ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

আজ পাবনা মুক্ত দিবস

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮

দুর্জয় পাবনা। ছবি: আমিনুল ইসলাম জুয়েল

পাবনা প্রতিনিধি: আজ ১৮ ডিসেম্বর পাবনা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার মুক্ত হয় পাবনা। এই দিনে তৎকালীন পাবনা কলেক্টরেট ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পাবনা জেলাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষ যখন বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছে, তখনও পাবনা শহরে চলছিল পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ। ১৮ ডিসেম্বর পাবনা হানাদার মুক্ত হওয়ার আগে ১৪ ডিসেম্বর দুপুর থেকে পাক-বাহিনীর সঙ্গে মুক্তি বাহিনীর যুদ্ধ শুরু হয়। ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ২টা থেকে মিত্র বাহিনী পাবনা শহরে মর্টার শেল ও বিমান হামলা চালাতে থাকে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনী চতুর্দিক থেকে পাবনা শহর ঘিরে ফেলে আক্রমণ চালায় পাক-হানাদার বাহিনীর উপর। উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ। ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর চতুর্মুখী আক্রমণে পাক সেনারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং পাবনা ছেড়ে দলে দলে পালিয়ে যায়। এ সংবাদে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষ ঘর ছেড়ে বাড়ির বাইরে এসে উল্লাসে ফেটে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আনন্দের বাহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

মুলতঃ এ দিনই পাবনার মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ উপলব্ধি করে। মুক্তিযোদ্ধারা শহরে এসে সমবেত হতে থাকে। পরে পাবনা কালেক্টরেট ভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে তৎকালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য আমজাদ হোসেন পাবনা জেলাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন। সে সময় উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর পাবনার তৎকালীন মুক্তিবাহিনী প্রধান রফিকুল ইসলাম বকুল, জাতীয় পরিষদের সদস্য আব্দুর রব বগা মিয়া, এডভোকেট আমিন উদ্দিন, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, নুরুল কাদের খানসহ হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ।

পাক বাহিনীর নির্মমতার সাক্ষি হিসেবে পাবনায় এ পর্যন্ত ৪১ টি গণকবর আবিস্কৃত হয়েছে। বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নিদর্শন হিসেবে যুদ্ধের ২৮ বছর পর ১৯৯৮ সালে কালেক্টরেট ভবনের সামনে ‘দুর্জয় পাবনা’ নামে একটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

 

এআইজে/এএইচ/এসএনএ


oranjee