, করে দিতাম নিজেকে উজাড়।

যুগের তালে হলো সেলফোনের আগমন
প্রতি মুহূর্তেই পেয়ে যেতে লাগলাম খবর
কি করছো, কেমন থাকছো, কোথায় যাচ্ছ?

তাও ভালো ছিল, এখন কি যে শুরু হলো!
ফেসবুকের কল্যাণে হলো সব এলোমেলো।

এখন আর সেই আবেগ পাই না খুঁজে
চিঠির ভাষায় যা পেতাম প্রতিটি অক্ষরের পরতে পরতে
রাতগুলো আছে আগেরই মতো
ভালোবাসার গভীরতা নেই অতো।
শত কোটি বিনিদ্র রজনী কেটে যেত
কখন আসবে তোমার চিঠি
লেখা থাকবে সেথা কতো হৃদয়ের আর্তি
কখনো মন হাসতো,হৃদয়ে লাগতো কাঁপন
পড়া শেষ হলেও বুকে চেপে হতো রাত্রি যাপন।

প্রিয়, চাইনে তোমার সাথে ম্যাসেঞ্জার চ্যাটিং
ফিরে পেতে চাই আগেরই মতো চিঠি লেখার দিন
কিছু রজনীগন্ধা অথবা শিউলীর শুকনো পাতা
আসবে হলুদ খামে চিঠির ভেতরে সযতনে রাখা
প্রিয়তম আবারো বলছি, আসো তুমি হলুদ খামে
নিদেনপক্ষে সপ্তাহ, মাসে নাহয় ছ'মাসে।

ওতেই পেতে চাই আমার ভালোবাসা, ভালোলাগা
চাইনে এ যুগের কৃত্রিম সেলফোনি বা চ্যাটিং উষ্ণতা।

তাহমিনা বেগম


oranjee