ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

বাগেরহাটে শিশু হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই খালাস হাইকোর্টে

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

ফাইল ছবি

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে শিশু ডিপজল হত্যা মামলায় ওই শিশুর মাসহ বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকেই খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের আপিল গ্রহণ ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য আবেদন) খারিজ করে এ রায় দেয়।

এ মামলার আসামিরা হলেন, ডিপজলের মা লতিফা বেগম, মোল্লাহাট উপজেলার নগরকান্দি গ্রামের আয়েন উদ্দিন মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা ও লুৎফর রহমানের স্ত্রী নাজমা বেগম। তাদের মধ্যে মনির ও নাজমা ভাই-বোন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ, সঙ্গে ছিলেন সাইফুর রহমান রাহি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ মান্নান মোহন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ মান্নান মোহন সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষিদের সাক্ষ্যে গড়মিল থাকায় এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণে গড়মিল থাকায় ডেথ রেফারেন্স রিজেক্ট করা হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, লতিফা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী মনির মোল্লার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে লতিফা বেগমকে মারধর করেন স্বামী ইকু বিশ্বাস। সম্পর্কে বাধা ও মারপিটের ঘটনায় আসামিরা ইকু বিশ্বাসের ওপর ক্ষিপ্ত হন।

২০০৫ সালের ১২ এপ্রিল ভোরে তাদের ছেলে ডিপজল নিখোঁজ হয়। পরদিন বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই দিনই মোল্লাহাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

ওই বছরের ২৯ অক্টোবর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মনির মোল্লা ও নাজমা বেগমকে আসামি করে মোল্লাহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন ইকু বিশ্বাস।

তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১০ মে এজাহারভুক্ত দুই আসামি ও শিশুটির মা লতিফা বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মোল্লাহাট থানার এসআই মো. নজিবুল হক।

আট বছর ধরে বিচার চলার পর ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল শিশুপুত্র ডিপজলকে হত্যার দায়ে মা ও দুই প্রতিবেশিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন বাগেরহাটের দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম সোলায়মান।

পরে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে বিষয়টি হাই কোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন।

এএইচ

 


oranjee