ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাবেন কিভাবে, জেনে নিন

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বে প্রতি দশটি মৃত্যুর একটি হয় স্ট্রোকের কারণে। শুধু তা-ই নয়, ২০১৭ থেকে ২০১৯-এর মার্চ মাস পর্যন্ত এই কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ভারতসহ এশিয়ার নানা দেশে। কয়েক বছর আগে বিশ্বের ৩২টি দেশের উপর সমীক্ষা চালায় ‘আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’। স্ট্রোকের জন্য মূল ১০টি কারণকে চিহ্নিত করেন তাদের গবেষকরা।

তবে, স্ট্রোব সব সময়ই যে মৃত্যুই ডেকে আনে এই আচমকা আক্রমণ, এমন নয়। বরং পঙ্গুত্বের আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমনটাই জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। নিয়মিত চেক আপ ও বাড়তি কিছু সতর্কতা মেনে দৈনন্দিনতায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারলে তবেই এই প্রবণতার সঙ্গে লড়া যায়।

স্ট্রোক কী : অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের উপর নির্ভর করেই প্রতিটি কোষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সারে। আমাদের মাথার কোষগুলিও এমন স্বভাবের। অথচ মস্তিষ্কের রক্ত বহনকারী ধমনীর পথ বন্ধ হয়ে গেলে বা সরু হয়ে গেলে রক্ত আর সে পথে চলাচল করার মতো অবকাশ পায় না। অনেক সময় সেখানে চর্বি জমেও এই পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখনই মস্তিষ্কের কোষগুলি প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাবে নেতিয়ে পড়ে অকেজো হয় ও স্ট্রোকের শিকার হতে হয়।

চিকিৎসকদের মতে, রক্তচাপ, ডায়াবিটিস ও শরীরচর্চার অভাবে এই প্রবণতা বাড়ে। বরং কিছু নিয়ম মেনে চললে স্ট্রোকের এই রিস্ক ফ্যাক্টরগুলোকে সহজেই জয় করা যায়। রোজনামচার বদল থেকে শুরু করে অসুখ কমানোর নানা হাতিয়ারে জোর দিলেন চিকিৎসকরা।

যেমন: ওজন কিছুতেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। ভারতের বেশির ভাগ লাইফস্টাইল ডিজিজে ওবেসিটি একটা বড় ফ্যাক্টর। ওজন যত কমবে, অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও ততটাই কমবে। তাই ডায়েট মেনে, শরীরচর্চা করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

শরীরচর্চার সময় খুব একটা না পেলে অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করুন। একটানা রাস্তা ধরে, দ্রুত পায়ে ঘাম ঝরিয়ে হাঁটুন। পেটের মেদ যাতে না জমে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে কোনও ফিটনেস ট্রেনারের পরামর্শ নিয়ে নিজের শরীরচর্চার রুটিনটা সাজিয়ে নিন।

পর্যাপ্ত পানি খাওয়া খুব প্রয়োজন। শরীরে কখনওই অক্সিজেনের ঘাটতি হতে দেবেন না। শরীর অনুযায়ী আপনার কতখানি পানি খাওয়া প্রয়োজন, তা জেনে নিন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে।

ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলেই কোলেস্টেরল বাড়বে, মেদও বাড়বে। কাজেই ঘুমের সঙ্গে আপস নয়।

রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস থাকলে নিয়ম করে তা চেক আপ করুন। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মাসিক চেক আপ না করিয়ে অনেকেই একটানা ওষুধ খেয়ে যান। অন্তত দু’মাস অন্তর এই বিষয়গুলি চেক আপ করিয়ে নিন। প্রয়োজনে ওষুধের মাত্রা বাড়তে-কমতে পারে।

রোদে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করুন। সঙ্গে রাখুন পানি।

আচমকা অজ্ঞান হয়ে পড়লে, বা মাথা ঝিমঝিমের সঙ্গে শরীরের কোনও অংশ অবশ হয়ে গেলে, জিভ এলিয়ে চোখে অন্ধকার দেখলে ঝুঁকি নেবেন না। ঘাড়ে-মাথায় পানি দিন। রগ ও কানের দু’পাশেও দিন। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এএইচ


oranjee