ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

ঈদে মিলাদুন্নবীর শপথ হোক ধর্মের সঠিক চর্চায় মানবকল্যাণ

গ্লোবালটিভিবিডি ১:২৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

অনুরূপ আইচ : আজ (১০ নভেম্বর) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মানব জাতির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জন্মদিন। মহান আল্লাহতালা মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)কে এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন সকল মানবের কল্যাণের জন্য। তাই তো তিনি দুনিয়াবাসীর মানবকল্যাণে শান্তির ধর্ম ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।

মহানবীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ ওহী আকারে প্রেরণ করেছেন, মানুষের জীবনে কি কি করা উচিৎ বা অনুচিত। যা বিশ্ববাসীর উন্নতির সেরা নিদর্শন- পবিত্র আল কোরআন। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে কোরআন চর্চার মাধ্যমে বহু ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশ উন্নতির চূড়ায় যাওয়ার নজির বিদ্যমান। বিশ্বের অনেক মনীষী অকপটে একথা স্বীকার করেছেন।

মহানবীর জীবনাদর্শে দুনিয়ার কোনো মানুষ যদি নিজের জীবন গড়তে পারেন, তাহলে সে ব্যাক্তিও মহামানবের পর্যায়ে যেতে পারবেন।

মহানবী হচ্ছেন মহান আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু। তথা সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে আপনজন। তবুও দুনিয়াতে নবীজী কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। কখনো কারো সাথে দম্ভ বা অহংকার করেননি। উল্টো সমস্ত গরীবকে সম্মানের সহিত ভালোবাসা দিতেন আমাদের প্রিয় নবী।

অথচ আমাদের আশপাশের অনেকেই ক্ষমতার দম্ভ দেখান। টাকার গরম দেখান। গরীবকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। অন্য মানুষকে ফকির বলে অশ্রদ্ধা করেন- যা সত্যিকার অর্থে নবীর আদর্শের ঘোর বিরোধী। অর্থাৎ, ইসলাম বিরুদ্ধ আচরণ এসব। আর দুনিয়ায় ইসলামবিরোধী আচরণকারীরাই হচ্ছে শান্তিবিরোধী মানুষ।

মহানবী জীবদ্দশায় কোনো সমস্যা অনুভব করলে, সেটার সমাধানের জন্য তিনি সরাসরি আল্লাহপাকের স্মরণাপন্ন হতেন। অন্যকারো থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে যেতেন না। কারণ, আল্লাহ ছাড়া সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী আর কেউ নয়। আল্লাহই হলেন সকল সমস্যার সমাধানকারী। কাজেই দুনিয়াতে যারা ক্ষমতার দম্ভ করেন কিংবা অহংকার করেন, তারা আসলে শিরক করে বেড়ান।

মহানবী দুনিয়াতে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রচার করেছেন অনেক কষ্ট সহ্য করে। তিনি কখনো কোনো মুসলমানকে কাফের বলার শিক্ষা দেননি। কোনো মুসলিম যেন অন্য মুসলিমের বিপক্ষে অবস্থান না নেন, সেই শিক্ষাই দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। তিনি কখনো নিজ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করেননি অন্য কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। তবে মহানবী বা উনার শান্তিপ্রিয় অনুসারীদের বিপক্ষে কেউ যুদ্ধ ঘোষণা করলে তখন বাধ্য হয়েই কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতেন মহানবী। এ থেকেই আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ, যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা জঙ্গিগিরি নবীজীর মহান আদর্শবিরোধী কাজ।

তাই আল্লাহর প্রিয় পাত্র হতে চাইলে, আসুন দুনিয়ায় আমরা নবীজীর জীবনাদর্শ মেনে চলি। প্রতিদিন পবিত্র কোরাআন পড়ুন সঠিক অর্থ বুঝে। এখন প্রযুক্তির যুগে গুগলে সার্চ দিয়ে বাংলা অর্থসহ কোরআন পড়তে পারেন সহজে। যারা বাংলার চেয়ে ইংরেজিতে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাদের জন্যেও গুগলে সার্চ দিয়ে ধর্ম শিক্ষা নেয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন ছাড়াও সকল দিন নামাজ পড়ুন। মাঝরাতে ইবাদত করুন। রোজা করুন। কোরআন পড়ুন। আল্লাহর নামে জিকির করুন সবসময়। দেখবেন, দুনিয়াতে কোনো সমস্যাই আপনাকে কাবু করতে পারবে না আল্লাহর রহমতে। জীবন হবে পরম শান্তিময়।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, গ্লোবাল টেলিভিশন


oranjee