ঢাকা, রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

নুসরাত হত্যা: কেরোসিন ও বোরকা বিক্রেতার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার অভিযোগ গঠনে এখনও পর্যন্ত সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (৭ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে ১৬ জন আসামিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত কেরোসিন ও বোরকা বিক্রেতা জসিম, হেলাল উদ্দিন ও লিটনকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষ্যগ্রহণ করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দুপুরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তিন জন সাক্ষীকে জেরা করে।

৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, বান্ধবী নিশাত, সহপাঠী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি, পিয়ন নুরুল আমিন ও নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শাহজাহান সাজু জানান, সোমবার নুসরাতের ছোট ভাই রায়হান ও সাক্ষী লোকমানের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে হত্যা মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে ৭জন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২৮ মে ফেনীর আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এর পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম ১৬জনকে অভিযুক্ত করে ৮৬৯ পৃষ্ঠা সম্বলিত নথি ও অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর গত ৩০ মে মামলার ধার্য তারিখে আসামিদেরকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানী না করে ওই মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানির শুরু করে ২০ জুন মামলার চার্জশীটের উপর শুনানী শেষে এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহনের দিন ধার্য করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান ওরফে রাফিকে গত ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাষ্টিক সার্জারি বিভাগে মারা যায়। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদেরকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ও পিবিআই এ মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে শ্লীলতাহানি করে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা।
এঘটনায় নুসরাত রাফির মা বাদি হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে পিবিআই ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করলে আদালত তা অনুমোদন করে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া যৌন হয়রানির মামলার পর নুসরাত রাফির জবানবন্দি গ্রহণের সময় তার ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় সাইবার আইনের মামলায় গ্রেফতার সোনাগাজী মডেল থানার তৎকালীন ওসি মো: মোয়াজ্জেম হোসেন কারাগারে রয়েছেন।

একেএ/এমএস


oranjee

আরও খবর :