ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

কুয়েত দূতাবাসের তিন কল্যাণ সহকারীর হাতে চার লক্ষ প্রবাসী বাংলদেশী জিম্মি

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০১৯

সংগৃহীত

দেশের চলমান অর্থনীতির গতি সচল রাখতে বিশেষ আবদার রেখে চলেছে প্রবাসী রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়)। প্রবাসীদের কষ্টের অর্জিত আয়ের প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দিতে নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে যারা আয় পাঠাবে তাদের সুবিধাভোগিরা ২ শতাংশ বেশী টাকা পাবে। আদেশে বলা হয়েছে প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা দিতে কোন ব্যাংক বিলম্ব বা হয়রানী করলে সেই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রবাসীদের উন্নয়নে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিলেও দূতাবাসের কিছু অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীর দৌরাত্বে সুফল পাওয়াতো দূরের ব্যাপার রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছে প্রবাসীরা। কুয়েত প্রবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করে সেখানে। বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত এর শ্রম উইং এ সকল শ্রমিকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স,আউট পাশ , ভিসা সত্যায়ন ও আকামা সমস্যা সমাধান দিয়ে থাকেন। শ্রম উইং এ স্থানীয় ভিত্তিতে কল্যাণ সহকারী পদে ফরিদ হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম ও আনোয়ার সাদাত এর মোটা অংকের টাকার বিনিমনে দিয়ে চাকরি হয়। 

একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল। প্রশ্ন উঠেছে জাল সনদ দিয়ে দূতাবাসের মতো জায়গায় কি ভাবে তারা চাকুরী করে! প্রবাসী শ্রমিকদের কাজের প্রয়োজন হয় মূলত দূতাবাসের বাইরে আর কল্যাণ সহকারীরা দূতাবাসের বাইরের কাজ গুলোই করে থাকেন। যেহেতু প্রবাসী শ্রমিকরা চাইলেই দূতাবাসের ভিতরে ঢুকতে পারেনা। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওইসব অসৎ কর্মচারী চার লাখ প্রবাসী বংলাদেশীকে জিম্মি করে রেখেছে। ঘুষ বেআইনি হলেও কুয়েত দূতাবাসের শ্রম উইং এ ঘুষ নেওয়াটাই যেন আইন হয়ে গেছে। একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স বানাতে গেলেও কল্যাণ সহকারীদের পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। আউট পাশ বানাতে গেলে সাত থেকে দশ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।  

একটা ভিসা সত্যায়ন করতে গেলে দশ থেকে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলেই দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয় এবং প্রতিবাদ করলে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই সব ঘুষ বানিজ্যর সাথে কল্যাণ সহকারী তৌহিদুল ইসলাম, ফরিদ হোসাইন ও আনোয়ার সাদাত সরাসরি জড়িত। শুধু প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়া পর্যন্তুই সীমাবদ্ধ থাকেনি কল্যান সহকারী তৌহিদুল ইসলাম, ফরিদ হোসাইন, আনোয়ার সাদাত এর কার্য্যক্রম। এই ত্রিরত্ন ভিসা ব্যাণিজ্যও নিয়ন্ত্রন করে। সরাসরি কোম্পানী থেকে ভিসা ক্রয় করে দেশ থেকে কর্মী নিয়ে যায়। সত্যিকারের ভিসা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কল্যাণ সহকারী তৌহিদুল ইসলাম, ফরিদ হোসেন, আনোয়ার সাদাত সম্প্রতি আল সামসিয়া, আল রোয়াদ, আল দরজা, ল্যাশনাল,ট্রাষ্ট, আল যালযালা সহ বিভিন্ন কোম্পানীর ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত। এই তিনজন ভিসা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

কল্যাণ সহকারী ফরিদ হোসাইন গ্রামের বাড়ী মাদারীপুরে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এখনও জামাতের সাথে জড়িত থেকে কুয়েত জামাতকে পষ্ঠপোষকতা করেন। বর্তমানে মাদারীপুর শহরে দশতলা বাড়ী, ৫০ বিঘার বেশী জমির মালিক ফরিদ হোসাইন সম্প্রতি ইউরোপ ঘুরে এসেছেন এবং ইউরোপে স্থায়ী বসত গড়তে চান।

কুয়েত প্রবাসী সুমনের কাছে টাকা দাবি করা ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে ফরিদ হোসেনকে বলতে শোনা যায়,  সে ইউরোপ থেকে ঘুরে আসার পরও কেন এখনো টাকা পেল না। দূতাবাসের আইনে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীর বিদেশ ট্যুর দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও ফরিদ হোসাইন কোনকিছুর তোয়াক্কা করেন না। ফরিদ হোসাইন গং (স্বরাষ্ট মন্তালয়ে) কাজ করার সুবাদে কোন শ্রমিকের আকামা বা ভিসার সমস্যা হলে টাকার বিনিময়ে সমাধান করে দেন। ভিসা সমস্যার জন্য একজন কর্মী থেকে তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

সম্প্রতি মানিক নামের একজন (ভিসা ব্যবসায়ী) আকামা সমস্যায় পড়লে পনের লক্ষ টাকায় দফারফা হয়। মানিকের কাছে ফোনে টাকার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ফরিদ হোসাইনকে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। 

তৌহিদুল ইসলাম ছিলেন অবৈধ্য ভিওপি ব্যবসায়ী। দূতাবাসে চাকুরী পাওয়ার পর বদলে যায় তৌহিদ ইসলামের জীবন যাপনের মান। তৌহিদুল আউট পাশের কাজের সাথে যুক্ত। সফর মাকফর ( দেশে প্রেরনকারী থানা) সাথে কাজ করতে হয়ে। দেশে ফেরত পাঠানো জন্য একজন কর্মীকে এক থেকে তিন লক্ষ টাকা দিতে হয়। কুয়েতে অবস্থানকালে সেই কর্মীদের দেশের আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে নিজ আত্মীয়ের একাউন্টে টাকা পৌছানোর পর কর্মীদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তৌহিদুল ইসলাম চট্টগ্রামে চার/পাঁচটি বাড়ী করেছেন। জমির পরিমান চল্লিশ বিঘার উপরে। 

আনোয়ার সাদাত একজন মুদি দোকানের মালিক। দূতাবাসে চাকুরীর সুবাদে এখন অনেক টাকার মালিক। আনোয়ার সাদাত ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি চাকরির পাশাপাশি মুদির দোকন চলমান রেখেছেন। আর সেই মুদি দোকানের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ভিসা সত্যায়নের অবৈধ্য লেনদেন করে থাকেন। দূতাবাসের আইন অনুযায়ী কোন কর্মচারী ব্যবসায় জড়িত হতে পারেন না। কিন্তু আনোয়ার সাদাত আইন মানেন না। বর্তমানে চট্রগ্রাম এলাকায় নিজের বাড়ীসহ অনেক সম্পদের মালিক।

কল্যাণ সহকারী তৌহিদুল ইসলাম, ফরিদ হোসেন,আনোয়ার সাদাত একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট। ঘুষ না দেওয়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ীদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কুয়েত ফেরত প্রবাসী কর্মীরা ও তাদের আত্বীয় স্বজন গত ০৯/১০/২০১৯ ইং তারিখে প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করে তৌহিদুল, ফরিদ হোসেন, আনোয়ার সাদাত সিন্ডিকেটের হাতে কিভাবে নির্যাতিত নিঃস্ব হয়ে কোন রকমে দেশে ফেরত এসেছেন। মিডিয়ার সামনে তার বর্ণনাও দেন।

ভুক্তভোগীরা কল্যাণ সহকারী তৌহিদুল, ফরিদ হোসেন,আনোয়ার সাদাতকে কুয়েত দূতাবাস থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে এবং জিম্মি কুয়েত প্রবাসী বাংদেশীদের মুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জনান। 

এ ব্যাপারে ফরিদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা আমাদের কাজ করি। আপনি আপনার কাজ করেন। তৌহিদ ফোনে বলেন, আমার কাজে মানুষের উপকার হয়। এতে কেউ যদি খুশি হয়ে কিছু টাকা দেন, তিনি নেন। আনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যবসার কথা স্বীকার করেন। 

আরকে

 

 


oranjee