ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

টোল আদায় করা হবে কোন মহাসড়কে?

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

দেশের চার লেনের মহাসড়কগুলোতে টোল আদায় হবে। এ লক্ষ্যে পরিকল্পনা তৈরি করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

জানা গেছে, কোন মহাসড়কে কত টোল ধরা হবে এবং তার আদায় পদ্ধতি নির্ধারণে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব তৈরি করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ফরিদপুর (ভাঙ্গা) ও জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বিবেচনায় রয়েছে।

গত মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলো টোলের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন, মহাসড়কগুলোতে টোল আদায় সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হবে। এছাড়া ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-ফরিদপুর (ভাঙ্গা) মহাসড়ক নির্মাণাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চার লেনের সড়কগুলোতে টোল আরোপের পরিকল্পনা আছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের পর কার্যকরের দিকে যাবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনটি মহাসড়কে টোল আদায় করা হচ্ছে। এ তিন মহাসড়কের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী টোলের হারেও ব্যবধান রয়েছে। এর মধ্যে নলকা-হাটিকামরুল-বনপাড়ার ৫০ কিলোমিটার সড়কে ২০০৩ সালের ১ মে থেকে টোল আদায় হচ্ছে। এ সড়কে ট্রেইলারে ১৯০ টাকা, হেভি ট্রাকে ১৫০ টাকা, বড় বাসে ৬০ টাকা, মাইক্রোবাসে ৩০ টাকা, ৩-৪ চাকার গাড়িতে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেলপ্রতি ৫ টাকা হারে টোল আদায় করা হয়।
২০০৫ সালের ১০ মার্চ থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর-শেরপুর অংশে (রুস্তমপুর টোল প্লাজা) টোল আদায় করা হয়। ৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কে ট্রেইলারে ২৮০ টাকা, হেভি ট্রাকে ২২৫ টাকা, বড় বাসে ৭৫ টাকা, মাইক্রোবাসে ৪৫ টাকা, ৩-৪ চাকার গাড়িতে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেলপ্রতি ৫ টাকা হারে টোল আদায় করা হয়।
২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে টোল আদায় চলছে চট্টগ্রাম পোর্ট একসেস রোডে। মাত্র ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ হওয়ায় এ সড়কে টোলের হার অনেক কম।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সূত্র জানায়, সড়কে টোল আরোপের আগে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বড় আকারের বৈঠক করতে হবে। এছাড়া মহাসড়কগুলোতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও স্থাপনা বসাতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা সড়ক রয়েছে। এছাড়া রাস্তার দুই পাশ দিয়ে অনেক সংযোগ সড়ক রয়েছে। একটি গাড়ি কোনো সড়ক দিয়ে এ মহাসড়কে উঠল, কোথায় যাবে তা শনাক্তের জন্য মহাসড়কে ব্যবস্থা রাখতে হবে। যে গাড়িটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবে আর যে গাড়িটি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম যাবে তা চিহ্নিত করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে।

তাছাড়া, টোল আদায়ের আগে মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে বাড়তি সুবিধা দিতে হবে। এজন্য মহাসড়কে ধীরগতি ও দ্রুতগতির গাড়ির জন্য পৃথক লেনের দরকার হবে। স্বল্পদূরত্বের গাড়ির জন্য পৃথক সার্ভিস লেনের প্রয়োজন হবে। তারা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চারলেন হলেও এ মহাসড়কের সঙ্গে আলাদা সার্ভিস লেন নেই। এ দুটি মহাসড়কে ধীরগতি ও দ্রুতগতির গাড়ি একই সঙ্গে চলাচল করে।

এমন পরিস্থিতিতে এসব মহাসড়কে শিগগিরই টোল আদায়ের কাজ শুরু করা সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এএইচ


oranjee

আরও খবর :