ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

২১ শে আগস্টকে ঘৃণিত দিবস ঘোষণা করা হোক

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

অনুরূপ আইচ : বাংলাদেশ স্বাধীনের পরে বর্বরতার উদাহরণ দিতে গেলে বিশেষ করে দুটি দিনের কথা কখনো ভুলবে না বাঙলি জাতি। একটি হলো- ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট। অন্যটি হলো- ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। আজ ইতিহাসের সেই বর্বরতম দিন- ২১ আগস্ট।

এই দিন নিয়ে লিখতে বসে মনে পড়ে যাচ্ছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানিদের দ্বারা বাঙালি জাতি নিপীড়িত ও নির্যাতিত হওয়ার ইতিহাস। এই নিপীড়িত জাতিকে মুক্ত করতেই দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। দেশ ও জাতিকে একত্রিত করে তিনি সুস্থ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ঐতিহাসিক নানান প্রেক্ষাপট পেরিয়ে ৭১-এর ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন। মূলত তখন থেকেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাকামী হিসেবে আসল শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন হৃদয়ে।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চকে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। কারণ, ৭১ এর এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অযাচিতভাবে মধ্যরাতে বাংলাদেশের মানুষ নিধন শুরু করে। একই রাতে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে। আটকের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু দেশের সকলকে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘোষণা দিয়ে যান লিখিতভাবে। ফলশ্রুতিতে ৭১-এর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।

নয় মাসের দীর্ঘ যুদ্ধের পরে ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে পাকিস্তানকে হটিয়ে। দেশ স্বাধীনের পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন। অল্প কয়েক বছরে জাতির পিতা যখন বাংলাদেশকে সুনিপুণভাবে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন, তা দেখে অনৈতিক সুবিধাভোগী গুপ্ত দেশবিরোধীরা মেতে উঠেন ষড়যন্ত্রে। তারাই বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেন ৭৫-এর ১৫ আগস্ট। পৃথিবীর বর্বর এই দিনকে জাতি এখনো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে।

জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার পরে এদেশ থেকে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের নাম নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাতে থাকে তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়। তবুও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন জাতির পিতার বড় কন্যা শেখ হাসিনা। পিতার আদর্শে উদ্ভুদ্ধ দেশপ্রেমিক শেখ হাসিনা সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে রাজনীতিতে মনপ্রাণ উজাড় করে দেন।

এরপর থেকে পাকিস্তানপন্থী তৎকালীন সরকারে থাকা দলগুলো শেখ হাসিনাকে হত্যায় একের পর এক চেষ্টা চালাতে থাকে। তারা শেখ হাসিনাকে মারার জন্য যতবার উদ্যোগ নিয়েছিল, দুনিয়ার ইতিহাসে আর কোনো রাজনৈতিক নেতাকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এতবার হত্যাচেষ্টার নজির নেই। তবুও পরম করুণাময় আল্লাহর কৃপায় শেখ হাসিনা রক্ষা পেয়েছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ছিল শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্য দিবালোকে জনসমাবেশে হত্যার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার দিন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো দেশের বিরোধীদলীয় নেতাকে এভাবে সুনিপুণ পরিকল্পনামাফিক মারতে চাওয়ার নজিরও বিশ্বের বুকে নেই।
সেদিনের এই হামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী মিসেস আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৩০০ লোক আহত হন।

নিকৃষ্টতম এই দিনকে বাংলাদেশে ‘ঘৃণিত দিবস’ উপলক্ষে পালন করা উচিত বলে মনে করি আমি। শুধু তাই নয়, দেশবাসী আশা করেন এমন নিকৃষ্ট ঘটনা যেন বাংলাদেশে আর কখনো না হয় তার জন্য ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

আরো প্রত্যাশা করি, বর্তমান সময়ের মতো সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে মুখর থাকুক জাতীয় সংসদ। সকল রাজনৈতিক দলের সহাবস্থান অটুট থাকুক। শান্তি সুখের সোনার বাংলা গড়ে ওঠার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সেরা দেশ হোক দ্রুত।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি।

 


oranjee