ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ | ১০ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

ঢাকা

বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে ব্যস্ত খুলনার পাল সম্প্রদায়

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৫২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৮, ২০১৯

ছবি- সংগ্রহ

এম এ কবির, খুলনা: আর কয়েকদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। নববর্ষকে বরণ করতে চলছে বিভিন্ন প্রস্তুতি। খুলনাবাসী এই দিনটিকে বরণ করে নিতে আগ্রহের কোন কমতি নেই। শহুরে জীবনের সাথে দেশের গ্রামীণ জনপদেও নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। চৈত্র সংক্রান্তি থেকে গ্রামীণ জনপদে পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন স্থানে চলবে বৈশাখী মেলা। তাই শেষ সময়ে এসে দম ফেলার ফুরসত নেই মৃৎশিল্পীদের। রাতদিন পরিশ্রম করে তৈরি করে চলেছেন বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও সৌখিন তৈজসপত্র।

বৈশাখী মেলার অন্যতম আকর্ষণ মাটির তৈরি খেলনাসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র। বৈশাখী মেলায় মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র বিক্রির প্রস্তুতি নিতে চৈত্র মাসের শুরু থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

দিঘলিয়া উপজেলার ফরমায়েশ খানার পাশে পালপাড়ার বিভিন্ন বাড়ির মৃৎশিল্পীরা। সমগ্র খুলনার চাহিদা মিটিয়ে থাকেন তারা। পাইকাররা বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে মেলায় বিক্রি করে থাকেন।

স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতে ঘরে বসে নেই নারীরা। পড়াশোনার অবসরে বৈশাখী মেলার খেলনা তৈরির মাধ্যমে হাতেখড়ি দিচ্ছে পালপাড়ার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুরাও।

পালপাড়ার শিল্পীরা খেলনায় হরেক রকম ডিজাইন আর বাহারি রঙের ছোট–বড় খেলনা তৈরিতে এখন মহাব্যস্ত রয়েছেন। মেলার চাহিদা মেটাতে মৃৎশিল্পীরা তাদের মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে পরিবারের সবাইকে দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে। বাঙালি জাতির অন্যতম ঐতিহ্য বৈশাখী মেলা। তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে বিভিন্ন মাটির তৈরি খেলনার আকৃতি দিচ্ছেন।

চাকার মাধ্যমেও মাটিকে বিভিন্নভাবে আকৃতি দেওয়া হয়। তারপর সেই মাটির জিনিসপত্র আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হয়। তাই বৈশাখী মেলায় নিজেদের হাতের তৈরি মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্রের পসরা সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। কেউ বা মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হাঁড়ি–পাতিল, কেউবা বিভিন্ন পশুপাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতি তৈরিতে, কেউবা তুলি নিয়ে মনের মাধুরী দিয়ে রঙের কাজে ব্যস্ত। অনেকেই আবার কাঁচা মাটির খেলনাগুলো রোদে শুকাচ্ছেন। এবারের বৈশাখী মেলাকে ঘিরে স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা-মাকেও নানাভাবে সাহায্য করছে। কার চেয়ে কে বেশি খেলনা তৈরি করতে পারেন। এখানে কেউ মাটি গুঁড়া করে কাদা তৈরি করছেন, কেউ চাকায় কাদা বসিয়ে হাঁড়িপাতিল তৈরি করছেন।

পালপাড়ার নারী শিল্পী সরস্বতী পাল জানান, এবারের বৈশাখী মেলায় মাটিগুলো তারা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তাছাড়া এ এলাকার মৃৎশিল্পীদের উৎপাদিত মাটির পণ্যগুলো বিভিন্ন মার্কেটেও সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আমরা এ বছর হরিণ, গরশু, ঘোড়া, হাতি, খরগোশ, উটপাখি, হাঁস, বক, টিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর আকৃতি তৈরি করেছি।

একই এলাকার শোভা রানী বলেন, আমরা এ বছর সোনালী রঙের পাতিল, মগ, জগ, লবণ বাটি, তরকারির বাটি তৈরি করেছি। তা ছাড়াও তৈরি করা হয়েছে মাটির সাধারণ ফলের টপ, আধুনিক নানা ধরনের খেলনাও।

বয়োবৃদ্ধ মন্টু পাল বলেন, পূর্বপুরুষরা এ পেশায় নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন, তাই তারাও সে ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। বংশপরম্পরায় এ কাজে তারা যুক্ত থাকলেও নতুন প্রজন্মের সন্তানরা এখন তাদের পূর্ব পুরুষের পেশায় আসতে চাইছেন না। কারণ আগের মতো এখন আর তৈজসপত্রের কদর নেই, নেই একচেটিয়া ব্যবসাও। বর্তমান বাজারে সিরামিক, প্লাস্টিক ও ধাতব তৈজসপত্রের সহজলভ্যতার জন্য মৃৎশিল্পের ব্যবসায় ধস নেমেছে।

তবে যখন কোনো মেলা বসে কিংবা পূজা পার্বণ অথবা উৎসবে মেলার জন্য খেলনা তৈরি করেন তারা। এটা পরিবারের জন্য মৌসুমভিত্তিক বাড়তি আয়।

এমএকে/এমএস


oranjee