ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

পাকিস্তানের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে দ্বারস্থ হচ্ছে জাতিসংঘ

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৫১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০১৯

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রিভেনশন অব জেনোসাইড বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ রোববার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যায় পাকিস্তানের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামের দ্বারস্থ হচ্ছে জাতিসংঘ। এর ফলে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হবে পাকিস্তানকে।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও স্পেশাল অ্যাডভাইজার অন প্রিভেনশন অব জেনোসাইড অ্যাডামা ডিয়েং রোববার (২৫ মার্চ) ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে বলেছেন,‘আমরা একাত্তর সালে বাংলাদেশে গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সামনে তুলে ধরব। তখন হয়তো কিছু দেশ এর বিরোধিতা করতে পারে।’

একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করে।

জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ পালন করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর নির্বিচারে গণহত্যার বিষয়টি। একারণে কয়েক বছর ধরেই ২৫ মার্চের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও এই দিনকে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, গণহত্যার স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। যেসব দেশের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে রুয়ান্ডা, আর্মেনিয়া ও লিখটেনস্টাইন। এই তিনটি দেশেই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা চাই বেশি সংখ্যক রাষ্ট্র বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণহত্যার স্বীকৃতি দেবে, সহমর্মিতা জানাবে। গণহত্যা প্রতিরোধ করা নিয়ে জাতিসংঘে এখন যে কাজ হয়, সেখানে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিবদমান রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীগুলোকে বোঝানো হবে।’

জানা গেছে, একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে দুই বছর ধরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে বিষয়টি তুলে ধরছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লি ও ভুটানের থিম্পু সফরের সময় একাত্তরে গণহত্যার প্রসঙ্গটি তোলেন। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে বাংলাদেশকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ঢাকা সফরের সময় একই রকম আশ্বাস দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।

তবে কূটনীতিকদের ব্যর্থতার কারণে ২৫ মার্চের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসেনি বলে রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা জাতিসংঘে একটা নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করার চেষ্টা করব। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ আছে। সেই প্রেক্ষাপটে আমরা হঠাৎ করে প্রস্তাব উত্থাপন করে যথেষ্ট সমর্থন না পাওয়ার চেয়ে এখন যেটা করছি (গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা), সেটা আগামী কয়েক বছর ধরে করে যাব। আমাদের চেষ্টা থাকবে যত বেশি সম্ভব সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে পক্ষে নেওয়া। সেই কাজগুলো করে যখন আমরা একটা পর্যায়ে পৌঁছাব, তখন আমরা এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা অবশ্যই চিন্তা করব।’

২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণার ব্যাপারে প্রস্তাব তোলেন জাসদের সাংসদ শিরীন আখতার। আলোচনার পর প্রস্তাবটি সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। সংসদের প্রস্তাবে আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

২৫ মার্চের সেই কালরাতে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় রাত। বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই রাতে আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এবার সেই বর্বর পাকিস্তানের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামের দ্বারস্থ হচ্ছে জাতিসংঘ।

এমএস


oranjee