ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড নাকি সানি লিওনের নাচের অনুষ্ঠান?

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:২১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৯

তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যামাইকার আমাজুরা হলে স্থানীয় সময় ৭ এপ্রিল রোববার মধ্যরাতে ‘ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’টি শেষ হয়েছে। শো টাইম মিউজিক-এর ১৮তম এই আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ২০জন তারকা শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন বলে পোস্টারসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বলা হয়েছিলো। অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায় তাদের মধ্যে প্রখ্যাত অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক, নায়ক ইমন, অভিনেত্রী তিশা, প্রভা ও ভাবনাসহ ৮জন শিল্পী অনুষ্ঠানে আসেননি। অনুষ্ঠানে একটি নাচে অংশগ্রহণ করেছেন এক সময়ের পর্নো তারকা সানি লিওন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন অভিনেতা জাহিদ হাসান ও সাজু খাদেম। অনুষ্ঠানটির ভালো মন্দ নিয়ে এই প্রতিবেদক দর্শকের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

ব্রুকলিন থেকে আগত আব্বাস উদ্দিন নামের ৪৫ বছরে এক নাট্যকর্মী দর্শক বলেন, সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফার মতো এত বড় মাপের একজন শিল্পী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উনার জন্যই আমি অনুষ্ঠানটিতে এসেছিলাম কিন্তু তার হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার বিষয়ে বেশির ভাগেরই আগ্রহ ছিলো না। সবার আগ্রহ সানি লিয়নের মতো একজন পর্ন তারকার হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া এবং ছবি তোলা। আমার কাছে মনে হয়েছে সুবর্ণা মুস্তাফাকে ডেকে এনে অপমান করা হয়েছে। সানি লিওনের নাচের পরে দর্শক ব্যাপক হারে কমে যায়, তাহসানের মতো জনপ্রিয় শিল্পী যখন গান করছিলেন তখন তার সমনে দর্শক ছিলো শ’দেড়েক। এই হল পূর্ণ হতে লাগে ৮৫০জন দর্শক। যা ছিলো সানির নাচের সময় প্রায় পরিপূর্ণ। ‘ঢালিউড ফিল্ম এ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ টি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছিলো সানি লিওনের নাচের অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠান শেষে নিউজার্সি থেকে আগত ইভেন্ট ব্যাবস্থাপক শাহরিয়ার রিপন খান বলেন, কমিউনিটির বড় বড় ৭০টি প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সর নিয়েছে আলম ভাই। এতো বড় ও ব্যয়বহুল এই অনুষ্ঠানটি এতো অগোছালো দেখে দুঃখ লাগলো। যে শিল্পীরা বাংলাদেশ থেকে আসতে পেরেছেন তাদেরকেই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু কোন নাটকে অভিনয়ের জন্য বা কোন গান গাওয়ার জন্য এই পদক দেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। যা ‘ঢালিউড ফিল্ম এ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বেশ কয়েকজন নারী শিল্পী এসেছেন যাদের নাম কোনো দিনও শুনি নাই। তাদেরকে কোন উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছে? স্পন্সর দাতাদের খুশি করতে না কি তারা আমেরিকায় থেকে যাওয়ার জন্যই এসেছেন বুঝতে পারছি না।

কমিউনিটির নানান অনুষ্ঠানের নিয়মিত দর্শক সঙ্গীতা সরকার বলেন, দেশের এতো তারকাকে এক অনুষ্ঠানে দেখতে পেরে আমার খুব ভালো লেগেছে। এতো বড় বাংলাদেশি অনুষ্ঠান নিউইয়র্কে হয় না বললেই চলে। সানি লিওনের মতো একজন এতো বড় তারকা আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন যা আমাকে গর্বিত করেছে। জাহিদ হাসান ও নাদিয়ার পারফরমেন্স আমি খুব উপভোগ করেছি। আমি আশা করি আমাদের জন্য নিয়মিত এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি কারণ তার পা ভেঙ্গে গেছে এমনটি প্রচার করেছিলেন আয়োজন আলমগীর খান আলম। অন্য তারকাদের না আসতে পারা নিয়েও তিনি নানা রকমের মনগড়া গল্প ফেঁদেছেন। এসব প্রচার দেখে গত ৪ এপ্রিল তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিনেতা ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক বলেন, ‘আয়োজকদের আমি চিনি না। আমাকে নিয়ে কেন তারা মিথ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন সেটা জানি না। যাদের চিনি না তাদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমাকে নিয়ে এ ধরনের প্রচারণা চালানোর অধিকার তারা রাখে না।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পী-কলাকুশলিদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মেহের আফরোজ শাওন, মিশা সওদাগর, রিজিয়া পারভিন, আবু হেনা রনি, নাদিয়া, পিয়া বিপাশা, নিশাত সাওলা, নাভেদ আহমেদ, ইশরাত পায়েল, সজল এবং শিরিন শিলাসহ আরও কয়েকজন।

টিটি/এমএস


oranjee