ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

ঋণখেলাপিতে শীর্ষ মসলা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী ট্রেডিং

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানি-রফতানির সিংহভাগই নিয়ন্ত্রণ করেন বোম্বাইওয়ালাখ্যাত ব্যবসায়ীরা। এসব ব্যবসায়ীর মধ্যে বড় সওদাগর ছিলেন খান জাহান আলী ট্রেডিং এর স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ। ২০১৫ সালে কোকেন কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর পর একের পর এক ব্যবসা হারিয়ে এখন ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে খান জাহান আলী ট্রেডার্স।

তার বাকি চারজন সহোদর দেশে থাকলেও আগের মতো ব্যবসা নেই প্রতিষ্ঠানটির। প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মসলার আমদানি। এতে একসময়ের অন্যতম শীর্ষ মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি এখন ঋণখেলাপি।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, যদিও এটি আমি এ শাখার দায়িত্ব নেয়ার আগের ঘটনা। যতটুকু শুনেছি এবং ব্যাংকের নথি থেকে জানতে পেরেছি, মেসার্স আক্তার ইমপেক্সের ব্যাংকে লেনদেন ছিল খুবই ভালো। ভোগ্যপণ্য আমদানির ঋণপত্রের বেশির ভাগ মূল্য নগদে পরিশোধ করত প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করে দিলে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকের ঋণ আটকে যায়। শাহজালাল ব্যাংকসহ মোট চারটি ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০ কোটি ঋণ শ্রেণীকৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাওনাদার ব্যাংকের এক কর্মকর্তা।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন বলেন, নূর মোহাম্মদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে নিয়ে গেলেও ব্যবসায়িক জৌলুস হারিয়েছে খান জাহান আলী ট্রেডিং । শুধু তা-ই নয়, তাদের ব্যবসায়িক এ ধস খাতুনগঞ্জের বোম্বাইওয়ালা ব্যবসায়ীদেরও অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে।

জানা গেছে, নূর মোহাম্মদ ১৯৮১ সালে মুসলিম এডুকেশন হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর নব্বইয়ের দশকে পিতার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাতুনগঞ্জের ট্রেডিং ব্যবসায় আসেন। আদি পুরুষ ভারতের গুজরাটের বাসিন্দা হলেও খাতুনগঞ্জের ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের পরিবার।

দেশে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হলে খান জাহান আলী ট্রেডিং মারকারি ব্র্যান্ডের এজেন্ট হয়। এছাড়াও গাউসিয়া ফিড, গাউসিয়া পোলট্রি, শাহ্ আমানত ফিলিং স্টেশন, প্রাইম শ্রিমস্ হ্যাচারি, সাতক্ষীরা চিংড়ি ঘের, খান জাহান আলী কম্পিউটার, শাহ আমানত নিটিং অ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতেন নূর মোহাম্মদ। কোকেন কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা-বাণিজ্য ৯০ শতাংশই কমে গেছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি খোদ মেমনদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী ট্রেডিং এর সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

খান জাহান আলী ট্রেডার্সের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, ট্রেডিং, আমদানি, উৎপাদন খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খান জাহান আলী ট্রেডিং ছিল ব্যবসায়ীদের কাছে লেনদেনের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু একটি ভুলই প্রতিষ্ঠানটির সব অর্জন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। উল্লখিত কোকেনের চালানটি প্রাইম শ্রিমস্ হ্যাচারি ম্যানাজার গোলাম মোস্তফা সোহেলের বোন জামাই লন্ডন হতে তার নিকট পাঠায় ,উক্ত কোকেনের চালানের ব্যাপারে মালিক পক্ষ কিছুই জানতেন না ।  

জানা গেছে, ভোগ্যপণ্য আমদানি করতে ২০০৭ সালে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখা থেকে ঋণ নেয় খান জাহান আলী ট্রেডিং এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেসার্স আক্তার ইমপেক্স। এরপর বিভিন্ন সময়ে এ ব্যাংকের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ১০ কোটি টাকার বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করত শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক জুবিলী রোড শাখার মাধ্যমে। লেনদেনও ছিল বেশ ভালো। তবে ২০১৫ সালে কোকেন মামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন খুবই কমে যায়। প্রতিষ্ঠানটি আমদানিও বন্ধ করে দেয়। এতে পণ্য আমদানির জন্য দেয়া ব্যাংকঋণের কিছু টাকা আটকে যায়। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে ঋণটি পুনঃতফসিল করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারেনি মেসার্স আক্তার ইমপেক্স। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকের পাওনা সাড়ে ৭ কোটি টাকা শ্রেণীকৃত হয়ে গেছে।


এমএস


oranjee