ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

অ আ আবীর আকাশ: অনেক অভিভাবক চান সন্তানদের বিদেশে পড়ালেখা করাতে। এসএসসি বা এইচএসসি পাশের পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে। উচ্চশিক্ষা করিয়ে সন্তানদের মানুষের মত মানুষ গড়ে তোলা যেমন অভিভাবকের স্বপ্ন তেমনি শিক্ষার্থীদেরও থাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তবে উচ্চ মাধ্যমিকের পর বিদেশে পড়তে যাওয়ার সঠিক তথ্য অনেকেই ঠিকমতো জানেন না। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগান কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। শিক্ষার্থীরা পড়েন নানা বিপাকে। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট দেশ অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সঠিক ধারণা বা তথ্য না জানায় নানা ঝামেলার শিকার হন। প্রবাসে গিয়েও শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তারা তো পড়তে গেছে, কিন্তু কেন তারা এসব ঝামেলা বা দুর্ভোগে পড়বেন?

হ্যাঁ, ভিসা প্রসেসিং থেকে শুরু করে থাকা, খাওয়া, ভাষা ব্যবহারসহ আরো জটিলতায় শিক্ষার্থীরা পড়েন কেবলমাত্র এজেন্সিদের খামখেয়ালিপনায়। এজেন্সির কাছে কোন রকম সহায়তা না পেয়ে তারা অর্ধাহারে অনাহারে দিন পার করে দেশে ফিরে আসার সংখ্যাও কম নয়।

খোদ রাজধানীসহ বড় বড় শহর থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত বিদেশে উচ্চশিক্ষা ভিসা প্রসেসিং করার নামে গড়ে উঠেছে ফাঁদ। নামে-বেনামে স্বনামে গড়ে উঠা এজেন্সির কাছে প্রতিবছরই শত শত শিক্ষার্থী প্রতারিত হয়ে আসছে। মূলত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়তে যাওয়ার জন্য হাজার ১৯৯০ সালে দু-তিনটা ভিসা প্রসেসিং এজেন্সি গড়ে ওঠে। এ প্রতিষ্ঠানসমূহ অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতারকরা ক্রমান্বয়ে রাজধানী ছেড়ে জেলা-উপজেলায়ও প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে।

তারা আকর্ষণীয় চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এসব প্রতারকরা প্রতারণা করে যাচ্ছে। অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা তো বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। লক্ষ্য করা যায় এসব এজেন্সি সম্পর্কে ভালো মন্দ না জেনেই তাদের জালে পা দিয়ে আটকা পড়ে থাকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। বহু দেন-দরবার করে হয়তো তারা যত সামান্য কিছু টাকা তুলে আনতে সক্ষম হয়। আর এতেই সান্ত্বনা হিসেবে মুখ বুজে পড়ে থাকে অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা। দুঃখের বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ সময় এসব এজেন্সি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়া কানাডা ইউকে ইউএসএ সুইডেন সাইপ্রাস নিউজিল্যান্ডের মত বিশ্বের কয়েকটি সেরা দেশে উচ্চশিক্ষা করার জন্য যে ধরনের যোগ্যতার দরকার হয় তার কিছুরই প্রয়োজন পড়ে না এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে। শহরের আনাচে কানাচে অলিগলি চিপায় চাপায় চটকদার বিজ্ঞাপন সাঁটানো থাকে ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের টানতে চায়।

খতিয়ে দেখা গেছে, এই সব এজেন্সির মালিক, এরা ওইসব দেশে কোন প্রতিষ্ঠান অথবা নাগরিকের সাথে চুক্তি করে সেখানে ওই প্রতিষ্ঠান বা নাগরিক নামমাত্র একটি কলেজ খুলে বিভিন্ন দেশ থেকে এজেন্সির মাধ্যমে পাঠানো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি'র নাম করে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। অনেক সময় এসব প্রতারক শ্রেণি মোটা অংকের টাকা অগ্রিম হাতিয়ে নেয়ার জন্য ওই দেশে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলে। তবে স্বপ্নময়ী শিক্ষার্থীরা ফাঁদে পড়ে সরল মনে টাকা দিলে পরবর্তী সময় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

অনেক নামে-বেনামে এজেন্সিগুলোর অনেকের সরকারি অনুমোদন নেই। ফলে এক সময় সরকারের নির্দেশে তা বন্ধ হয়ে যায়। তখন উপায়ান্তর না পেয়ে শিক্ষার্থীকে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে আবারো দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, ভর্তি হতে হয় নিজ দায়িত্বে। কারণ স্টুডেন্ট ভিসায় অবশ্যই তাকে অধ্যায়নরত থাকতে হবে।

সঠিক তথ্য না জানার কারণে দেশের অনেক শিক্ষার্থীই পড়তে হয় খপ্পরে।

মতিঝিল বনানী উত্তরা ফার্মগেট গুলিস্তানের মত ব্যতিব্যস্ত এলাকায় তারা ছোট ছোট খুপরি রুম ভাড়া নিয়ে ভিসা প্রসেসিং-এর নামে টাকা কামানোর প্রতারণার ফাঁদ খুলে বসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এজেন্সির মালিক বলেন, দেশে নামে বেনামে বহু এজেন্সি গড়ে উঠেছে। এসবের খপ্পরে পড়ে সত্যিকার অর্থেই শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে সরকারের কোন নীতিমালা নেই। এসব সমস্যা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।

লেখক: সংবাদকর্মী।


oranjee