ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

ঘরে বসেই ডেঙ্গুর ব্যাপারে সচেতন থাকতে যা করবেন

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০১৯

ফাইল ছবি

বলা হয়ে থাকে যে দেশে ডেঙ্গুর মশা একবার ঢুকেছে তা আর বের হয়নি। আসলেই কিন্তু তাই। পৃথিবীতে বর্তমানে ১২৮টির বেশি দেশে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা রয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. আশরাফুল হক বলেন, ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশার নাম হল এডিস, পরিষ্কার পানিতেই তার বাস। একে নিয়ে তাই আতঙ্কও বেশি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক মশা সুযোগ ও পরিবেশ পেলেই একমাসে লাখের ওপর ডিম উৎপাদন করতে পারে, আবার এই ডিম ১ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম। তাই সচেতনতা ও সামগ্রিক প্রয়াস ছাড়া এই দুর্যোগ আটকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

ডেঙ্গুতে কিন্তু মৃত্যুর হার কম। মাত্র এক ভাগ বলতে গেলে। চিকিৎসা না নিলে সেটি হতে পারে ২-৬%। কিন্তু মৃত্যু আমাদের কারও কাম্য নয়। তাই একে নিয়ে এত উদ্বেগ। স্বাস্থ্যখাতে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই নিজ উদ্বেগে চিকিৎসা করান বা পরীক্ষা করানোর পরিমাণ বাড়ছে।

ডা. আশরাফুল হক বলেন, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন কাউকে সন্দেহ করা হলে তার মূলত রক্ত পরীক্ষা করা লাগে। আমাদের দেশে যেহেতু ডেঙ্গু নতুন নয়, কাজেই এই পরীক্ষার ধরনও আলাদা হতে পারে, ফলাফলও আলাদা হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ দেখা গেলে এনএস১ এন্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। সেটি প্রথম দিনেই করা যায়।

রক্ত পরীক্ষার ফল পজেটিভ হলেই কি ডেঙ্গু?
যদি প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে এটির রেজাল্ট ৯০ ভাগ পর্যন্ত সঠিক হতে পারে মানে পজিটিভ হলে নিশ্চিত ডেঙ্গু। কারও ক্ষেত্রে এটি নেগেটিভ হতে পারে প্রথম দিকে, তবে তার মানে এই নয় যে তার ডেঙ্গু হয়নি। কারণ জীবনের কোনও সময়ে যদি ডেঙ্গু হয়ে থাকে তবে এটি ৬০ ভাগ পর্যন্ত সঠিক ফলাফল দেখায় মানে নেগেটিভ হলেও বলা নাও যেতে পারে ডেঙ্গু হয়নি।

সেক্ষেত্রে আরেকটি পরীক্ষা করা লাগে আইজিএম অ্যান্ড আইজিজি। আইজিএম সাধারনত দুই মাস পর্যন্ত পজিটিভ থাকতে পারে। আর আইজিজি থাকতে পারে সারা জীবন। এই দুইটির মাঝে অনুপাত করে বুঝা যায় রোগী কি প্রাথমিক না দ্বিতীয়বার আক্রান্ত।

সবার কি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে?
এক কথায় উত্তর না। রক্তের সিবিসি রিপোর্ট দেখে এবং লক্ষণ দেখে চিকিৎসক বুঝতে পারেন কাকে ভর্তি দেওয়া প্রয়োজন আবার কাকে নয়। ডেঙ্গু যেহেতু বলতে গেলে আমাদের সবারই হয়েছে কোনও না কোনও একসময়ে, তাই যেই টাইপের ভাইরাস দিয়ে হয়েছে তার বিরুদ্ধে শরীর শক্তি সঞ্চয় করে ফেলেছে। নতুন ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলেই সেটি দিয়ে বিপদ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যেসব লক্ষণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি

কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেমন-

- অস্বাভাবিক বমি হওয়া

- পেটে পানি আসা

- প্রেশার কমে যাওয়া

- অচেতন ভাব হওয়া, ইত্যাদিগুলো হল বিপদের লক্ষণ।

এসব রোগীদের ভর্তি খুবই প্রয়োজন।

এর বাইরে জ্বর হলেই যে ভর্তি হওয়া লাগবে তা নয়। পর্যাপ্ত পানি পান করা (পারলে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ লিটার বেশি পান করা), দেশি ফল খাওয়া, বিপদের লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা ইত্যাদি বজায় রাখতে পারলেই বিপদ এড়ানো সম্ভব। উপচে পড়া রোগীর ভিড়ে এখন দেখা যাচ্ছে যাদের জীবন-মরণ সমস্যা তাদেরকেই ভর্তি করানো যাচ্ছে না। সবাই আরেকটু সচেতন হলেই সম্ভব এই আউটব্রেক মোকাবেলা করা।


এএইচ/এমএস


oranjee