ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

কিশোরগঞ্জ বড়ইতলা গণহত্যা দিবস আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

শাহ্জাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বড়ইতলা গ্রামে আজ ১৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক বড়ইতলা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কিশোরগঞ্জে সংগঠিত হয় ইতিহাসের ভয়ানক নৃশংসতম গণহত্যা। ঐ দিন পাকিস্তানি বাহিনী একসঙ্গে একই স্থানে হত্যা করে প্রায় ৩৬৫ জন নিরীহ মানুষকে। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় বেশ কয়েকটি গ্রাম। ৪৮ বছর আগের বিভীষিকাময় দিনটির কথা মনে হলে আজও শিউরে উঠেন এলাকার প্রবীণ মানুষগুলো।

‘দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব এ বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধিস্থলে’- শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে খোদাই করা কবিতার এ দুটি লাইন, বেদনাময় সেই রক্তাক্ত দিনটির কথা মনে করিয়ে দেয়। আর এভাবেই প্রতিবছর দুঃস্বপ্নের মতো কিশোরগঞ্জের যশোদল ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রামে ফিরে আসে ১৩ অক্টোবর। সেদিন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে কারবালা হয়েছিল এলাকাটি। কয়েকশ মানুষকে হত্যা করে উল্লাস করেছিল হানাদার বাহিনী। বছর ঘুরে দিনটি ফিরে এলে সেই দুঃসহ স্মৃতি কাঁদায় স্বজনহারাদের।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী জানান, একাত্তরের ১৩ অক্টোবর সকালে পাকসেনাদের একটি ট্রেন এসে থামে বড়ইতলা গ্রামের কাছে। ট্রেন থেকে নেমে তারা স্থানীয় রাজকারদের নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে একটি সমাবেশ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় এক পাকসেনা দলছুট হয়ে পড়ায় রাজাকাররা গুজব রটিয়ে দেয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর পরই হিংস্র পশুর মতো নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। বড়ইতলা, চিকনিরচর ও দামপাড়াসহ আশপাশের এলাকার পাঁচ শতাধিক লোককে ধরে এনে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেল লাইনের পাশে জড়ো করে তারা। এক পর্যায়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় প্রায় ৩৫০/৩৬৫ জনকে। এ সময় আহত হয় আরো প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি।


এলাকাবাসী জানান, যশোদল ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের মানুষ এই হত্যাযজ্ঞের শিকার হলেও তারা আজও পাননি শহীদের মর্যাদা। স্বজনহারাদের দেওয়া হয়নি কোনো সান্ত¦না।

এদিকে শহীদদের স্মরণে এলাকায় নির্মিত স্মৃতিসৌধটিও অযতœ-অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। এইসব শহীদের নাম দুটি স্তম্ভে লেখা হলেও তা মুছে গেছে অনেক আগেই। অনেকের অভিযোগ এ তালিকাটিও অসম্পূর্ণ। এসব নিয়ে আক্ষেপ, ক্ষোভ ও হতাশার শেষ নেই এলাকাবাসীসহ নতুন প্রজন্মের যুবকদের।

কিশোরগঞ্জের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার মো: আসাদুল্লাহ, ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, গণহত্যার শিকার লোকজনকে শহীদের মর্যাদা, তাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটির সংস্কার ও স্থানীয় রাজকারদের বিচার এবং সেই সাথে দিনটিকে সরকারিভাবে পালনের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এসএস/এমএস

 

 


oranjee