ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

ভ্যাপসা গরম এড়িয়ে ভালো থাকার উপায়

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

ফাইল ছবি

ভাদ্র মাসের ভ্যাপসা গরমে তরতাজা মানুষই যেখানে নাকাল হয়ে পড়েন, শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের কী অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। কাজেই এমন গরমে শুধু এসির উপর ভরসা না করে, অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতেই হবে। নইলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

সতর্ক থাকতে হবে বাড়িতে কোন বিশেষ রোগে আক্রান্ত সদস্য থাকলেও। অসুস্থতার ধরণ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে ধারণা থাকলে রোগ সামলানো সহজ হয়। এমন গরমে অতিরিক্ত কাজ, খেলা বা ব্যায়াম করলে পেশিতে তীব্র ব্যথা হতে পারে। একে বলে হিট ক্র্যাম্প। ঘাম ও চড়া রোদের যুগলবন্দিতে র‌্যাশ বেরোতে পারে চামড়ায়।

রান্না সেরেই এসি চালিয়ে বিশ্রাম নিলে, বাইরে থেকে এসে ঘাম না শুকিয়ে ঠান্ডা পানি খেলে বা ঠান্ডা ঘরে বসে পড়ার মতো অনিয়ম করলে জ্বর–সর্দি–কাশি এড়ানো কঠিন।

ভাদ্রের রোদের দিন হিট এক্সারসানে খুব বেশি ঘাম হয়। রোগী ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েন। দ্রুত শ্বাস পড়ে। তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে এখান থেকে হিট স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। হিট সিনকোপ নামের সমস্যায় রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান।

হিট স্ট্রোকে তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমজোরি হয়ে হঠাৎ শরীরের তাপ বেড়ে যায়। ১০৫ ডিগ্রির উপর। এটা কিন্তু জ্বর নয়। এর সঙ্গে ঘাম হয় না বলে শরীরের তাপ বেরোতে পারে না। বিপদ বাড়ে।

ভাদ্রে সারা দিন খুব ভ্যাপসা গরমের পর সন্ধ্যার দিকে ঝড়বৃষ্টি এলে হঠাৎ ৭–৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যায়। অ্যাজমার রোগীদের এই সময় যত্নে রাখুন। তাপমাত্রার ওঠানামায় এদের অ্যাটাক হতে পারে।

কী করবেন: হলদেটে ইউরিন হলে বা ইউরিনের পরিমাণ কমে গেলে পানি খাওয়া বাড়ান৷ পানি খাওয়ার বিধিনিষেধ থাকলে অবশ্য আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডিহাইড্রেশন এড়াতে মদ–কফি–কোলা খাওয়া কমান। হালকা খাবার খান, পেট একটু খালি রেখে। বেশি খেয়ে রোদে বেরোবেন না বা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না।

চড়া রোদ এড়ানো সম্ভব না হলে বেরোনোর আগে এক গ্লাস পানি খান। প্রেশার–সুগার না থাকলে নুন–চিনির পানি বা ওআরএস খেতে পারেন। এক–আধবার ডাবের পানি, টাটকা ফলের রস বা ঘোলও খেতে পারেন৷ রাস্তার পানি, শরবত বা কাটা ফলের রস খাবেন না।

রোদে বেরোলে ছাতা/টুপি, সানগ্লাস ও হালকা সুতির পোশাক পরুন।

রোদে বা গরমের মধ্যে অনেক ক্ষণ টানা কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে ঠান্ডা জায়গায় বসে বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজে ফিরুন।

হাঁপানি রোগীরা এই সময় দিনের শেষে আকাশে মেঘ দেখলে প্রিভেন্টার ইনহেলারের একটা পাফ নিন বা যদি মনে হয় কষ্ট শুরু হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধের ডোজ বাড়ান।

সমস্যা হলে : পেশিতে ব্যথা হলে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে ব্যথা না কমা পর্যন্ত বিশ্রাম নিন। ওআরএস খেতে হবে৷ ছাতা, টুপি ও সানস্ক্রিনে সান বার্ন ও র‌্যাশ ঠেকানো না গেলে দিনে দু’তিন বার ঠান্ডা পানির ঝাপটায় মুখ ধুয়ে ক্যালামাইন লাগান৷ অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ খেতে হতে পারে।

হিট এক্সারশন হলে গরম থেকে সরে গিয়ে বিশ্রাম নিন। কষ্ট না কমা পর্যন্ত নুন–চিনির শরবত বা ওআরএস খেতে থাকুন। ডাবের পানিও খেতে পারেন। কষ্ট কমতে শুরু করার পর হাত–মুখ ধুয়ে ফ্যান বা এসি চালিয়ে কিছু ক্ষণ বিশ্রাম নিন।

অজ্ঞান হয়ে গেলে ব্যাপারটা এমারজেন্সি৷ খুব তাড়াতাড়ি তাকে গরম থেকে সরিয়ে ঠান্ডা জলে শরীর বার বার মুছে মাথা ধোওয়াতে থাকুন। ফ্যান বা এসি চালিয়ে দিন। স্বাভাবিক ঠান্ডা পানিতে গোসলও করাতে পারেন৷ অজ্ঞান না হলে বাথটবে শুইয়ে দেওয়া যায়। এর পাশাপাশি শরীরে লবণ–পানির ঘাটতি মেটাতে হয় দ্রুত। জ্ঞান থাকলে ওআরএস খাওয়াতে থাকুন৷ অজ্ঞান হলে বা বমি করলে স্যালাইন চালাতে হবে৷ দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সর্দিগর্মি হলে দু’-চারটে প্যারাসিটামল ও অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ খান৷ দু’–এক দিনেই কষ্ট কমে যাবে৷ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এএইচ/এমএস


oranjee