ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ১১ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

বসন্তে, গরমে ত্বক তরতাজা রাখবেন কিভাবে?

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৯

ছবি- সংগ্রহ

সিজন চেঞ্জের সময় ও গ্রীষ্মে শুষ্ক ত্বকের জন্য উপযোগী ফোম বা ক্রিম বেসড ক্লেনজার, তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য জেল বেসড ফেশিয়াল ক্লেনজার ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বক নির্জীব হয়ে পড়ে। স্কিন ভাল রাখার প্রথম ধাপ ক্লেনজিং। মুখ জল দিয়ে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে আঙুলে অল্প ক্লেনজার নিয়ে মুখে একমিনিট সার্কুলার মোশনে মাসাজ করুন। তারপর জলে ধুয়ে নিন।

যাদের ফাইন লাইন্‌স, রিংকল্‌সের সমস্যা রয়েছে, তারা সারা বছর অ্যান্টি-এজিং ফেসওয়াশই ব্যবহার করুন। খেয়াল রাখুন ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর ত্বকে টান ভাব আসা মানে, আপনার স্কিন আর্দ্রতা হারাচ্ছে। এমন ক্লেনজার বেছে নিন, যা ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকে আসা ড্রাইনেস প্রতিরোধ করবে, ত্বকে র‌্যাশ-ব্রণও বেরবে না।

ক্লেনজিং মিল্ক: ফেসওয়াশ বা ক্লেনজিং লোশন ব্যবহারের পর হাতে অল্প ক্লেনজিং মিল্ক নিয়ে মাসাজ করে, ভেজা তুলোর সাহাযে্য তা তুলে নিন। এতে রোমকূপের ভিতর থাকা ধুলো-ময়লা একেবারে পরিষ্কার হয়ে যাবে। ত্বকও থাকবে নরম ও কোমল। স্কিন-উপযোগী অর্থাৎ ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লেনজিং মিল্ক ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে ক্লেনজিং মিল্ক ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

মেকআপ রিমুভিং লোশন: রোজকার দিনে অল্প কাজল-লিপস্টিকও মেকআপের আওতায় পড়ে। বাইরে থেকে ফিরে এসে হাত ধুয়ে কটন প্যাডে পরিমাণ মতো মেকআপ রিমুভিং লোশন নিয়ে মুখের মেকআপ তুলে ফেলুন।
মেকআপ রিমুভিং ওয়াইপসও ব্যবহার করতে পারেন।

ওয়েট ওয়াইপস: চটজলদি তরতাজা হয়ে ওঠার জন্য ওয়েট ওয়াইপসের জুড়ি মেলা ভার।
ঘাম, ধুলো, ক্লান্তি নিমেষে মুছে ফেলে ওয়াইপস। ক্লেনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং, সানস্ক্রিন- এরকম নানান ভেরিয়েন্টে পাবেন ওয়াইপস। প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।

মিসেলার ওয়াটার: মেকআপ রিমুভ করার যুগান্তকারী প্রোডাক্ট এটি। সাধারণ মেকআপ বা ওয়াটারপ্রুফ সবই একনিমেষে তুলে ফ্যালে মিসেলার ওয়াটার। কটন প্যাডসে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে মুখে, চোখে, ঠোঁটে বুলিয়ে নিন, ঘষাষষি করবেন না। দেখবেন অনায়াসেই মেকআপ উঠে আসবে।
এটি ব্যবহারের পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। না ধুলেও ক্ষতি নেই। লেটনাইট পার্টি, ইনভিটেশন বা অফিস থেকে ফিরে যতই টায়ার্ড লাগুক, এই ধাপ ফলো করতে ভুলবেন না।

টোনার: মুখ পরিষ্কার করার পর খুলে যাওয়া রোমকূপের মুখ বন্ধ করার জন্য, ত্বকে টানটান ভাব বজায় রাখতে ও ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখতে টোনার ব্যবহার করুন এখন ও ভরা গ্রীষ্মেও।
স্কিনের ধরন অনুযায়ী অ্যালকোহল ফ্রি টোনার ব্যবহার করুন। রিফ্রেশিং, হাইড্রেটিং, ব্রাইটেনিং, পোর টাইটেনিং, ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী টোনার বেছে নিন।

অতিরিক্ত তৈলাক্ত, ব্রণ, ফুসকুড়িপ্রবণ ত্বকের জন্য টোনারের বদলে ব্যবহার করুন অ্যাস্ট্রিনজেন্ট, যা ত্বকের বাড়তি তেল রিমুভ করে। অ্যাস্ট্রিনজেন্টে অ্যালকোহল থাকে। সুতরাং খুব অল্প পরিমাণে তুলোয় করে ব্যবহার করুন। চোখের চারপাশে টোনার বা অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ব্যবহার করবেন না।

ময়েশ্চারাইজিং: সিজন চেঞ্জের সময় বা গ্রীষ্মেও ত্বকের ড্রাইনেস কাটাতে ওয়াটার বেসড ও জেল বেসড হাইড্রেটিং লোশন বা জেল ব্যবহার করুন। যাঁরা বহুক্ষণ এসিতে থাকেন, তাঁদের জন্য হাইড্রেটিং লোশন মাস্ট। ‘হাইড্রা বুস্ট’ বা ‘ওয়াটার জেল’ কথাটির উল্লেখ আছে এমন প্রোডাক্ট বেছে নিন।
রাতে শোয়ার সময় ত্বকের ধরন অনুযায়ী হালকা কোনও ফেস ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই ব্যবহার করুন।
রাতে ময়েশ্চারাইজারের বদলে স্কিন সেরাম বা ফেস অয়েলও ব্যবহার করা যেতে পারে। ড্রাই স্কিনে নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন।

বডি মিল্ক: শীতের ভারী বডি লোশনের বদলে এবার পালা হালকা বডি লোশন ও বডি মিল্কের। যা ত্বকে তাড়াতাড়ি অ্যাবজর্ব হবে অথচ ত্বকে ড্রাইনেসও আসতে দেবে না। গোসলের পর ও রাতে শোয়ার আগে সারা গায়ে বডি লোশন ব্যবহার করুন। এতে সারা বছর ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, টানটান ও কোমল।

ফুট লোশন ও ফুট সোক: সারা শীতে নিয়ম করে ফুট ক্রিম ব্যবহার করলেও ফেব্রুয়ারি মাস পড়তেই অনেকেই সেই পাঠ চুকিয়ে দেন। চলতি মওশুমেও পায়ের যত্নের একটি বিশেষ ধাপ ফুট লোশনের ব্যবহার।
বছরভর পা ফাটা, ড্রাইনেস রোধ করা ও পায়ের চামড়া টানটান ও নরম রাখার জন্য রোজ রাতে উষ্ণ পানিতে পা ধুয়ে, পিউমিক স্টোন দিয়ে গোড়ালি ও পায়ের শক্ত অংশ হালকা হাতে ঘষে নিয়ে পায়ে ফুট লোশন লাগান।
পায়ের ক্লান্তি, ব্যথা ও দুর্গন্ধ রোধ করতে ফুট সোপ অথবা উষ্ণ জলে ট্রি অয়েল পাঁচ-সাত ফোঁটা ফেলে পা ডুবিয়ে রাখুন রাতে শুতে যাওয়ার আগে।

ফেস মিস্ট: ঘাম-ধুলো-পলিউশনে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
হাতের কাছে ওয়াইপস বা মুখ ধোয়ার অবকাশ না পেলে ব্যবহার করুন ফেস মিস্ট। তৈলাক্ত, সাধারণ ও ড্রাই সব স্কিনে উপযোগী ফেস মিস্ট। সূর্যের প্রখর তাপে স্কিন লাল হয়ে যাওয়া, হালকা র‌্যাশ ও অয়েলিনেস কমাতে পারদর্শী মিস্ট। এছাড়া ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় রাখে মিস্ট।

বডি মিস্ট: উগ্র পারফিউম, স্পিরিট বেসড বডি স্প্রের গন্ধ যাঁদের না-পসন্দ, তাঁদের জন্য সামারে আইডিয়াল বডি মিস্ট। অ্যালকোহল ও স্পিরিট ফ্রি বডি মিস্টে ব্যবহৃত হয় নানান এসেনশিয়াল অয়েল, যার মৃদু সুগন্ধ আপনাকে সতেজ রাখে বহুক্ষণ। পারফিউম বা বডি স্প্রে-র মতো বডি মিস্টের সুগন্ধ দীর্ঘস্থায়ী নয়, তবে ত্বকের জন্য অনেক বেশি কোমল ও নিরাপদ।

সানস্ক্রিন: শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সানস্ক্রিনকে ঋতুর বেড়াজালে বাধা সম্ভব নয়। যে কোনও মওশুমেই সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখার মূল উপাদান এটি। ক্রিম, লোশন, অয়েল ফ্রি, জেল বেসড অথবা পাউডার যে কোনও ফর্মেই সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করা মাস্ট। ঘাম হওয়া বা র‌্যাশ বেরনোর সমস্যা থাকলে সানস্ক্রিন মাখা বন্ধ করবেন না, সেক্ষেত্রে ওয়াটার বেসড, জেল অথবা ম্যাটিফাইং সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর সানস্ক্রিন রিঅ্যাপ্লাই করা জরুরি।


পারফিউম ডিওডোর‌্যান্ট: পারফিউম ভেরিয়েশনের শেষ নেই। উডি, ফ্রুটি, মাস্ক যেমন গন্ধ আপনার পছন্দ তেমন বেছে নিন। ডিওডোর‌্যান্টও পেয়ে যাবেন সুগন্ধের অপশনে। ডিওডোর‌্যান্ট দেহ থেকে ১৫-২০ সেন্টিমিটার দূরত্ব বজায় রেখে স্প্রে করুন। পারফিউম স্প্রে করুন পাল্‌স পয়েন্টে। রিস্টে, কানের পিছনদিকে, হাতের ভাঁজে পারফিউম স্প্রে করলে সুগন্ধ হবে দীর্ঘস্থায়ী।

শিট মাস্ক ও ফেস মাস্ক: ফেস মাস্ক ব্যবহার ও তোলা নিয়ে যাঁদের আলসেমির অন্ত নেই, তাঁদের জন্যই বিশেষভাবে তৈরি শিট মাস্ক। সেরাম বেসড ফর্মুলায় ভরপুর কটন বেসড এই মাস্ক প্যাক থেকে খুলে মুখের ওপর লাগিয়ে রাখতে হয় ১০-১৫ মিনিট, তাতেই ফল মিলবে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা, ফ্রি র‌্যাডিকল্‌সের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য শিট মাস্ক উপযোগী। তবে তৈলাক্ত ও ব্রণ প্রবণ ত্বকে শিট মাস্কের বদলে চিরাচরিত ফেস মাস্ক ব্যবহার করুন। ফেস মাস্কের মতো ত্বক এক্সফোলিয়েট ও পরিষ্কার করতে অক্ষম শিট মাস্ক।

শ্যাম্পু ও চুলের যত্ন: শীতে সপ্তাহে দু’তিনদিন শ্যাম্পু করার লাইসেন্স মিললেও এই মওশুমে ছাড় নেই।
গ্রীষ্মে চুল ভাল রাখার প্রধান শর্ত চুল পরিষ্কার রাখা। মাইল্ড, সালফেট, প্যারাবেন ফ্রি কোনও শ্যাম্পু ব্যবহার করুন রোজ বা একদিন অন্তর। গোড়ায় আলতো হাতে আঙুল দিয়ে মাসাজ করুন ২-৩ মিনিট। তারপর পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। দু’চার মগ জল ঢেলে নিলেই শ্যাম্পু ধুয়ে যায় না। অনেকটা জল দিয়ে ভাল ভাবে চুল ধোয়া প্রয়োজন। চুলের লেন্থে আলাদা করে শ্যাম্পু দেবেন না। চুলের গোড়াতে দেওয়ার সময় যে ফেনা তৈরি হবে, তা দিয়ে চুলের লেন্থ পরিষ্কার করুন।

ওয়্যাক্সিং: বাহুমূল ওয়্যাক্স করুন নিয়মিত। এতে গায়ে দুর্গন্ধ কম হবে।

পার্সোনাল হাইজিন : প্রতিবার ওয়াশরুম ব্যবহারের পর ওয়াইপস দিয়ে প্রাইভেট পার্টস মুছে নিন।
বাহুমূলে পাউডারের বদলে অ্যান্টি পার্সপিরেন্ট ব্যবহার করুন। পা ঢাকা জুতো কম পরুন। একান্ত পরতে হলে ফুট পাউডার দিয়ে মোজা পরে জুতো পরুন। সপ্তাহে একবার জুতো রোদে দিন খানিকক্ষণ।

বডি ওয়াশ: গ্রীষ্মে স্নানের দোসর বডি ওয়াশ। স্ট্রবেরি, ল্যাভেন্ডার, লাইম, অরেঞ্জ, ব্লুবেরি, চেরি ব্লসম, স্যান্ডেল, রোজ এমন নানান সুগন্ধী থাকে বডি ওয়াশে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এএইচ


oranjee