ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ে শান্তিতে ফেনীবাসী

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

ফেনী প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় লাভ করেছে। সারা দেশের ন্যায় ফেনীর তিনটি আসনেও মহাজোটের প্রার্থীরা ইতিহাসের স্মরণকালে সবচেয়ে বড় বিজয় অর্জন করেছে। ফেনীকে বলা হতো বিএনপির ঘাঁটি, সেই ঘাঁটি এখন শেখ হাসিনার নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিণত হয়েছে।

ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া) উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ২৬৫ গঠিত। এখানে দীর্ঘদিন পর নৌকার প্রার্থী জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল আলম মজনুকে পরাজিত করেছেন।

ফেনী-২ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনকে (ভিপি জয়নাল) ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী।

ফেনী-৩ (দাগনভূইয়া-সোনাগাজী) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা লেঃ জেঃ (অবঃ) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই ও দাগনভূইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন।

অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনের পরে ফেনীতে সহিংসতা, জ্বালাও, পোড়াও ও অশান্তি বিরাজ করতো, এবার নৌকা যেতায় মানুষ শান্তিতে আছে বলে দাবি করে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে শহরের ছোট বড় সকল ব্যবসায়ী ও রিকশা চালকরা। তারা বলেন, আমরা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরে দেখতাম যে দল পরাজিত হতো, ওই দলের কর্মীরা পুরো জেলাতে দোকানপাট, রাস্তাঘাটে অশান্তি সৃষ্টি করতো। এবার আওয়ামীলীগ ফেনীর তিনটি আসনে যেতায় সেইরকম কোন অশান্তি সৃষ্টি হয়নি।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতা এলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকে। তিনি ছাড়া দেশের মানুষের শান্তির কথা কেউ চিন্তা করে না। এর আগে বিএনপি সরকারের আমলে দেশের সন্ত্রাসে ত্রাস সৃষ্টি হতো। বর্তমানে শান্তির নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বাধীন দেশের মানুষ আজ কত শান্তিতে আছে। তারই ধারাবাহিকতায় ফেনী জেলাতে আমরা কোন সন্ত্রাসকে প্রশ্চয় দেয়নি। ফেনীর মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে থাকতে পারে এবং ব্যবসায়ীরা অবাধে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর জন্য ফেনীতে নির্বাচনের পরবর্তী কোন সহিংসতা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়নি।

নিজাম উদ্দিন হাজারী আরও বলেন, উন্নয়নের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত করে বিএনপি থেকে শুরু করে কোন দল উন্নয়নের কথা চিন্তা করে না এজন্য শেখ হাসিনার সরকারের কোন বিকল্প নেই। গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরেছেন। দেশের মধ্যে কোন জ্বালাও পোড়াও নেই। তিনি শক্ত হাতে সব কিছু দমন করেছেন। দেশের মানুষ আজ স্বস্তিতে আছে, শান্তিতে আছে। ভোটকেন্দ্র পাহারার নামে বিএনপি যে ভয়ভীতি দেখিয়েছে তা লাভ হয়নি। জনগণ শান্তিতে থাকার জন্য নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে।

এদিকে ফেনী যুবলীগের সহসভাপতি ও ফেনী পৌর প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশে অন্য কোন সরকার দৃশ্যমান উন্নয়ন করেনি।

ফেনী মহিপালে দেশের প্রথম ছয় লেইনের ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে শেখ হাসিনার সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও শান্তির ধারা ফেনীতেও বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, ফেনীবাসী আজ শান্তিতে ব্যবসা বাণিজ্য ও অবাধে চলাফেরা করতে পারে। যা আগে বিএনপি ক্ষমতা থাকার সময় সম্ভব হতো না। এজন্য ফেনীবাসী ফেনীর তিনটি আসনে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। আমি আশা করি আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে গত এক দশকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশবাসী এ উন্নয়নের কথা চিন্তা করে এবার নৌকাকে ইতিহাসের স্মরণকালের গণরায় দিয়েছে। তিনি বলেন, বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশের সকল সেক্টরে যে উন্নয়ন করেছেন, তা দেশের মানুষ ভুলেনি বলেও নৌকার পক্ষে এ গণরায়। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নসহ দক্ষিণ এশিয়ায় সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল আরো বলেন, ফেনীর মানুষ শান্তি প্রিয় তাই তারা অশান্তির নেত্রী বেগম জিয়ার জন্মস্থান হওয়ার সত্ত্বেও তার এলাকার মানুষ তার দল বিএনপিকে আর চায়নি।

একেএ/এমএস

 


oranjee