ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

এসপি হারুনের বিষয়ে তদন্ত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

গ্লোবালটিভিবিডি: নারায়ণগঞ্জ থেকে সদ্য প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদের বিষয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, তাঁর (এসপি হারুন) বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তদন্তে এর সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট মন্তণালয়ের সচিব এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ র্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজের স্ত্রী ও ছেলেকে রাজধানীর গুলশান থেকে নারায়ণগঞ্জে তুলে নিয়ে যাওয়ার দুই দিনের মাথায় (গত ৩ নভেম্বর) এসপি হারুন অর রশীদকে বদলি করা হয়। তাকে বদলি করে পুলিশ সদর দফতরের পুলিশ সুপার (টিআর) করা হয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।

এদিকে, বুধবার একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও এসপি হারুনের মুখোমুখি দেখা হওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। একপর্যায়ে এসপি হারুন সালাম দিতেই মুখের ভঙ্গি বদলে যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ওই ভিডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অসন্তোষ সুলভ ভঙ্গিতে মাথা নাড়েন। একজন সাংবাদিক ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে উল্লেখ করে দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় এই প্রসঙ্গটি থাক। এটা তো আমাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ব্যাপার, এটা নিয়ে কথা না বলাই ভালো।

এসপি হারুনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে যে, উনি চাঁদাবাজি করছিলেন, একজনকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, তিনি উঠিয়ে নিয়ে গেছেন নাকি কী করেছেন, এটা তো তদন্তের ব্যাপার। তদন্তের আগে আমরা কী বলব তিনি অপরাধ করেছেন? তদন্তের পরই এ ব্যাপারে খোলাসা করে বলা যাবে।।

তদন্ত কী শুরু হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা তো শুরু হবেই, আমরা মাত্রই তো তাকে সরিয়ে আনছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশে অবৈধভাবে বসবাসরত ১১ হাজার বিদেশি নাগরিককে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব বিদেশি পাসপোর্টধারী নাগরিক মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট বহন করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছে এবং নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সময়ে আফ্রিকাসহ নানা দেশের নাগরিক ভিসা নিয়ে বৈধভাবে বাংলাদেশে এসেছেন। সম্প্রতি ১১ হাজার নাগরিকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে যাদের ভিসা এবং পাসপোর্ট কোনটিরই মেয়াদ নেই। এদের কিছু সংখ্যক অপরাধে জড়িয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছে। আবার কিছু সংখ্যক অবৈধভাবে বসবাস করছে। অবৈধ এসব বিদেশিদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও তারা কখনো নিজ দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। কিছু দেশের দূতাবাস রয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নাগরিকদের বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই সরকার নিজ উদ্যোগে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

এমএইচএন/আরকে

 


oranjee

আরও খবর :