ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

একুশে পদকে ভূষিত কবি অসীম সাহা'র সাক্ষাৎকার

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯

কবি অসীম সাহা। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে যার কবিতা বাংলাদেশের মানচিত্র ছাপিয়ে সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে বিশ্বের বাংলায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বরূপ একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে নির্মোহ ও নন্দিত কবি অসীম সাহাকে। সম্প্রতি গ্লোবাল টিভির পক্ষ থেকে এই বরেণ্য কবির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। তা পাঠকের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো। 

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন গ্লোবাল টিভির নির্বাহী সম্পাদক অনুরূপ আইচ  

 

গ্লোবাল টিভিঃ দেশে এতো সব পেশা থাকতে লেখালেখিতে এলেন কেন? এই প্রেম কি অনেক বড় হয়ে এসেছে জীবনে, নাকি শৈশব থেকেই অটুট রয়েছে?

অসীম সাহাঃ লেখা তো আমার পেশা নয়। তাই পূর্ব-পরিকল্পনা হিসেবে কিংবা বিশেষ কোনো চিন্তা থেকে পেশা ভেবে লেখালেখিতে আসার প্রশ্নই ওঠে না। শৈশবে আকস্মিকভাবে হঠাৎ একদিন মস্তিষ্কের কোষ থেকে কোনো একটি বিশেষ অনুভূতি পংক্তি আকারে দোলা খেতে খেতে অক্ষরের মধ্যে ধারণ করতে পেরেছিলাম, তারই ধারাবাহিকতা আজো অব্যাহত ও অটুট আছে, শুধু একটু বলতে পারি। 

গ্লোবাল টিভিঃ কবিতা, ছাড়া গদ্য, গান- সাহিত্যের কোন্ শাখায় আপনার বেশি টান?
অসীম সাহাঃ সন্দেহ নেই, কবিতা।

গ্লোবাল টিভিঃ দেশে এখন গান না জানা শিল্পী বা গানের গ্রামার না জানা গীতিকার-সুরকারের দৌরাত্ম্য চলছে বলা যায়। তাদের অনেকেই এখন খ্যাতির শিখরেও রয়েছেন। ব্যাপারটা বাংলাদেশের গানের জন্য ব্যাপারটা কতোটা মঙ্গলময় হচ্ছে? 
অসীম সাহাঃ ভাগ্যিস, দেশে কিছু গুণী সুরকার ছিলেন। তাই এই সব অজ্ঞানদের কিছু গান অনেকক্ষেত্রেই শ্রুতিমধুর হচ্ছে বটে; কিন্তু তার প্রায় সবটা কৃতিত্ব সুরকারের, গীতিকারের নয়। লিরিক্স বা বাণীর দিকে তাকালে, তার দুর্বলতা দেখলে হতবাক হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ফলে গানের প্রতি তরুণদের এক ধরনের ক্রেইজ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে গানের ব্যঞ্জনা হারিয়ে যাচ্ছে! 

গ্লোবাল টিভিঃ তবে কেউ গান লেখার সঠিক নিয়ম না জানলেও যদি ভেতরে তাড়না অনুভব করেন, তবে কি তিনি গান লিখবেন না?
অসীম সাহাঃ লিখবেন না কেন? অতীততেও এমন লেখা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। লালন সাঁই কিংবা আমাদের বাউল-ফকিররা যে গান লিখেছেন, তারা তাদের হৃদয়ের তাড়না থেকেই লিখেছেন। তাঁরা তো সঙ্গীতের ব্যাকরণ জানতেন না। কিন্তু কী সুরে, কী বাণীর বৈভবে, তাদের তুলনা কই?

গ্লোবাল টিভিঃ ঢাকা শহরের ব্যস্ততার জন্য অনেক লেখক মোবাইলে নোটপ্যাডে কবিতা, ছাড়া বা গান লিখে রাখেন। আপনার জীবনে এমন ঘটনা আছে কি?অসীম সাহাঃ বলতে গেলে, না। হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে দুএকটি পংক্তি কখনো লিখে রেখেছি, কিন্তু পুরো কবিতা বা গান কখনই নয়।

গ্লোবাল টিভিঃ ফেব্রুয়ারির বইমেলায় আপনার নতুন কী কী বই পাবেন পাঠকরা?
অসীম সাহাঃএকটি মাত্র ছড়ার বই ‘রাইসোনা ও মোটা-পাতলুর ছড়া’। বাংলাভাষার সবচেয়ে সহজ ও আধুনিক যে অভিধানটি এবার বের হওয়ার কথা ছিলো, আরো বিশুদ্ধকরণের জন্যে তা স্থগিত রাখা হয়েছে!

গ্লোবাল টিভিঃ চাকরি ও লেখালেখি- কোনটায় স্বাচ্ছন্দবোধ করেন?
অসীম সাহাঃ অবশ্যই লেখালেখিতে।

গ্লোবাল টিভিঃ আপনি এবার রাষ্ট্রের বড় সম্মাননা হিসেবে পরিচিত ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন। এরপর থেকে আপনার লেখালেখি বা জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবনা জন্মেছে কি?
অসীম সাহাঃ আমার নতুন নতুন ভাবনা সব সময় ছিলো, আছে এবং থাকবে। সেই চিন্তা কোনোভাবেই পুরস্কারপ্রাপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। পুরস্কার না পেলেও আমি আমার নতুন অবস্থান থেকে সরে যেতাম না!

গ্লোবাল টিভিঃ যারা আপনাকে চেনেন বা জানেন, তারা দেখে আসছে, আপনি সব সময় নির্মোহ জীবনযাপন বরেন। ‘একুশে পদক’ পাওয়ার পরও আপনার মাঝে, অন্য অনেকের মতো আহামরি উচ্ছাস প্রকাশ করতে দেখেনি কেউ। এ-ব্যাপারে আপনি যদি কিছু বলতেন আপনার ভক্তদের উদ্দেশ্যে। 
অসীম সাহাঃ সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্রে পুরস্কার একটি প্রথাগত স্বীকৃতি মাত্র। এতে উল্লসিত হওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ সৃষ্টিশীল মানুষ প্রতিনিয়ত নিজের ভেতর ভালো লেখার তাড়না অনুভব করন। পুরস্কার বা স্বীকৃতি পেলে তাতে উৎসাহ বাড়তে পারে, কিন্তু তার সঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশের সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না। আর আমার এখন যা বয়স, তাতে এ-স্বীকৃতিতে আমার ভেতর আলাদা কোনো অনুভূতি তৈরি করতে পারেনি। কারণ যে-বয়সে এ-পুরস্কার পেলে উচ্ছ্বসিত হওয়া যায়, সে-বয়স আমি আরো অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছি! তবে একটি কারণে আমি কিছুটা আনন্দিত যে, পুরস্কারটি আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা আমার সতীর্থ শেখ হাসিনার হাত থেকে নিতে পেরেছি!


oranjee

আরও খবর :