ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

মনুষ্যত্বের আজ কেন অভাব

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

ফাইল ছবি

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম : সামাজিক বিভিন্ন অস্থিরতার কারণ নানান মহল হতে প্রশ্ন উঠেছে, মানুষের মাঝ থেকে নীতি ও নৈতিকতার কেন আজ এত ঘাটতি? দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হতে পড়ালেখা করার পরেও কেন মানুষ আজ মনুষ্যত্বহীন? একাডেমিক মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও কেন বিবেকহীন? বিত্তশালী হবার পরেও মানুষ আজ কেন নীতিহীন?

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে গেলো বুয়েটের মমর্মান্তিক ঘটনা। এই বিদ্যাপ্রতিষ্ঠানটিতে পড়ালেখার সুযোগ পেয়ে থাকে দেশসেরা মেধাবীরা। অথচ এখানেই ঘটে গেলো ইতিহাসের জঘন্যতম নির্মমতা। রাত গভীরে মেতে উঠল একদল মেধাবী, পৈশাচিক উল্লাসে। কিন্তু কেন? এরকমত হবার কথা ছিল না।

সবাই আজ নৈতিক মূল্যবোধের অভাব বলে গলা ফাটিয়ে দিচ্ছে। কী কারণে অভাব হল, কী করলে ফিরে আসতে পারে মনুষ্যত্ব, এই নিয়ে কিন্তু তেমন আলোচনায় কেউ যাচ্ছেন না। ফলে সমস্যা হ্রাস পাবে দূরে থাক বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ খোদ দেশের সরকার প্রধান পর্যন্ত চিন্তিত।

আসুন, জেনে নেয়া যাক, আমাদের সন্তানদের মেধাবী হিসেবে তৈরী করার পাশাপাশি কিভাবে মানবিক মূল্যবোধ তাদের মাঝে গেঁথে দিতে পারি।

প্রথমেই এই আন্দোলন শুরু করতে হবে পরিবার হতে।
১. যেসব স্কুলের সময়সূচী সকাল ৭ টায়, তা পরিবর্তন করে সকাল ১০ টায় করতে হবে। আর এর জন্য প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকদেরকেই স্কুল কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সকালে ক্লাস শুরু হবার কারণে দেশ হতে মক্তব প্রথা প্রায় বিলুপ্ত।

২. স্কুল, কলেজগুলোতে ধর্মীয় চর্চা রাখতে হবে।
৩. প্রতিটি বাসায় নির্দিষ্ট একটা সময়ে ধর্মীয় গ্রন্থ হতে আলোচনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেমন, মুসলিমরা যেটাকে বলে তালিম।
৪. ফজর নামাজের পর বাসাবাড়ি / মক্তবে শিশুদের জন্য কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এমনিভাবে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের জন্যও তাদের রীতি অনুযায়ী আয়োজন করতে হবে। কারণ অধিকাংশ ধর্মের শিক্ষাই জগতের কল্যাণ সাধন।

এবার আসুন, সরকার ও ব্যক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে ফিরে পাবে ও আনতে পারবে সমাজিক মূল্যবোধ।
১. জেলে হাজতি, কয়েদিদেরকে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় চর্চায় বাধ্য করা। যেমন জরিমানা হিসেবে মুসলিমদের দিতে পারে নির্দীষ্ট সময়ে ১০০০/২০০০/৩০০০ রাকাত নফল নামাজ, রোজা,কোরআন ও হাদিস শিক্ষা। অমুসলিমদের জন্য সরকার ধর্মীয় কি ব্যবস্থা নিতে পারে তা সংশ্লিষ্টদের কাছ হতে পরামর্শ নিতে পারেন।

আধা স্বায়ত্ত ও ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ধর্মীয় কাজ গুলো সম্পাদন করার জন্য তাদের অধীনস্থদের জন্য বাধ্যবাধকতার নিয়ম চালু করতে পারে। ডিউটি আওয়ারের একটা সময়ে তালিমের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে ।

এগুলো যদি চালু করা যায়, তাহলে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর তাকে ধর্মীয় অনুশাসন মানার জন্য ডাকতে হবে না। পুলিশের পকেট বিহীন পোশাকের জন্য ভাবতে হবে না। প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরকে সিসি ক্যামেরায় অধীনস্থদের কর্মকান্ড দেখার জন্য বাড়তি সময় আর তেমন দিতে হবে না। আসামী মুক্তি পাবার পর পুনরায় অপরাধে জড়াবে না বললেই চলে।

এএইচ


oranjee