ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

সম্পর্ক ও আমরা!

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

লেখক

মুরাদ নূর : ইসলাম ধর্মীয় অনুসারীরা বিশ্বাস করেন আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন প্রেম আর সম্পর্কের কারণেই। মাটির তৈরি আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করে নূরের তৈরি ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন, আদমকে সিজদা করার জন্য। সবাই সিজদা করলেও আল্লাহর অনুগত ইবলিশ (আঃ) সিজদা করে নাই। হয়তো তার ব্যাখ্যা ছিলো যে, একমাত্র সিজদা আল্লাহকেই করা যায়। আর কাউকে নয়। তারপরের ইতিহাস সবারই জানা। আদম এবং ইবলিশ দুজনের চাওয়া পাওয়াকেই আল্লাহ পূরণ করেছেন। এজন্যই তিনি রহমানুর রাহিম। সৃষ্টির প্রতি দয়াময়। সবটাই কেবল সম্পর্ক আর বিশুদ্ধ প্রেমের নিদর্শন।

আদম (আঃ)কে জান্নাতে রেখে আল্লাহ হাওয়াকে তৈরি করেছেন। আদমকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য। তখন থেকেই চলমান মানুষ একা বাস করতে পারেনা। কেয়ামত পর্যন্ত পারবেও না। একে অপরের কাজে লাগাই হলো সম্পর্ক! জীবনচলার পথে যে কোনো জীবকে আপন করার নামই সম্পর্ক। প্রয়োজন থেকেই প্রিয়জনের জন্ম। কেউই প্রিয়জন হয়ে জন্মায় না। দুনিয়াতে এর বহু নাম হয়। প্রতিটা নামের আগেই তৈরি হতে হয় সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব। প্রতিটা সম্পর্কই বন্ধুত্ব! বন্ধুত্ব বলতে আলাদা কোনো সম্পর্ক নাই। এই সম্পর্ক পরিচালনা করতে কিছু নিয়মও আল্লাহ বেঁধে দিয়েছেন। দুনিয়ার প্রতি সৃষ্টিকর্তার প্রেম ও দায়িত্ববোধ থেকে পাঠালেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত মোহাম্মদ (সঃ)কে। যিনি মুসলিম জাহানের পথপ্রদর্শক। এটাও সৃষ্টিকর্তার বিশুদ্ধ প্রেমের নিদর্শন। বিশ্বাসের নিদর্শন।

যুগে যুগে কালে কালে এই সম্পর্কের জন্যই মানুষে মানুষে প্রেম, যুদ্ধ, সভ্যতা ও অসভ্যতা। আদিম যুগের পর থেকে মানুষ যখন বুঝতে পারলো তাদের সম্পর্ক আরো গুছানো প্রয়োজন, তখন থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিস্কার। ধীরে ধীরে মানুষ সভ্য হওয়ার চাহিদায় ব্যস্ত। যার ফলে মানুষ নিজেকে মায়াবী, হিংস্র ও প্রয়োজনীয় মনে করছে। সমাজ তৈরি করে দিচ্ছে সামাজিকতা। বিধি নিষেধের সমন্বয় হচ্ছে- এই করলে এই হবে। এই করলে এই! চলছে ক্ষমতা আর সঠিকটা না জানার অপব্যবহার। এই সমাজই ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে বিবর্তিত হচ্ছে।

দীর্ঘ ইতিহাসের পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে মূল গন্তব্যে। যুগে যুগে নিয়ম পরিবর্তনের ফলে আসল নিয়ম কোনটা? কি কেনো করছে! আসলে কেনো প্রয়োজন! এমন প্রশ্নগুলো মানুষ ভুলতে বসেছে। সব সমাজের ক্ষমতাধর বিজয়ীরা তাদের নিজের মতো ইতিহাস তৈরি করছে। আসল ইতিহাস তলিয়ে যাচ্ছে অতল গহবরে। আসলে মানুষ প্রকৃত অর্থে জানেই না তাদের উদ্দেশ্য কি! সম্পর্ক কি? প্রেম কি? বর্তমান ভূয়া সমাজ প্রেম বলতে বুঝি স্বামী/স্ত্রী, বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড। অথচ প্রেম মানেই সম্পর্ক! বিশুদ্ধ সম্পর্ক! যা মানুষসহ পৃথিবীর সকল প্রাণীর সাথেই যে কোনো মুহূর্তে হয়, হবেই! এই প্রেমের পরের ধাপ সমাজ তৈরি করেছে। সম্পর্ক আর প্রেমের বিভিন্ন নাম দিয়েছে। যার মূল হলো সম্পর্ক, তারপর প্রেম৷ তারও পর সে সম্পর্কের নাম। যদিও মনের মিলে এসব নাম কিচ্ছু আসে যায় না। প্রেম পবিত্র। 

বর্তমান সমাজে আমরা যারা বাস করছি তারা বেশ অস্থির সময় পার করছি। না পারছি দাদা-নানি, পূর্বপুরুষদের কুসংস্কার মেনে চলতে, না পারছি তথ্য প্রযুক্তির যুগে রোবট নিয়ে পড়ে থাকতে। কি যে ভয়ংকরভাবে সমাজ এগুচ্ছে, কোনো কিছুরই সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। তা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশের সংবাদ শিরোনাম দেখলেই টের পাওয়া যায়। সবাই কি যেনো অদৃশ্য চাওয়ায় মশগুল। নিজের স্বার্থ ও পরের স্বার্থ কোনোটাই জানেনা। সবার আগে নিজেকেই সমৃদ্ধ ও ভালো রাখতে হয়। তবেই অপরকে ভালো রাখা যায়। নিজে ভালো না থাকলে কাউকেই ভালো রাখা যায়না। ধর্ম বলে একটা, বিজ্ঞান বলে একটা, সমাজ বলে একটা, দেশ বলে একটা, নিজেরাও নিজেদের মতো বলি আরেকটা, কারো সাথে কারো মিল নাই। সমন্বয় নাই। 

সভ্যতার পৃথিবীতে যুগে যুগে বিভিন্ন দেশে গোত্রে যারা আলো হয়ে জন্মেছেন, তাদের মাথা ব্যথাটাই বেশি। কারণ তারাই সৃষ্টিকর্তার প্রেমের মূল্য দিতে চায়। পৃথিবী ও মানুষের আজন্মকাল প্রেমিক হতে চায়। তাদের কাছেই সৃষ্টিকর্তা নিরাপদ। আমিসহ অনেকেই সে সকল মনীষীদের উত্তরসূরী। যারা সভ্যতা ও শান্তি চায়। সম্পর্ক ও প্রেমের মূল্য দিতে চায়। অমানুষদের মানুষ করতে চায়। পৃথিবী শান্তির জন্য সবসময় তাদের মস্তিস্ক সক্রিয়। তারা পারেনা তাদের জন্য, যারা আসলে জানেনা সম্পর্ক কাকে বলে? প্রেম কি! এর রূপ আসলে কি! প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা কি? এরাই সমাজের প্যানেল! সংঘবদ্ধ হয়ে সবসময় পুরো প্যানেল জিতে যায়। রচিত হয় নতুন ইতিহাস। সুস্থ, সুন্দর, শান্তি কামনা করা মানুষগুলো হয়ে যায় সংখ্যালঘু। আহা! আমাদের সম্পর্ক! আমাদের প্রেম! একি কখনো আর বিশুদ্ধ আর পবিত্র হবে না?

যখন কাগজের বিশ্বাস থেকে মননে বিশ্বাস সৃষ্টি হবে তখনই সম্পর্ক/প্রেম বিশুদ্ধ শান্তিতে থাকবে। কাগজের বিশ্বাসও লাগে। তাই বলে মনের বিশ্বাস এড়িয়ে নয়। কাগজের বিশ্বাস সকালেরটা দুপুর গড়াতেই ভাঙ্গে! মনের বিশ্বাস আজন্মকাল থাকে। শারীরিক প্রস্থানের পরেও থাকে। মনের প্রেমই আসল প্রেম। কাগজ চাইলেই কেউ নষ্ট করতে পারে। মনের বিশ্বাস নষ্ট হয় না, কেউ নষ্ট করতে পারেও না যদি নিজে না চায়।

লেখক : সুরকার ও সংস্কৃতিকর্মী
muradnoorbdicon@gmail.com

 

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

 

এমএস


oranjee