ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

সাতক্ষীরায় হাসপাতালে কেনাকাটায় লুটপাট: দুদকের মামলা

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে সাজানো টেন্ডারে শতভাগ সরকারি অর্থ লোপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) খুলনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন।

মামলায় সাতক্ষীরার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমানসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে দুদকের অনুসন্ধানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে সাজানো টেন্ডারে শতভাগ সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ মেলে। ১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার কার্যাদেশের মধ্যে ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকাই লোপাট করা হয়েছে।

বাকি প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ কেটে রাখা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হাসপাতালের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থও হাতিয়ে নেয় একটি চক্র।

যন্ত্রপাতি কেনাকাটার নামে ভুয়া রেজিস্টার দেখিয়ে আত্মসাতের রাস্তা তৈরি করেন সাতক্ষীরার তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান। তার তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারসহ ৮ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট নানা কৌশলে ওই হাসপাতালের কেনাকাটাসহ অন্যান্য খাতে এক বছরের জন্য সরকারি বরাদ্দের পুরোটাই গিলে ফেলে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিবিড় অনুসন্ধানে এসব তথ্য মিলেছে।

দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তারা বলেন, সাতক্ষীরায় সরকারি হাসপাতালে কেনাকাটার নামে প্রায় শতভাগ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে লোপাট করা হয়েছে।


জানা গেছে, সরকারি তদন্তে ওই হাসপাতালে ১৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে ১২ কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর বিষয়টিতে হাত দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের অনুসন্ধানে দুর্নীতির পুরো চিত্র বেরিয়ে আসে। এতে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে সাড়ে ১৬ কোটি টাকার বেশি লোপাট হয়েছে।

এই দুর্নীতির সঙ্গে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমানসহ ৯ জন জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর সঙ্গে জড়িত সিভিল সার্জন ছাড়া বাকি ৮ জনের মধ্যে একই পরিবারের চারজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

এএইচ


oranjee