ঢাকা, সোমবার, ১৮ মার্চ ২০১৯ | ৪ চৈত্র ১৪২৫

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বিষয় :

ঢাকা

  • সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
  • জনগণের জন্য মাছ-মাংস কতটা নিরাপদ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
  • আরসিবিসি মানুষকে ধোঁকা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে: আইনমন্ত্রী
  • ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: খালেদাকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ আদালতের
  • ১০ বছর সাজার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার আপিল
  • কোকাকোলার বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বিকৃত ব্যবহার বন্ধে রুল জারি
  • ভারত ৬ ডলারে গ্যাস আমদানি করলে আমরা কেন ১০ ডলারে? প্রশ্ন আদালতের

ফেলানি হত্যার ৮ বছর আজ : বিচার পায়নি অসহায় পরিবার

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০১৯

ফাইল ছবি

আজ ৭জানুয়ারি। ফেলানী হত্যার আট বছর। ২০১১ সালের আজকের এই দিনেই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর রামখানা অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ফেলানী। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানীর মরদেহ। এই ঘটনায় গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত।

তবু বিএসএফের বিশেষ কোর্টে দুই দফায় বিচারিক রায়ে খালাস দেওয়া হয় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। এ রায় প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুমে’র সহযোগিতায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে রিট আবেদন করে ফেলানীর পরিবার। যা এখনও ঝুলে আছে বলে জানা যায়।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরু পরিবার নিয়ে থাকতেন ভারতের বঙ্গাইগাঁও গ্রামে। মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। তাই ২০১১ সালের ছয় জানুয়ারি মেয়েকে নিয়ে রওয়ানা হন দেশের উদ্দেশে। সাত জানুয়ারি ভোরে ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের ওপর মই বেয়ে আসার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ফেলানীর।

সেদিন ছিল শুক্রবার। ভোর ছয়টার দিকে ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্ত টপকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বিএসএফের গুলিতে আধঘণ্টা ছটফট করে কাঁটাতারে ঝুলে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় ফেলানীর। এরপর প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারের উপরেই ঝুলে থাকে ফেলানীর মরদেহ। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনা শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়।

বিএসএফের এ কোর্টে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। ওই বছরের ছয় সেপ্টেম্বর আসামি অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিএসএফের বিশেষ কোর্ট। পরে এই রায় প্রত্যাখ্যান করে পুন:বিচারের দাবি জানান ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুন:বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারো আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। ২০১৫ সালের দুই জুলাই এ আদালত পুনরায় আসা অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। রায়ের পরে একই বছর ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ মাসুম ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করে।

ওই বছর ছয় অক্টোবর রিট শুনানি শুরু হয়। ২০১৬ এবং ১৭ সালে কয়েক দফা শুনানি পিছিয়ে যায়। পরে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য হলেও শুনানি হয়নি এখনও।

এদিকে মেয়ে হত্যাকারীর বিচার না পেয়ে হতাশ ফেলানীর বাবা-মা। ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম বলেন, ফেলানী হত্যার বিচার চেয়ে অনেক ঘুরেছি। মানবাধিকার সংস্থাসহ বহু মানুষের কাছে গেছি। বিচার পেলাম না। সরকারের কাছে আবেদন, এ বিচারটা যেন হয়।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ফেলানী হত্যার আট বছর হয়ে গেল, কিন্তু বিচার হলো না। আমি সরকারের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।

এএইচ/এমএস


oranjee

আরও খবর :