ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটি সুরক্ষা হলো যেভাবে

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০১৯

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ধারণ করেছিলেন তখনকার সরকারি ফিল্ম ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক জি.জেড.এম. এ মুবিন। ফিল্ম ডিভিশনের প্রধান আবুল খায়েরের নির্দেশে পাঁচজন সহকারি নিয়ে তিনি ৭ই মার্চ সকালে হাজির হন রেসকোর্স ময়দানে।

ডিএফপির সাবেক সহকারী পরিচালক জি.জেড.এম. এ মুবিন বলেন, ‘৬ মার্চ আমি আর ফরহাদ সাহেব গেলাম শেখ সাহেবের বাসায়।’

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘তুই ফিল্ম করবি। আমি তা চাই।’ আমি বললাম, ‘স্যার আপনি যখন মেইন কথাটা বলবেন, সেটা যাতে আমি পাই।’

তিনি বললেন, ‘বল কি করলে পাবি তুই, তোকে এটা পেতে হবে।’

তখন আমি বললাম, ‘স্যার আমি তখন বাঁ হাতটা তুলবো।’

মুবিন জানান, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুরু হওয়ার কথা ছিল বিকাল ৩টায়। শুরু হয়েছে আধঘণ্টা পর। লক্ষ জনতার সমুদ্র সেদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ পাওয়ার। অনুষ্ঠান শেষে ভাষণটির একটি কপি নিয়ে ধানমণ্ডির ৩২ নাম্বারের বাসায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি সাথে ছিলেন আবুল খায়ের।

মুবিন বলেন, ‘আমাদের রেকর্ডার রাখা আছে স্টেজের ওপরে। বসে আছেন খায়ের সাহেব রেকর্ডারটি নিয়ে। যাতে কারো হাত লেগে নষ্ট না হয়, রেকর্ডে সমস্যা না হয়।’

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ধারণ করা ভাষণটি রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেন মুবিন। প্রথমে তা রাখেন তখনকার প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুস সাত্তারের বাসায়। এর কিছুদিন পর সেটি রাখেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তার এক শ্বশুর বাড়িতে। সব শেষ সেটি তার নিজ অফিসেই সংরক্ষণ করেন।

মুবিন বলেন, ‘হঠাৎ বঙ্গবন্ধু বললেন- আচ্ছা এই যে তোরা রেকর্ডিং করলি, এখন এটা তোদের কাছে থাকবে অফিসে। যদি আর্মির লোকেরা এসে তোদের কাছ থেকে নিয়ে চলে যায়। তাহলে তো সব গেল। এখান থেকে সরিয়ে রাখ।’ এরপর ফিল্মটা এবং টেপটা একটা ছোট বাক্সের মধ্যে ভর্তি করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে। আমাদের ওখানে থিয়েটার হল ছিল। সেখানে ছবি আঁকতো। স্ক্রিপ্ট ছিল। স্ক্রিপ্টের পিছনে লুকিয়ে রাখলাম। কেউ জানলো না।  

৭ই মার্চের ভাষণের টেপ রেকর্ডারের ভাষণটি সংরক্ষণ করার বিষয়টি শুধু চিত্রগ্রাহক জি.জেড.এম. এ মুবিন ও তৌহিদ বাবু নামে তার এক সহকারী জানতেন।

মুবিন বলেন, ‘এরপর প্রথমে দিলাম টেলিভিশনে। তখন টেলিভিশন প্রচার করলো। বঙ্গবন্ধু দেখে খুব খুশি হলেন। তিনি বললেন, ফিল্মটা রক্ষা করতে পারছিস। ফিল্ম আছে?’ 

আমি বললাম, ‘স্যার ওটা আছে, আপনার কোন চিন্তা নেই। এভাবে আমরা ফিল্মটাকে রক্ষা করেছিলাম।’

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভাষণের একটি কপি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনকে দেন এবং অপর একটি দেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে। 


প্রতিবেদক: আনিসুর রহমান
অনুলিখন : মাহতাব শফি


oranjee