ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

কেমন ইশতিহার চাই

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

মুরাদ নুর

যে জাতি যতো বেশি শিক্ষিত, সে জাতি ততো বেশি উন্নত। আজকাল জানতে চাওয়ার চেয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করা শিক্ষিতই বেশি। যার ফলে সমাজে অন্যায়-অপরাধী কুশিক্ষিতরা বেশ শক্তিশালী।

সমাজের কোনো মানুষই রাজনীতির বাইরে নয়, চাইলেও এর বাইরে থাকা সম্ভব নয়। বিশুদ্ধ রাজনীতিবিদরাই বলতে পারে সমাজে শান্তি আর স্বপ্নের কথা। কুশিক্ষিত, পল্টিবাজ, আদর্শহীনরা ঘরে বাইরে সবসময় করে যাচ্ছে নিখুঁত অভিনয়। যে অভিনয়ের ফলে সমাজ, রাষ্ট্র প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পরে। বিশ্বের কাছেও লজ্জায় পরতে হয়। একে অপরের প্রতি সম্মান, শুদ্ধ চিন্তা, মানবতাবাদী আচরণ নাই বললেই চলে।

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সবচেয়ে আনন্দ আর উৎসবের দিন একাদশ জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা সকল ভোটারদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখাচ্ছে, আমাদের সকলের ভোটে নির্বাচিত হলে কেমন বাংলাদেশ গড়বে! আমরাও শুনছি তাঁদের কথা। সময়ে হয়তো ভুলে যাই রাজনৈতিক দলের অতীত কর্মের কথা। জাতি হিসেবে আমরা বড়ই ভুলোমনা। ক্ষমাশীলও বটে।

যুগে যুগে দেশ গড়ার কাজে তরুণরাই বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসে এমনটা বহু আগেই প্রমাণিত। দলগুলো তরুণদের পুঁজি করেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে চায়। যদিও আমি এটাকে ক্ষমতার চেয়ে আমাদের বিশ্বাসের দায়িত্ব বলি।

আমরা তরুণরাও বিশ্বাস করতে চাই রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলকে। আমাদের শুদ্ধ ভাবনায় তাদের আরো সমৃদ্ধ করবে বলেই বিশ্বাস। বর্তমানে দলবাজি, পেশীশক্তি, ক্ষমতার অপব্যবহার, হত্যা, গুম, ধর্ষণ, স্বাধীনতা বিরোধী মনোভাব, ধর্মান্ধ মনোভাব, মনোনয়ন বাণিজ্যসহ অসংখ্য সমস্যায় আমরা জর্জরিত। এমন সমস্যা কাটিয়ে উঠতে তরুণরা তাকিয়ে আছে দলগুলোর ইশতিহারের দিকে। কেমন ইশতিহার চাই আমরা!
রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতিহারে যে বিষয়গুলো বেশী জরুরী বলে মনে করি।

* জাতির পিতাসহ অন্যান্য বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দলমত নির্বিশেষে সঠিক সম্মান প্রদর্শনের আজন্মকাল অঙ্গীকার।

ক) ধর্ষক প্রমাণিত হলেই সর্বোচ্চ আর সর্বনিম্ন শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
খ) নিরাপদ সড়কের জন্য ট্রাফিক আইন আরো শক্তিশালী করে আইন প্রয়োগ করার অঙ্গীকার। অমান্যকারী সে যেই হউক, শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
গ) সাংসদ ও মন্ত্রীরা সমালোচিত হলে, জনগন তাকে না চাইলে প্রমাণ পেলে সাথে সাথে পদ থেকে বহিষ্কারের অঙ্গীকার।
ঘ) স্ব স্ব সেক্টরে অভিজ্ঞ ও যোগ্যদের মন্ত্রী বানানোর অঙ্গীকার।
ঙ) প্রতিটা জেলা শহরে আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণের অঙ্গীকার।
চ) নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিনোদন পার্কগুলো ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার অঙ্গীকার।
ছ) গার্মেন্টস-কারখানা রাজধানীর বাইরে স্থানান্তর করার অঙ্গীকার।
জ) বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সচিব পদ মর্যাদা দেওয়ার অঙ্গীকার।
ঝ) স্কুল ও কলেজগুলোতে শিল্প-সংস্কৃতিচর্চা বাধ্যতামুলক করার অঙ্গীকার।

দলগুলোর যুগোপযোগী সিদ্ধান্তে তাদের নিজস্ব ভাবনার সাথে আমাদের এমন বিশুদ্ধ চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে ইশতিহার করার বিনীত অনুরোধ করছি। তবেই আমরাই আজন্মকাল আপনার দলের পাশে থাকবো। বাংলাদেশে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হবে। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকুক আমার শান্তির বাংলাদেশ। আমরা শান্তির পক্ষের লোক। আমাদের সবার প্রচেষ্টায় হাসবে বাংলাদেশ।

লেখক: মুরাদ নূর সুরকার ও সংস্কৃতিকর্মী

এসএনএ


oranjee