ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

বুদ্ধিজীবী দিবসের মহিমা ধারণ করে বুদ্ধি করেই ভোট দিন

অনুরূপ আইচ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

ছবি- সংগ্রহ

আজ মহান বুদ্ধিজীবী দিবস। জামায়াত ইসলামী, মুসলিম লীগ, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটিসহ বাংলাদেশের জন্ম বিরোধী সকল রাজাকারদের আস্কারায় ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় নিশ্চিত জেনে দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল পাক সেনারা। কারণ, এই শয়তানেরা জানতো যে- একটি দেশ স্বাধীনতা পেলেও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে পারবে না যদি সেদেশে বুদ্ধিজীবী না থাকে। তাই সুপরিকল্পিত ভাবেই পাকিস্তান ও তাদের দালালেরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন পুরণ তথা বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতেই সকল বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। বাংলাদেশকে মেধাহীন করাই ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের লক্ষ্য।  

ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও জাতির পিতা শেখ মুজিবকে বাংলাদেশ গড়তে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে সদ্য স্বাধীন দেশ গড়ার কাজে জাতির পিতাকে নানাভাবে হতবিহবল করতে মরিয়া ছিল অনেকেই। তারাই ছিলো পাকিস্তানের দালাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা না চাওয়া অন্য দেশগুলোর চর ছিল এরা। এরা বঙ্গবন্ধুর কাছের অনেককেই তখন হয়ত বিপথে চালিত করেছিল দেশবাসীর অদেখা লোভনীয় ধান্দায়। যে কারণে দেশ স্বাধীনের অল্প কয়েক বছর পরেই তথা ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের কালো অধ্যায় রচিত করতে পেরেছিল এসব সুবিধাভোগী পাকিস্তানের দালালেরা।  

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট আমরা হারালাম আমাদের জাতির পিতাকে। আর বিশ্ব হারালো মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে। এর পর থেকে অবৈধ পন্থায় দেশের ক্ষমতা দখল করে রাখাদের দলের নাম বা চেহেরায় পরিবর্তন এলেও তারা আসলে শান্তির ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে বাংলাদেশ নামের আড়লে পাকিস্তানের মর্জি মাফিক একটি দরিদ্র রাষ্ট্র বানাতে মরিয়া ছিল, যা কখনোই শেখ মুজিবের স্বপ্ন ছিল না। কিংবা এমন রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধে যাননি ৭১ সালে। অথবা দেশবাসীরও এই দুঃস্বপ্ন ছিল না। 

তবুও বাংলাদেশের জাতির পিতাকে হত্যার পরে পাকিস্তানের দোসরেরা ২১ বছর দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছিল বিশ্বের দরবারে। এ থেকে বের হয়ে আসাটাই এক সময় দুঃস্বপ্ন মনে হতো বাংলাদেশীদের কাছে।
২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্র শাসনের ভার পেলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এগুতে থাকে উন্নয়নশীল দেশের পথে। তারই কারণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আবারো ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের উপরে বর্তান। এর পর থেকে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে দ্রুতগামী উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেন শেখ হাসিনা। যার স্বীকৃতিও মিলেছে জাতিসংঘের তরফ থেকে। 

ডিসেম্বর মাস বাঙ্গালী জাতির জন্যে বিজয়ের মাস। এবার এই মাসেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ পরেছে। তাই এ বছর সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ বুদ্ধি করেই ভোট দেবে বলে বিশ্বাস আমার। কারণ, ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন আর দরিদ্র দেশের মতন মিথ্যা প্রচারণা করে কিংবা ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট আদায় করা যায় না কারো থেকে। বিশেষ করে, এ প্রজন্ম তো খুবই সচেতন। তারা দেশপ্রেমিকও বটে। কাজেই এখন ভোটের প্রচারণায় ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ টাইপ ধোঁয়া তুলে কেউ জনগণকে প্রভাবিত করতে পারবে না বলে বিশ্বাস আমার।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি অনলাইন


oranjee