ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

পাহাড়ি শোকগাঁথা / রিতা ফারিয়া রিচি

গ্লোবটুডেবিডি ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৮

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দবানে পাহাড়ধসে এ নিয়ে শতেক মানুষের মৃত্যু আর অগণণ আহতের ঘটনার সারাদেশের মানুষকে বিপণ্ণ ও আতংকিত করেছে মানবিকতাকে। অতিরিক্ত জুমচাষে সবুজ নষ্ট হওযায়, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ের পাদদেশে যাতয়ায়াতের জন্য রাস্তা আর পাহাড় কাটা-সব মিলে পাহাড়ের পরিবেশ এবং অতিরিক্তহারে গাছ কেটে ফেলার কারণে শেকড় উপড়ে যাচ্ছে মূল সুদ্ধ। জুম চাষই কি মুখ্য ! সবুজ ছিনতাই করে মানুষের জীবন বিভীষিকাময় বিপণ্ণতায় ঠেলে কী লাভ! কারণ গাছেরা শুধু অক্সিজেন দিয়ে, মুনাফা দিয়ে ক্ষান্ত নয়, তারা শেকড় ধরে রাখে মূলে মূলে মাটির ভারসাম্য রক্ষা করে। এইভাবে বৃক্ষনিধন, জুমচাষ, আর যান্ত্রিক জনতার চাহিদায় কলাপাতা সড়ক কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য জীবন। আর অসংখ্য মানুষের অর্ধেক জীবন নিয়ে চলা আরো ভয়াবহ!

অভিনন্দন আমাদের সামরিক বাহিনীকে! তারা অনেক সংগ্রাম করে অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছে আল্লাহর রহমতে। এইসব ছিন্নমূল মানুষদের জীবন রক্ষার্থে ইতোমধ্যে সামরিক বাহিনীর ৫জন সদস্য প্রাণ দিয়েছেন। তাদেরকে আমরা স্যালুট জানাই-শ্রদ্ধা জানাই বিনম্র। তাঁদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। পাহাড় ধসে ১৫১ জন মানুষের পরিবার ও স্বজনদের সহ সামরিক বাহিনীর দুজন সদস্যের পরিবারে শোক সইবার ক্ষমতা যেন মহান সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে দেন, সেই প্রার্থনা।

পাহাড় ধসে এর আগেও কয়েকবার এমন মানবিক বিপর্যয় ঘটেছিল। সেকারণে আমাদের আরো সতর্ক হওয়া জরুরী ছিল। আর যাতে এভাবে অসহায় মানুষের প্রাণ না যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত এখন আমাদের।


oranjee