ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ ১৪২৫

 
 
 
 

বিষয় :

ঢাকা

  • বিএনপির অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি : ইসি সচিব
  • ‘খামোশ’ বললেই জনগণ চুপ হবে না : প্রধানমন্ত্রী
  • ১৩০০ ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব প্রদান ইসির
  • ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই এ হামলা : ঐক্যফ্রন্ট
  • নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ : কাদের
  • তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সিইসির বক্তব্য সন্দেহজনক: রিজভী
  • জাতীয় পার্টির ১৮ দফা নির্বাচনী ইশতেহার

মুজিব আদর্শের সুলতান মনসুর কি এবার ধানের শীষে বিজয় আনতে পারবেন?

গ্লোবালটিভিবিডি ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৮

ফাইল ছবি

এবার ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে লড়বেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি মুজিব আদর্শের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। এ আসনে কখনো জয়ী হতে পারেনি ধানের শীষ প্রতীক। এমনকি কখনো তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আসতে পারেনি বিএনপির কোনো প্রার্থী। বরং ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে এ আসনে দুইবার জামানত হারিয়েছে বিএনপি। এবার সে আসনেই লড়বেন মনসুর আহমেদ।

এলাকার ভোটাররা বলছেন, এবার ধানের শীষে নতুন ইতিহাস গড়বেন আওয়ামী লীগের সাবেক এ এমপি। তাছাড়া এ আসনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে এখানে সব সময় এগিয়ে থাকে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা।

১৯৯৬ সালে সুলতান মনসুর নৌকা প্রতীক নিয়ে এখান থেকে এমপি হয়েছিলেন। যা ছিল নৌকার সর্বশেষ জয়। এরপর কখনো জয় পায়নি নৌকা। কখনো জিতেনি ধানের শীষ। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত একদলীয় নির্বাচনে ধানের শীষের জয় দেখানো হলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তা স্বীকৃতি পায়নি।

কখনো জয় না পাওয়া এ আসনে সুলতান মনসুরের ওপর ভর করে এবার ধানের শীষ চমক দেখাতে পারে এমনটি বলছেন স্থানীয় ভোটাররা। কারণ সুলতান মনসুরের ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর ভর করে এখানের মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে প্রথম নির্বাচনে আসে বিএনপি। সে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে সৈয়দ আকমল হোসেন তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান নির্বাচনে আসলেও মাত্র পাঁচ হাজার ভোট পেয়ে জামানত হারান।

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত একদলীয় নির্বাচনে ধানের শীষের জয় দেখানো হলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তা স্বীকৃত নয়। ১৯৯৬ সালে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে আসেন মকসুদ শাহীন। কিন্তু এবারও তৃতীয় হন তিনি।

২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে চারদলীয় জোট থেকে ড. শফিকুর রহমান নিবার্চন করে জামানত হারান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করেন এনএম আবেদ রাজা। সেবারও ধানের শীষ তৃতীয় অবস্থান থেকে উন্নতি করতে পারেনি। ফলে এ আসনে কোনোদিন জয়ের মুখ দেখেনি ধানের শীষ। সর্বশেষ ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি।

২০০৮ সালে মৌলভীবাজার-২ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আবেদ রাজা বলেন, সুলতান মনসুরের পক্ষে সাধারণ মানুষের মাঝে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে; তাতে নিশ্চিত বুঝা যায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবেন মনসুর ভাই।

কুলাউড়ার রাউতগাও ইউপির চেয়াম্যান আব্দুল জলিল বলেন, সুলতান মনসুর এমপি থাকা অবস্থায় কুলাউড়ায় যে উন্নয়ন করেছেন তা কেউ কখনো করতে পারেননি। যার কারণে সাধারণ মানুষ সুলতানকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবেন। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার সারাদিন কাটে, তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, তারা এখানে সুলতানকেই চান।

এক্যফ্রন্ট ছাড়া অন্যান্য দল এবং জোটে আছে সুলতান মনসুরের গ্রহণযোগ্যতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, এককথায় সুলতান মনসুর একজন ভালো মানুষ। ভালো মানুষ হিসেবে সুলতান মনসুরের গ্রহণযোগ্যতা সবার ওপরে। শুধু বিএনপির নয়; অন্যান্য দলেরও ভোট টানবেন সুলতান মনসুর।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, উনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে দলমত সবাই সম্মান করে। এলাকায় ওনার ইমেজ পরিষ্কার। এখানের মানুষ ভোট দেয় প্রার্থী দেখে, প্রতীক দেখে নয়। এবার ধানের শীষে নতুন ইতিহাস গড়বেন মনসুর সাহেব।

এমএস


oranjee

আরও খবর :