ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বিষয় :

ঢাকা

  • টিসিবির পণ্য বিক্রিতে ডিলারদের অনাগ্রহ
  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় ধান, গম ও চাউল সংগ্রহ অভিযানের উদ্ধোধন 
  • জমতে শুরু করেছে কুষ্টিয়ার ঈদ বাজার
  • দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক : শ্রমের ফসল মিশিয়ে দিলেন জমিতেই
  • কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু
  • হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পণ্য
  • বাংলা টিভির ৩য় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মৌসুমি ফলের ম-ম গন্ধে জমজমাট হয়ে উঠছে ফলের বাজার

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯

ফাইল ছবি

খুলনা প্রতিনিধি: চারদিকে মধুফলের ম ম গন্ধ। ফলের গন্ধে সহজে অনুমান করা যায় জ্যৈষ্ঠ মাস এসে গেছে। আজ জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু। সুস্বাদু ফলের অধিক সরবরাহ থাকায় সবার কাছে মাসটি মধুমাস নামেই পরিচিত। এ মাসের অপর নাম মধুমাস। হাট বাজার, অলিগলিসহ চারদিকে মধুফলের ম ম গন্ধ। বছরজুড়ে কম বেশি ফল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এ জ্যৈষ্ঠ মাসে। ষড়ঋতুর এদেশে রোদ তেতে ওঠা জ্যৈষ্ঠে তৃষ্ণার্থ মানুষ পিপাসা মেটায় বিভিন্ন প্রজাতির রসালো ফল দিয়ে।

মধুফলে এবার মধুবিষ না থাকায় মাছি ও মধুপোকার উপদ্রব বেড়েছে। মধুফলে বিষ দেয়া হলে সাধারণত মাছি ও পোকা মাকড় এতে বসে না। আর সাধারণ মানুষ এসব বিষ মাখানো ফল খেয়ে আক্রান্ত হন আমশায়, পেটের পীড়া, জন্ডিস, ডায়রিয়া, লিভার রোগসহ নানা অসুখে। এ কারণে এবার সরকার মধুফল সংগ্রহে বাগান পর্যন্ত নজরদারি করেছে। এ কারণে ভোক্তা পর্যায়ে এবার মধুবিষ ছাড়াই ফল আসতে শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, মধুবিষকে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বিষ মিশ্রিত ফল খেলে সহজে হজম হয় না। সরকারের একাধিক সংস্থার সূত্রে জানা যায়, মধুফলে মধুবিষ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনওদের প্রয়োজনীয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ফল বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, এবছর সরকার আগেভাগে গাছের থেকে ফল পাড়তে নিষেধ করায় এবং কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া ফরমালিনমুক্ত আম সহ বিভিন্ন মৌসুমী ফল পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য ক্রেতারাও ফল কিনছেন বেশি এবং আমরাও লাভবান হচ্ছি। তবে প্রতিটি ক্রেতারা এসে আগে খোঁজে ফলের উপরে মাছি পড়ছে কিনা। আর এই মাছি না পড়লে ফরমালিন বলে ফল কিনছে না।

জ্যৈষ্ঠ বাংলা বছরের দ্বিতীয় মাস। এর দ্বারা গ্রীষ্মের সমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ ব্যবস্থা ও গাছপালার কারণে মধুমাসে বিভিন্ন রকমের ফল পাওয়া যায়। গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে দোল খায় সিঁদুর রাঙা আম। দাবদাহের তৃষ্ণার্থ প্রাণকে শীতলতার পরশ বুলিয়ে দেয় গ্রীষ্মের ফুটি, বাঙ্গি, তরমুজ। পাওয়া যায় জাতীয় ফল কাঁঠাল। এছাড়া লিচু, কালো জাম, ক্ষুদিজামে বাজার এখন সরগরম। বাজারে আরও পাওয়া যাচ্ছে রসে ভরা আনারস, আমলকি, আতা, করমচা, জামরুল, বেল, গাব ইত্যাদি ফল। পাকা তাল না পাওয়া গেলেও বাজার এখন ভরে গেছে কাঁচা তালে। অনেকেরই প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে কাঁচা তালের শাঁস। বিভিন্ন প্রজাতির এসব ফলের স্বাদে রয়েছে ভিন্নতা। কোনটা টক, কোনোটা মিষ্টি, কোনোটা নোনতা আবার কোনোটা পানসে।

খালিশপুর চিত্রালীবাজারের স্থানীয় মৌসুমী ফল বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, এবছর আকার ভেদে পাকা কাঁঠাল প্রতিটি ৮০ থেকে ৩০০ টাকা। আনারস প্রতি হালি আকার ভেদে ৫০ থেকে ১২০ টাকা। লিচু আঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা । আম গোপারভোগ ৭০-১০০ টাকা গুটি আম ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুলনার বাজারে । ক্রেতারা জানান, সেই রসে টইটম্বুর মধুফলে সয়লাব হয়ে গেছে বাজার থেকে অলিগলি পর্যন্ত। একাধিক ক্রেতা জানান, মধুফলে বাজার সয়লাব হতে শুরু করেছে। বছরের ফল হিসেবে সকলের আগ্রহ বেড়েছে।

শিশুর জন্য ফল কিনতে আসা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন জানান, তার পুত্র বায়না ধরেছে আম এবং লিচু দিতে হবে। নয়ত রাতে সে পড়তে বসবে না। শিশুর বায়নার কারণে বাজারে এসেছি ফল কিনতে। বাজারে ফল এলেও অন্য বছরের মত এখনো সয়লাব হয় নি। তিনি জানান, হয়ত সরকারের পদক্ষেপের কারণে অপরিপক্ক ফল সংগ্রহ করতে না পারায় বাজারে বিষ দিয়ে পাকানো ফল বাজারে আসেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবাসায়ীরা রাতারাতি মুনাফা অর্জনের জন্য গত কয়েক বছর ধরে মধুমাসের আগেই বিভিন্ন প্রকার বিষ দিয়ে ফল পাকানোর কাজ করা হতো। তখন মধুফল পেতে মধুমাসের জন্য অপেক্ষা করতে হতো না। মধুমাস শুরুর অনেক আগে থেকে বাজারে পাওয়া তে সব ধরণের মধুফল। শুধু মধুমাস বলে নয়, পুরো বছরে প্রতিটি ফলের সময়ে বিষ দিয়ে পাকানো ফল আগাম বাজারে আসতো। আর তা চড়া দামে বিক্রি করতো ব্যবসায়ীরা। এবার এখনো কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে তা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে। অন্যথায় আবারও মধুবিষ মাখানো ও পাকানো ফল খেতে হবে ক্রেতাদের।

 

 

 এমএকে/আরকে


oranjee