ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

শীত আসছে: নিতে হবে শরীরের বিশেষ যত্ন

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

শীত আসছে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই শীতের পোশাক পরতে শুরু করবেন অনেকেই। আর শীতকাল মানেই পিকনিক, বেড়ানো, ব্যাটমিন্টনের বহু প্রতিক্ষীত সময়। কিন্তু, এই আমেজের ছন্দ কাটে বেশ কয়েকটা ছোটোখাটো শারীরিক সমস্যায়। আর এই বেসুরো সমস্যাগুলোর অন্যতম হলো ত্বক এবং চুলের সমস্যা।

এছাড়াও, শীতে আমাদের প্রায় সবারই আরও কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন-

১. ইকথায়োসিস। এতে হাঁটু থেকে পা পর্যন্ত এমনকি সর্বাঙ্গ শুকিয়ে খোসার মতো আঁশ উঠতে থাকে। সারা বছর থাকলেও এর প্রকোপ বাড়ে শুষ্ক শীতকালেই।

২. সেনাইল জেরোটিক প্রুরাইটাস। এতে সারা গা শুকিয়ে চুলকানির তৈরি হয়। চল্লিশোর্ধ্বদের এই সমস্যার ঝুঁকি বেশি।

৩. সোরাইসিস বা সোরিওসিস-এর সমস্যা। এই রোগে মাথা, হাঁটু, কনুই-সহ সারা শরীরে মাছের আঁশের মতো খোসা ওঠতে থাকে।

৪. যে সব শিশুর অ্যাটোপিক ডার্মাটাইসিস (এগজিমা) রয়েছে, তাদের এই রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে শীতে।

৫. এ ছাড়াও শীতকালে উলের পোশাক অর্থাৎ সোয়েটার, মাফলার, টুপি ইত্যাদি থেকে অ্যালার্জির সমস্যা হয়। আসলে সিনথেটিক উল সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এসে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে।

৬. খুশকির সমস্যা। শীতকালে নিয়মিত গোসল না করায় মৃত কোষ এবং ধূলিকণা জমে যায় চুলের গোড়ায়। এর থেকে খুশকির সমস্যা বেড়ে গিয়ে অত্যধিক পরিমাণে চুল উঠতে থাকে।

এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক শীতকালীন এইসব স্বাস্থ্যসমস্যার সমাধান:

১. শীতকালে যারা বিশেষ সমস্যায় ভোগেন, শীতের গোড়াতেই তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

২. প্রথমেই খেয়াল রাখুন যাতে সবসময় আপনার ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকে। গোসলের আগে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাখুন।

৩. শীতকালে গোসলের সময় বেশি সাবান ব্যবহার না করাই ভাল। এ ক্ষেত্রে সিনথেটিক ডিটার্জেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এই ধরনের সাবানে চামড়ার ওপর থেকে তেলের স্তর উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। শীতকালে জীবাণুনাশক সাবান একেবারেই ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বকের ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

৪. গোসলের পরে এবং রাতে ঘুমানোর সময় অন্তত দু’বার ময়েশ্চরাইজার মাখুন।

৫. ঠোঁট ফাটার সমস্যায় ভেসলিন ব্যবহার করুন।

৬. প্রচুর পরিমাণে পানি খান, এর ফলে শরীরের আদ্রতা বজায় থাকবে।

৭. সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। সপ্তাহে অন্তত তিনবার শ্যাম্পু করুন। প্রতিদিন গোসেল করুন। এ ক্ষেত্রে মাথায় সরিষার তেল না দেওয়াই ভাল।

৮. বৃদ্ধ ও শিশুদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, তাদের সহজেই ঠান্ড লাগে। সেজন্য তাদের ব্যাপারে বিশেষ যত্নশীল থাকতে হবে সবাইকে। তাদের শরীরে তেল মালিশ করে হালকা রোদে বসানো যেতে পারে।

৯. সুতির পোশাক ব্যবহার করুন, উলের পোশাক সরাসরি না ব্যবহার করাই ভাল। হালকা সুতির জামার ওপর উলের পোশাক ব্যবহার করা উচিত।

১০. বেশি করে ফল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ শাকসবজি খান।

এএইচ


oranjee