ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

জাতীয় পার্টি এভাবে মহাজোটের শরিক হয় কি করে!

সৈয়দ নূর-ই-আলম ৯:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

সংগৃহীত ছবি

শেষ মুহুর্তে এসে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কি কাণ্ডটাই না ঘটালেন। কাণ্ড ঘটানোই যার নিত্য কাজ তিনি আবার নতুন কি আর করবেন- এমন কথা প্রচলিত থাকলেও সাম্প্রতিক বিষয়টা রীতিমতো সব হিসাবকেই হার মানায়। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের শরীক হিসেবে আসন ভাগাভাগি করে নেওয়ার পর আবার দলের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টা এমন হয়ে গেল যে, নির্বাচনে তৃতীয় সারির দল জাতীয় পার্টি যেন মহাজোট ও আওয়ামী লীগের উপর চেপে বসতে চাইছে।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার সরকার পতনের মধ্য দিয়ে এরশাদ সরকারের পতন হলেও হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদ ঠিকই থেকে গেছেন জাতীয় রাজনীতিতে। জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর দেশের সেনাশাসন জারি করে রাষ্ট্রপতি বনে যাওয়া এরশাদের শাসনামলে অনেক অকল্যাণ কাজের পাশাপাশি কিছু কল্যাণমূলক কাজও করে গেছেন মানুষের জন্য। সেই কাজকে পুজি করে নব্বই পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথাকথিত তৃতীয় শক্তি হিসেবে রাজনীতিতে নানা খেলা খেলে যাচ্ছেন এরশাদ। কখনো আওয়ামী লীগ কখনোবা বিএনপির সহযোগী হিসেবে রাজনীতিতে পথ চলতে চলতে এ পর্যন্ত এসেছেন এরশাদ ও তার দল। সর্বশেষ সওয়ার হয়েছেন মহাজোট ও আওয়ামী লীগের ঘাড়ে।

দেশে যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল নির্বাচনের জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন জাতীয় পার্টি যেটি কিনা প্রথম জোটের (মহাজোট) শরিক তারা নতুন চাল খেলে দিয়েছে। আসন ভাগাভাগিতে মহাজোট জাতীয় পার্টিকে ২৬টি আসন দিলেও এতে সরাসরি আপত্তি করেনি দলটি। পরের তারা যে পদক্ষেপটি নিয়েছে সেটি মহাজোটের শরীক হিসেবে মোটেও করা উচিৎ ছিল না বলে বোদ্ধামহল মনে করে। মহাজোটে থেকে আসন পেয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে জাতীয় পার্টি মোট ১৫০ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। যেটি নিয়ে মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য দলগুলোর নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু শেষ মুহুর্তের এমন ছলনার আশ্রয় নেওয়ায় কৌশলগত কারণে সরাসরি কিছু বলতে পারছে না মহাজোটের নেতারা। যেহেতু জাতীয় পার্টি একটি নিবন্ধিত দল তাই তারা আলাদাভাবে নির্বাচন করতে পারে- এই সূত্রের উপর ভর করে জোটের সমঝোতাকে তোয়াক্কা না করে মহাজোটের শরিক হিসেব আসন ভাগাবাগির পরও আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক ভাষায় পরিস্থিতির ফায়দা উঠানো বোঝায়, যেটা জাতীয় পার্টি করছে।

ভোট বিবেচনায় সংখ্যাটা খুব বেশি না হলেও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এক একটা ভোট মূল্যবান বিধায় জাতীয় পার্টির এমন অবস্থানকে হঠকারী হিসেবে মনে করছেন জোটের অন্য শরিকরা। শরিক দলগুলোর একাধিক নেতাদের মতে, ভোটযুদ্ধে নিজেরা না পেরে উঠলেও মহাজোটকে বিভিন্ন জায়গায় বিরক্ত করার জন্য এমনকি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কঠিন পরিস্থিতি করে তোলার জন্য জাতীয় পার্টি এমনটা করছে। এটা যেমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করছে আবার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোবল যোগাচ্ছে বলে মহাজোটের শরিক দলের নেতারা ও সুশীল সমাজ মনে করছেন।

 

এসএনএ

 

 


oranjee