ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে হাতকড়া না পরানোয় আইনজীবীদের ক্ষোভ

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পালিয়ে যাওয়া সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে হাতকড়া না পরানোয় আদালতে ক্ষোভ জানিয়েছেন আইনজীবী।

তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলার বাদী সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন এই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অন্য আসামিদের প্রতি পুলিশ সদয় থাকবে কি না।

রোববার গ্রেফতারের পর সোমবার তাকে আদালতে নেয়া হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন।

ওসি মোয়াজ্জেমকে গাড়ি থেকে নামানোর পর চার পাশ থেকে ঘিরে আদালতে নেয়া হয়। এমনিতে পুলিশ আসামিদের হাতকড়া বা কোমরে দড়ি পরিয়ে নিলেও মোয়াজ্জেমের গায়ে হাতই দেয়নি। উল্টো তার বেশভুষা ছিল পরিপাটি। চোখে ছিল রোদ চশমা। আর এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলের মামলার বাদী সুমন।

পরে সাংবাদিকদের সুমন বলেন,‘ওসি মোয়াজ্জেমকে হাতে হাতকড়া দিয়ে আনা হয়নি। সে বিষয়ে পুলিশ ভালো জানেন কেন আনেননি। তবে পুলিশ ভাইয়দের কাছে অনুরোধ করে বলেন, অন্য আসামিদের বেলায়ও যেন একই ট্রিটমেন্ট করা হয়।’

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযো, ফেনীর সোনাগাজীতে পুড়িয়ে হত্যা করা কিশোরী নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও জবানবন্দী বেআইনিভাবে রেকর্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তিন সপ্তাহ আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে আত্মপোপনে যান মোয়াজ্জেম। ২০ দিন পর ধরা পড়েন তিনি।

ওসির এই পালিয়ে যাওয়া নিয়েই প্রশ্ন ব্যারিস্টার সুমনের। তিনি বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম আইনের মানুষ হয়ে কেন পলাতক হয়েছেন? উনি নির্দোষ হলে আদালত আত্মসমর্পণ করতেন। ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক হয়ে গোটা জাতিকে বিস্মিত করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

‘যিনি আইনের রক্ষক ছিলেন, পুলিশ বাহিনীর হয়ে আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালত আত্মসমর্পন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে সাধারণ জনগণের মতো ওয়ারেন্টকে ভয় পেয়ে পলাতক হন। পলাতক অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওসি মোয়াজ্জেম যদি নির্দোষ হতেন, তাহলে তিনি পলাতক হতেন না। উনি দোষী তাই গ্রেপ্তার পরোয়ানি জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পলাতক হয়েছেন, যা পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্কিত করেছে।’

ব্যারিস্টার সুমন আদালতে ওসি মোয়াজ্জেমের জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এমএস


oranjee

আরও খবর :