ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

শিল্পী সমিতির আচরণ যেনো অ-শিল্পায়নের মহোৎসব

গ্লোবালটিভিবিডি ১:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

মুরাদ নূর : গতকাল অপূর্ব-রানা পরিচালিত নতুন ছবি 'উম্মাদ' এর মহরতে এফডিসিতে যাই। নতুন সিনেমায় গান বানাচ্ছি জেনে খুব ভালো লাগা নিয়েই সেটে যাই। এফডিসির গেট দিয়ে ঢুকতেই এক সাংবাদিক বন্ধু বের হয়ে যাচ্ছে। চোখে মুখে বিরক্ত আর হতাশার ছাপ। সামান্য কুশল বিনিময় করেই সামনে এগিয়ে যাই। পুরো এফডিসি ব্যানারে একটা সাজসজ্জার আমেজ। ২৫ অক্টোবর (আজ) শিল্পী সমিতির নির্বাচন! (যদিও শিল্প অঙ্গনে বিশ্বের কোথায়ও এমন সংগঠন নাই)। ক্যান্টিনের সামনে যেতেই দেশের প্রথম শ্রেণির প্রায় সকল পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন পোর্টালের বড় ভাই, বন্ধু, ছোট ভাই, বর্তমান চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের সোচ্চার কলমগুলো একে অপরের সাথে বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে কথা বলছে। তাদের কথা আর শিল্পবাড়ীতে হতাশা দেখে বুঝলাম যে এখানেই নতুন করে অ-শিল্পায়নের চর্চা হয়। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। দিনকে দিন আমাদের বোধ, একে অপরের প্রতি সম্মান কোথায় গেলো? কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে আমাদের শিল্প সমাজ?

এগুলো ভাবতে ভাবতেই মহরত অনুষ্ঠানে যোগ দিলাম। অনুষ্ঠানে আগত সাংবাদিক সবাই কেমন জানি বিরক্ত। অনুষ্ঠানে মন নেই। নিজের দায়িত্ব, অফিস এসাইনমেন্ট নিয়ে বেশ চিন্তায় মশগুল বর্তমানের তরুণ, মেধাবী সাংবাদিকরা। সবাই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই চলে গেলো শিল্পী সমিতিতে। কারণ তারা আজ শুক্রবার নির্বাচনের কার্ড সংগ্রহের জন্য। এমন অবস্থায় আরো অবাক হয়েই অনুষ্ঠান শেষ করলাম। এফডিসিতে আগত সকল পরিচালক, শিল্পী, সাংবাদিক, কলাকুশলী সবাই যেনো অসহায় অদৃশ্য কোন ক্ষমতার কাছে।

অবাকের মাত্রা বাড়িয়ে ছোট ভাই মেধাবী সাংবাদিক লিমন আহমেদকে ফোন দেই। লিমনের কণ্ঠও ঝামেলায় ভরপুর। বিদায় নিতে শিল্পী সমিতির সামনে যাই। সামনে এগুতোই আরো অবাক! এনটিভি, বাংলা নিউজ, বিডি নিউজের মতো প্রথম শ্রেণির গণমাধ্যমের অনেকেই মনে হলো অচেনা জায়গায় দাঁড়িয়ে। অনেকের মনেই প্রশ্ন এ কোন শিল্প বাড়ী? কারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে? শিল্পী সমিতি আর সাংবাদিক সমাজের এতো দূরত্ব কেনো?

শুক্রবার নির্বাচন, অথচ অনেক সাংবাদিক নিউজ কভার করার জন্য অনুমতি কার্ড পায়নি। যারাই পেয়েছে বেশিরভাগ নামহীন পত্রিকার সাংবাদিক। অনেকের নামই শুনিনি। যারা সারাক্ষণ বাংলা সিনেমা, সিনেমার উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি করে। শিল্প নিয়ে খুব ভাবে। তাদের নামই লিস্টে নাই। তাহলে এই লিস্ট আসলে কে করে? শিল্পী সমিতির উচিত ছিলো সকল পরিচিত সংবাদ মাধ্যম ও পরিচিত সাংবাদিকদের সম্মানের সাথে তাদের কর্ম পরিচালনা করার অনুমতি দিয়ে কার্ড হস্তান্তর করা। দায়িত্ব পালনের অনুমতির জন্য মরিয়া সাংবাদিকরা। হায় শিল্পী সমিতি! হায় সাংবাদিক! নির্বাচনের ছয়/সাত ঘন্টা আগেও সাংবাদিকরা জানেনা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে পারবে কিনা। এই যদি হয় শিল্পী সমিতির আচরণ তাহলে এমন সমিতি দিয়ে শিল্পের আসলে কি উপকার হবে? দেশের সংস্কৃতি আসলে কোন দিকে যাচ্ছে?

এমন বহু প্রশ্ন দিনদিন বেড়েই চলছে। আদৌ এর উত্তর মিলবে কি? সাংবাদিক শিল্পী একে অপরের পরিপূরক। এখানে দুজনের প্রতি সম্মান, সমন্বয়, আস্থা, সততা জরুরি। না হয় ভয়ংকর হুমকির মুখে আমাদের গৌরবের সংস্কৃতি। আমাদের ঐতিহ্যের বাংলা সিনেমা।

লেখক : সুরকার ও সংস্কৃতিকর্মী
muradnoorbdicon@gmail.com

 

‘লেখকের স্বাধীন মতামতের জন্য গ্লোবাল টিভি দায়ী নয়’


oranjee