ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

পরিবেশ দূষণে শিশুর মনেও প্রভাব পড়ছে

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীজুড়েই বড় শহরগুলিতে দূষণ বাড়ছে। দূষণের মধ্যে অন্যতম হল বায়ু দূষণ। গবেষকরা সনাক্ত করেছেন ‘হাই ট্রাফিক রিলেটেড এয়ার পলিউশন’ বা TRAP, অর্থাৎ যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়াই বায়ু দূষণের অন্যতম উৎস। এত দিনে প্রায় সকলেই জেনে গিয়েছেন বায়ুদূষণের জেরে কেমন স্বাস্থ্যহানি হতে পারে। শ্বাসকষ্ট তো বটেই, তার সঙ্গে হৃদরোগও হতে পারে বায়ু দূষণের জেরে। তবে সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, বায়ুদূষণের জেরে শুধুমাত্র শারীরিক ক্ষতি নয়, মনের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের উপর বায়ু দূষণের প্রভাব খুবই খারাপ। শরীর এবং মন, দুই ক্ষেত্রেই বায়ু দূষণ খারাপ প্রভাব ফেলে।

শিশুমনের উপর বায়ুদূষণের প্রভাব এই নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে আমেরিকার সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। এই গবেষণায় হাত মিলিয়েছিল সিনসিনাটি প্রদেশের ‘চিলড্রেনস হসপিটাল মেডিক্যাল সেন্টার’ও। এই দুই সংস্থার বিশেষজ্ঞরা একযোগে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন শিশুমনের উপর বায়ুদূষণের প্রভাব মারাত্মক। তাঁদের সমীক্ষার আওতায় ছিল বারো বছর পর্যন্ত বয়সের শিশুরা। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন লাগাতার বায়ুদূষণের প্রভাবে শিশুদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ে। তাদের মনের স্বাভাবিক প্রশান্তি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে আত্মহত্যা প্রবণতাও দেখা দিতে থাকে।

স্বাভাবিকভাবে সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষার এই রিপোর্ট চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে। কেননা, এই রিপোর্ট একই সঙ্গে পরোক্ষে আঙুল তুলেছে সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিও। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যথেষ্ট মাত্রায় সামাজিক সুযোগ সুবিধা-হীন এলাকায়গুলিতে (প্রকারান্তরে যা দরিদ্র-এলাকা) শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বায়ুদূষণজনিতে মানসিক সমস্যায়। একই সঙ্গে তাঁরা দেখিয়েছেন এই সব অঞ্চলে শিশুরাই ‘হাই ট্রাফিক রিলেটেড এয়ার পলিউশন’ বা TRAP-এর সমস্যায় বেশি আক্রান্ত। এই সব এলাকার বিভিন্ন বয়েসের শিশুদের ‘নিউরোইমেজিং’ বা স্নায়ুতন্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে এবং প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিশেষজ্ঞরা।

শৈশব থেকে লাগাতার উৎকণ্ঠায় থাকা মানে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অবসাদের শিকার হয়ে পড়া। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, লাগামছাড়া এই বায়ু দূষণ যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তা হলে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যজনিত যেমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, তেমনই ভবিষ্যত প্রজন্মের একটা অংশের মানসিক স্বাস্থ্যও দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। --- সংবাদ সংস্থা

আরকে


oranjee