ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

সম্পাদকীয়

জামায়াতবিহীন নতুন সংসদ: জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি!

অনুরূপ আইচ ২:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০২, ২০১৯

ছবি: গ্লোবাল টিভি অনলাইন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জামায়াত প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে যোগ হয়েছে বিশেষমাত্রা। নির্বাচনে ২৮৮টি আসনে (আওয়ামী লীগ ২৫৯, জাতীয় পার্টি ২০, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩, জাসদ ২, বিকল্পধারা ২, তরিকত ফেডারেশন ১, জেপি ১) বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। 

একজন জামায়াত প্রার্থীও নির্বাচনে জয়লাভ করেনি,  এর মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছে মানুষ। বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে রাজনীতিতে। এখন যেটা হবে, আগামীতে যখন আবারো সংসদ নির্বাচন হবে তখন উভয় পক্ষই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক দল। তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, সরকার গঠন করবে, যেটা এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল। এছাড়াও জনগণ প্রত্যাখ্যান করায় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  

জামায়াত নিষিদ্ধসহ ধর্মভিত্তিক সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবি দীর্ঘ বছর ধরে করে আসছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষের সবাই। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এই নিয়ে বেশ সোচ্চার হয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চের সময়ও। বামদলসহ খোদ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক বড় বড় নেতারাও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিলেন।   

৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে ধানের শীষ দেওয়ার পরেও শেষ রক্ষা হয়নি। নির্বাচনে জামায়াতের চরম ভরাডুবি হয়েছে। আসলে এই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ভোটাররা জামায়াতকে নিয়ে  বিএনপি ও ড. কামালের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে ব্যালটের মাধ্যমে। 

এবার দেশের মানুষ পাবে জামায়াতবিহীন একটি নতুন সংসদ, নতুন বাংলাদেশ। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বরণ করতে নতুন সাজে সাজছে জাতীয় সংসদ ভবন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজে এবং পরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। প্রথমে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, পরে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশবিরোধী শক্তির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে দিয়েছে জনগণ। তৃতীয়বারের মতো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ক্ষমতায় এনেছে।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের পরাজয় এবং সরকারি দলের প্রতি জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট এসেছে মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অগাধ আস্থা ও উন্নয়নের মহাযাত্রাকে বেগবান করার প্রত্যাশার কারণে। সরকারি দলের বিরাট বিজয় প্রত্যাশার চাহিদাও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই আগামী পথচলায় সরকারি দলের সামনে নতুন পর্বতসম চ্যালেঞ্জের জন্ম হয়েছে।

এছাড়াও দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন  সম্ভব এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও অনুসরণে কোন অসুবিধা নেই তা প্রমাণ করেছে এবারের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।  

নতুন বা তরুণদের ভোটে এবার মুক্তিযুদ্ধের শক্তির জয়লাভ হয়েছে। নেই স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের কোন প্রতিনিধি। তাই প্রত্যাশা এবার মুক্তিযুদ্ধের ধারায় বাংলাদেশ চলবে এবং বিকশিত হবে। বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে হবে উন্নয়নের চূড়ায়।

 

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি অনলাইন  

 

এমএস


oranjee