ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

কুমিল্লা সীমান্তপথে ভারতে পালাতে চেয়েছিলেন সম্রাট!

গ্লোবালটিভিবিডি ১:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

মোয়াজ্জেম হোসেন নাননু :বিশ্বস্ত সহযোগি আরমানকে নিয়ে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালাতে চেয়েছিলেন ক্যাসিনো কান্ডে আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। গত রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সম্রাটের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইমিগ্রেশন বিভাগ। দেশের স্থল ও বিমানবন্দরগুলোতে জারি করা হয় সতর্কতা। এর পর থেকেই যুবলীগের এ নেতা অবৈধপথে ভারত যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

গ্রেফতারের দুই দিন আগে ঘনিষ্ট সহযোগি আরমানকে নিয়ে তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুরে ঘনিষ্ট এক বন্ধুর বাড়িতে (চৌধুরী বাড়ি) ওঠেন। এখান থেকেই সুযোগ বুঝে ভারতে পাড়ি দেয়ার উদ্দেশ্য ছিলো সম্রাটের। কিন্তু তাঁর সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। রোববার ভোরে ঘনিষ্ট সহযোগি আরমানসহ যুবলীগ নেতা সম্রাটকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা। এর আগে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে র‌্যাবের বিপুল পরিমাণ সদস্য পুরো গ্রামটি ঘিরে ফেলে।

গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা গ্লোবালটিভিবিডিকে বলেছেন, রাজধানীর অবৈধ ক্যাসিনোগুলোতে অভিযান শুরুর পর থেকেই যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সম্রাটের জড়িত থাকার অভিযোগটি জোরেসোরে উচ্চারিত হয়। এর আগে ক্যাসিনোকান্ডে গ্রেফতারকৃতদের সকলেই যুবলীগের এ নেতার নাম বলেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে যুবলীগ নেতা সম্রাটকে গ্রেফতারে গ্রীণ সিগন্যাল দেয়া হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্মকর্তারা বলেন, তখন থেকেই মূলত পুরোপুরি নজরদারির মধ্যেই ছিলেন যুবলীগ নেতা সম্রাট। এর আগে তিনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও গোয়েন্দারা তাঁর সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

অবস্থা আঁচ করতে পেরে তিনি বিমানবন্দরের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরও সেখান থেকে ফিরে আসেন এবং বনানী ডিওএইচএসএর একটি বহুতল ভবনে ওঠেন। সরকারী নির্দেশনার পর এক মুহুর্তের জন্য তিনি (সম্রাট) নজরদারীর বাইরে ছিলেননা বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গ্লোবালটিভিবিডিকে জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গ্লোবালটিভিবিডিকে বলেছেন, গত বুধবার (২ অক্টোবর) ভোরে বনানী ডিওএইচএসএর ওই বাসা ছেড়ে নতুন গন্তব্যে রওয়ানা হন।

গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গোপনে তাঁর (সম্রাট) নতুন গন্তব্যের দিকে নজর রাখতে থাকে। ওই দিন (বুধবার) দুপুরের পর ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুরে ঘনিষ্ট বন্ধু মনির চৌধুরীর বাড়িতে ওঠেন। সেখান থেকেই সুযোগ বুঝে ভারতে পালানোর উদ্দেশ্য ছিলো যুবলীগ নেতা সম্রাটের। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের খুব কাছাকাছি থাকলেও ক্লোজ মনিটরিংয়ের মধ্যে ছিলেন সম্রাট। ওই কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে, রোববার দিনের যে কোনও সময় সহযোগি আরমানকে নিয়ে ভারতে পাড়ি জমানোর কথা ছিলো ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের। এতথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় র‌্যাব।

তাৎক্ষনিকভাবে র‌্যাব সদর দফতর থেকে স্থানীয় র‌্যাব-৭ এর কমান্ডিং অফিসারকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামটি ঘিরে ফেলার নির্দেশনা দেয়া হয়। ততক্ষণে র‌্যাব-১ এর একটি চৌকশ দল ঘটনাস্থলে রওয়ানা হয়। গভীর রাতে র‌্যা সদর দফতরের দলটি ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবলীগ নেতা সম্রাটকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। পরে ভোর ৫টার দিকে ওই বাসা থেকে ঘনিষ্ট সহযোগি ও যুবলীগ নেতা আরমানসহ ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

এদিকে চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, র‌্যাবের বিপুল সংখ্যক সদস্যরা গভীর রাতে ওই এলাকায় একটি বাড়ি ঘিরে রাখে। এসময় গ্রামের লোকজনকে ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া হয়নি। বিপুল সংখ্যক র‌্যাবের উপস্থিতিতির কারণে গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরণের আতংক সৃষ্টি হয়।

আলকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। তবে স্থানীয়রা তাকে ফোন করে ঘটনা সম্পর্কে বলেছেন।
প্রসঙ্গত আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ঢাকার জুয়াড়িদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

এর পর ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জিকে শামীম। গ্রেফতারের পর এ দুজনই পুলিশ রিমান্ডে জানিয়েছেন, অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। প্রকাশ্যে চলে আসে সম্রাটের ক্যাসিনোকান্ড।

এর পর গা ঢাকা দেন যুবলীগ নেতা সম্রাট। আড়ালে থেকেই গ্রেফতার থেকে বাঁচতে নানা তৎপরতা শুরু করেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কঠোর মনোভবের কারণে শেষমেষ গ্রেফতার হতে হলো যুবলীগের এ শীর্ষ নেতাকে।


এমএইচএন/আরকে


oranjee

আরও খবর :