ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

কলকাতায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী অপহৃত: মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেলেন

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় স্ত্রীর গয়না কিনতে এসে সঙ্গীসহ অপহৃত হলেন এক ব্যবসায়ী। দেশ থেকে পরিজনরা ৬ লক্ষ টাকা পাঠানোর পর মুক্তি পেলেন তিনি। ওই ব্যবসায়ীর নাম বসির মোল্লা। তার সঙ্গী হলেন ইলিয়াস নামে এক যুবক।

কলকাতা থেকে উত্তর ২৪ পরগনায় নিয়ে গেলে ওই ব্যবসায়ী ও তার এক সঙ্গীকে অপহরণ করা হয়। চোখ বেঁধে একটি অজানা জায়গায় বন্দি করে রাখা হয় তাকে। তারপর মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে তার কাছ থেকে চাওয়া হয় ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ। যদিও শেষ পর্যন্ত রফা হয় ৬ লক্ষতে। বাংলাদেশ থেকে ওই ব্যবসায়ীর পরিজনরা মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর পর ব্যবসায়ী ও তার সঙ্গী ছাড়া পান। তবে তার আগে প্রচণ্ড মারধর করে স্ত্রীর গয়না কেনার টাকা ও ডলার লুট করা হয় বসির মোল্লার কাছ থেকে।

কোন মতে কলকাতায় ফিরে আসার পর ব্যবসায়ী এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। ইতিমধ্যে সেলিম নামে এক অপহরণকারীকে তিনি শনাক্তও করেছেন। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তার কাছে টাকা আছে জেনেই সেলিমরা তাকে অপহরণের ছক কষে। যদিও অভিযুক্তরা অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে তাকে অপহরণ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের ফরিদপুরের সদরপুর থানা এলাকার বাসিন্দা বসির মোল্লা কিছুদিন আগে স্ত্রীর জন্য গয়না কিনতে কলকাতায় আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন ইলিয়াস নামে এক যুবক। শিয়ালদহ এলাকায় তার সঙ্গে দেখা হয় সেলিম নামে পূর্ব পরিচিত এক বাংলাদেশি যুবকের। বসির, সেলিম ও ইলিয়াসের বাংলাদেশে কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে। সেই সূত্র ধরে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখেন। একসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যেও গিয়েছেন। তবে এখন সেলিম দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের কাছে থাকেন। সেলিম ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বসিররা শিয়ালদহের একটি শপিং মলে খাওয়াদাওয়া করেন। সেখানেই গল্প করার সময় বসির সেলিমকে জানান, তিনি গয়না কেনার জন্য শহরে এসেছেন। এরপরই তাকে অপহরণের ছক কষা হয়। সেলিম বসিরকে বলেন, তিনি উত্তর ২৪ পরগনার গুমায় একটি কাজে যাচ্ছেন। তাকে ও ইলিয়াসকে সঙ্গী হতে বলেন। হাতে বিশেষ কাজ না থাকায় ট্রেনে করে তারা রওনা দেন।

পরে হাবড়া স্টেশনের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি গাড়িতে তুলেই বসির ও ইলিয়াসের চোখ বেঁধে দেওয়া হয়। একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘরের ভিতর আটকে রাখা হয়। মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে বলা হয় বাংলাদেশে বাড়িতে ফোন করে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাইতে। না দিলে বেআইনি অস্ত্র কারবারে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এতে তারা গররাজি হলে দু’জনকেই লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে অপহরণকারীরা। বাধ্য হয়ে বাড়িতে তার বাবাকে ফোন করেন বসির। অপহরণকারীদের সঙ্গে তার বাবা মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দর কষাকষি করেন। শেষ পর্যন্ত ৬ লক্ষ টাকায় রফা হয়।

এরপর বাংলাদেশ থেকে ওই টাকা পাঠান বসিরের বাবা। যদিও টাকা হাতে পাওয়ার পরও বসিরের ঘড়ি, মোবাইল, সোনার আংটি এবং মানিব্যাগে থাকা ৪৫ হাজার টাকা ও সাড়ে সাত হাজার ডলার লুট করে দুষ্কৃতকরিরা। এরপর একজন দালালের হাতে দু’জনকে তুলে দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে বলে। দালাল তাদের স্টেশনে নিয়ে আসার পর বসির বলেন, এভাবে তাদের নিয়ে গেলে তারা বিএসএফকে পুরো বিষয়টি ফাঁস করে দেবেন। ভয় পেয়ে দালাল সরে যায়। আর শিয়ালদহ স্টেশনে নামার পরই এন্টালি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন বসির।

বর্তমানে সেলিম ও তার সঙ্গীদের সন্ধান পেতে হাবড়া, গুমা ও ক্যানিং-সহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এএইচ


oranjee